প্রিয় টেকের সাথে ইন্টেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ডেভিসের সাক্ষাৎকার

zswapan's picture

(প্রিয় টেক) জন ই. ডেভিস। বিশ্বখ্যাত ইন্টেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট, এবং ইন্টেলের ওয়ার্ল্ড অ্যাহেড প্রোগ্রামের মূল পরিচালক। এই প্রোগ্রামের আওতায় ইন্টেল পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসছে। তিনি এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। তিনি এখন কাজ করছেন কিভাবে পরবর্তী ১ বিলিয়ন মানুষকে প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা যায়। তার মাধ্যমেই বাংলাদেশে এই প্রথম প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয়ে সহজলভ্য কম্পিউটার প্রদান কর্মসূচী চালু হচ্ছে। সম্প্রতি খুব সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় আসেন জন ডেভিস। সোনার গাঁ হোটেলের লবিতে কিছুটা সময় ব্যয় করেন "প্রিয় টেক" দলের সাথে। সেই আলোচনার কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


ইন্টেলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ডেভিসের সাথে জাকারিয়া স্বপন

প্রিয় টেক: বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে প্রথমেই আপনি কি আপনার কাজের স্টেশনটি কোথায় সে সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেন?
জন ডেভিস: কাগজে কলমে আমার স্টেশন হলো ইন্টেলের হেড কোয়ার্টার ক্যালিফোর্নিয়া। আমার ভিজিটিং কার্ডে সেটাই লেখা আছে। কিন্তু এই ট্রিপের কথাই যদি ধরি, তাহলে আমি ছিলাম অস্ট্রেলিয়াতে, লন্ডনে, আলবেনিয়া, ব্যাংককে, পাকিস্তানে এবং এখন বাংলাদেশে। এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, আমি আসলে কোথায়!

প্রিয় টেক: এই নিয়ে আপনি পাঁচবার বাংলাদেশে এলেন।
জন ডেভিস: জ্বী। আমি প্রথম বাংলাদেশে আসি ১৯৯৮ সালে। তারপর ১৯৯৯ সালে। তখন আমি ইন্টেলের এশিয়া অপারেশন দেখতাম। আর তখনই আমরা বাংলাদেশে ইন্টেলের অফিস চালু করি। আমি যখন প্রথম ১৯৯৮-এ বাংলাদেশে আসি, তখন দেশে বন্যা হয়েছিল। বিমান বন্দর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। সেটা আমার এখনও মনে আছে।

প্রিয় টেক: আমরা জানি আপনি ইন্টেলের অনেকগুলো ইনিশিয়েটিভ-এর চালিকা শক্তি। সবগুলোতে না গিয়ে আমরা জানতে চাই, ইন্টেল মোবাইল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
জন ডেভিস: আমার মূল দায়িত্ব হলো পরবর্তী ১ বিলিয়ন মানুষকে যুক্ত করা। আর সেটা প্রযুক্তি দিয়েই সম্ভব। যে সকল মানুষের কাছে এখনও প্রযুক্তি পৌঁছেনি, তাদের কাছে প্রযুক্তিকে পৌঁছে দেয়া। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা ল্যাপটপ এবং ট্যাবলেট মার্কেটে কাজ করছি; এবং খুব কম দামে এগুলো সাধারণ মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে আমাদের ট্যাবগুলো সবে মাত্র আসতে শুরু করেছে। যেমন আমরা তুরস্কে এই ট্যাবলেটগুলো ছেড়েছি। ওখানকার স্কুলে এগুলো যেতে শুরু করেছে। তবে আমাদের স্কুলের জন্য ল্যাপটপগুলো বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।

প্রিয় টেক: ক্লাসমেট পিসি প্রোগ্রামটি কেমন যাচ্ছে?
জন ডেভিস: আমরা তো ইতোমধ্যেই ১০ মিলিয়নের উপর চলে গিয়েছি। এর বড় একটি অংশ গিয়েছে ল্যাটিন আমেরিকাতে। ওখানকার অর্থনীতি বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ওখানকার স্কুলগুলোতে আমাদের এই পিসিগুলোতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেমন আর্জেন্টিনা, ভিনেজুয়েলা, পানামা ইত্যাদি দেশগুলোতে খুব ভালো করছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোও একটু দেরীতে হলেও এগিয়ে আসতে শুরু করেছে। ওইসব দেশে আগে আমরা শিক্ষকদেরকে ট্রেনিং দিচ্ছি। এবং ধীরে ধীরে ক্লাসরুমে পিসি যেতে শুরু করেছে।


ইন্টেল ওয়ার্ল্ড অ্যাহেড প্রোগ্রাম কিভাবে ইকোসিস্টেম তৈরি করছে তা ব্যাখ্যা করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ডেভিস

প্রিয় টেক: আপনার কি মনে হয় বাংলাদেশের স্কুলগুলোতেও ওই সস্তা পিসিগুলো যেতে শুরু করবে?
জন ডেভিস: অবশ্যই। ওই পিসিগুলো ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের স্কুলগুলোতেও যেতে শুরু করেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে এই পিসিগুলোকে একটু ভিন্নভাবে ডিজাইন করেছিলাম। এগুলো একটু রাগেডাইজ করে তৈরি করা হয়েছিল যেন এগুলোর উপর পানি পড়লেও নষ্ট না হয়ে যায়। বাংলাদেশে এগুলোতে বর্তমানে ২২,৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক বছর আগে এটি খুব ভালো একটি দাম ছিল বলে আমরা মনে করি। তবে পরবর্তীতে অ্যাটম ভিত্তিক নেটবুক চলে আসায় বাংলাদেশে নেটবুক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এবং দামের দিক থেকেও সেগুলো অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

প্রিয় টেক: স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কেন এই পিসিগুলো কিনবে?
জন ডেভিস: এগুলো যে শুধুমাত্র পিসি তা কিন্তু নয়। এর ভেতর বেশ বড় একটি ভ্যালু চেইন রয়েছে। আর সে কারণেই উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটা জনপ্রিয় হচ্ছে। আমরা যে ভ্যালুটা যোগ করছি তাহলো শিক্ষকদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা। তা না হলে, এই পিসিগুলো কেবলমাত্র কিছু যন্ত্রপাতি ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা যদি এই যন্ত্রগুলোকে তাদের শিক্ষার কাজে ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে এর কোনও মূল্য তাদের কাছে নেই। ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে শিক্ষকদেরকে ট্রেনিং দেয়ার পর তারা এর কার্যকারিতা বুঝতে পেরেছে। এবং যে সকল এলাকায় স্কুলগুলো এটা অ্যাফোর্ড করতে পারছে, তারা কিনে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

প্রিয় টেক: ল্যাটিন আমেরিকার ওই অভিজ্ঞতা কি আমরা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে পারি?
জন ডেভিস: অবশ্যই। বাংলাদেশেও আমরা শিক্ষকদেরকে ট্রেনিং দেয়ার প্রোগ্রাম চালু করেছি। এবং আমি মনে করি, সেটা কার্যকরী হতে শুরু করেছে। আমাদের এই প্রোগ্রামগুলোর সফলতা নিয়ে প্রাইভেট স্কুলগুলো তো এখুনি অনেক ক্লাসে ক্লাসমেট পিসি দিতে পারে। তবে পাবলিক স্কুলগুলোতে হয়তো একটু সময় নেবে। কারণ তাদের ফান্ডের জন্য অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়। যেমন ল্যাটিন আমেরিকার অনেকগুলো দেশ এই সমস্যাটিকে তাদের "ইউনিভার্সেল ফান্ড" থেকে সমাধান করেছে। টেলিফোনের ট্যাক্স থেকে যে ইউনিভার্সেল ফান্ড তৈরি করা হয়, তা দিয়ে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ করা হয়। বিশ্বের অনেক দেশ এই ইউনিভার্সেল ফান্ড দিয়ে তাদের স্কুলগুলোকে সংযুক্ত করছে। তারা পিসি দিচ্ছে, ইন্টারনেট ইনফ্রাষ্ট্রাকচার তৈরি করছে, এবং স্কুলগুলোকে যুক্ত করছে। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের উন্নয়ন খুব ভালো। এখানেও একই রকম চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।

প্রিয় টেক: ইন্টেল ওয়ার্ল্ড অ্যাহেড প্রোগ্রামটিতে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তথ্য প্রযুক্তির এই বিকাশও হতে হবে সেলফ সাসটেইনেবল। আপনার কি মনে হয়, দরিদ্র দেশগুলোতে এটা সেলফ সাসটেইনেবল হতে পারে?
জন ডেভিস: আমি মনে করি এটা সম্ভব। আমি এখানে বলছি না যে, এগুলো শিখে কোনও একটি গোষ্ঠী বা দেশ তক্ষুনি তথ্য প্রযুক্তিতে অংশ গ্রহণ শুরু করবে। কিন্তু এটা তো ঠিক, যে সকল দেশে বা অর্থনীতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে সেই সকল দেশের জিডিপি অন্যান্য দেশ থেকে বেশি। মোবাইল ফোনের ব্যবহার সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটাও সঠিক, যে সকল দেশে লেখাপড়ার হার বেশি, সেই সকল দেশে জিডিপি'র হার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে থেকে অনেক বেশি। যদি এর মাধ্যমে ২ শতাংশ জিডিপি বাড়ানো যায়, তাহলে সেটা অনেক টাকা। আমি মনে করি, শিক্ষা যে কোনও দেশের জন্য সবচে ভালো বিনিয়োগ। এখন বিনিয়োগ করলে ২০ বছর পর সেই জাতিটা ভিন্নরকমের একটি জাতি হবে। শিক্ষা হলো সবচে বেশি দীর্ঘ মেয়াদী ভালো বিনিয়োগ। এর বিকল্প নেই।


ইন্টেলের ট্যাবলেট দেখাচ্ছেন জন ডেভিস

প্রিয় টেক:এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে আপনি আরো ১ বিলিয়ন নতুন মানুষকে প্রযুক্তির ভেতর আনতে চাইছেন। এর সবচে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কি কি?
জন ডেভিস: বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সবচে বড় বাঁধা হলো শিক্ষা। এই যন্ত্রটি বানানো, কিংবা এর ভেতরে সফটওয়্যার, কিংবা ই-লার্নিং ম্যাটেরিয়াল - এগুলো বানানো খুব সহজ। কিন্তু মূল শিক্ষাটি পৌঁছে দেয়া খুবই কঠিন। দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো অ্যাফোর্ডিবিলিটি। এই ধরনের তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ হয়ে থাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউনিভার্সেল ফান্ড থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যথেষ্ট বাজেট থাকে না এক্ষেত্রে। তাই আমরা যে হারে স্কুলগুলোতে যেতে চাই সেটা হয়ে ওঠে না।
তবে গত কয়েক বছরে বেশ বড় একটি বিষয়ের পরিবর্তন হয়েছে। সেটা হলো মোবাইল ফোনের পেনিট্রেশন। কোটি কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। এবং তারা প্রি-পেইড ফোনেই বেশি আগ্রহী। এই একই মডেল যদি ল্যাপটপের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যায়, তাহলে এর পেনিট্রেশন বাড়তে পারে। কেনিয়াতে ওরা যেমনটি করেছে। আগেই একটি ল্যাপটপ স্কুলের বাচ্চাকে দিয়ে দেয়া হলো। তারপর ধীরে ধীরে মাসে মাসে সেটার জন্য চার্জ করা হচ্ছে। এভাবে অ্যাফোর্ডিবিলিটি বাড়ানো যেতে পারে।

প্রিয় টেক: আপনি কি মনে করেন, ট্যাবলেট কিংবা ল্যাপটপই হলো এখন পর্যন্ত শিক্ষার সবচে ভালো ডিভাইস?
জন ডেভিস: এই দুটো ডিভাইস নিঃসন্দেহে মূল ডিভাইস। তার কারণ হলো, অনলাইন এবং অফলাইন শিক্ষা প্রযুক্তি। আমাদের পোর্টাল থেকে একজন শিক্ষক কিংবা ছাত্র অসংখ্য ভিডিও ডাউনলোড করে নিয়ে তারপর সেগুলো বাড়িতে বসে দেখতে পারে। যেমন ধরুন, জ্যামিতির উপর আমাদের অসংখ্য ভিডিও রয়েছে। কিন্তু স্মার্টফোনে এটা এখনও সম্ভব নয়। ওখানে এই পরিমাণ হার্ডডিস্ক নেই। তাই অফলাইন শিক্ষা ওখানে সম্ভব নয়। সেজন্য আমি মনে করি, ল্যাপটপগুলো এখনও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং শিক্ষার মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

প্রিয় টেক: এই নতুন ১ বিলিয়ন দরিদ্র মানুষকে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আনার জন্য যে ইকোসিস্টেম প্রয়োজন সেটা কিভাবে তৈরি হবে বলে মনে করছেন?
জন ডেভিস: আমরা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় কোম্পানিগুলোর সহায়তায় একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা করছি। যেমন ধরুন, বর্তমান সময়ের ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় চাহিদা হলো ইংরেজি শেখা। এমনকি বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরাও ইংরেজি শিখতে চায়। তারপর অংক এবং বিজ্ঞান শেখা। চিঠি লেখা, ড্রাফট করা, রিজুমী লেখা, এমনকি বিজনেস প্ল্যান তৈরি করা। এগুলো আমরা সব দিচ্ছি বিনে পয়সায়। এগুলো আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিল সহ অন্যান্য পার্টনারদের থেকে নিয়েছি। এবং আমাদের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনে পয়সায় দিয়ে দিচ্ছি।

প্রিয় টেক: বাংলাদেশে কাজ করতে এসে সবচে বড় কোন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন?
জন ডেভিস: স্কেল। যখন ২০ জন ইঞ্জিনিয়ার একটি প্রজেক্ট কাজ করছে সেটা ভালো করেই চলছে। কিন্তু যক্ষুনি এটাকে স্কেল করার চেষ্টা করা হয়, তক্ষুনি আর সেটা একইভাবে কাজ করে না। এখানে তত মানুষ নেই। যখনই আপনি এটাকে হাজারে কিংবা লাখে নিয়ে যেতে চাইবেন, তক্ষুনি এটা কাজ করবে না। সেই পরিমাণ লোকবল এদেশে নেই। যেমন আমরা বাংলাদেশে কিছু সোশ্যাল বিজনেস চালু করেছি। বিশেষ করে চাষিদেরকে সাহায্য করার জন্য। সেখানেও একই সমস্যা। আমরা হাজার হাজার চাইছি না, কিন্তু ভালো পরিমাণে কিছু মানুষ চাইছি। সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রেনিং দিয়ে ধীরে ধীরে হয়তো এই জনবল বাড়ানো যাবে।

আরেকটি সমস্যা হলো, এই তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে বড় একটি সম্ভাবনা রয়েছে সেটা অনুধাবন করা। এবং সেটা অনুধাবন করে সেই লক্ষ্যে নিজেকে তৈরি করা। নিজের দক্ষতা বাড়ানো। এখানে একটি বড় ফারাক রয়েছে বলে আমার মনে হয়। মানুষ ঠিক বুঝতে পারছে না যে এখানে কী বিশাল সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

আরো ব্রডব্যান্ড তো এখনও একটি বড় বাঁধা বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ডে এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

প্রিয় টেক: আপনার সাজেশনগুলো কি?
জন ডেভিস: প্রথমেই যে বিষয়টি প্রয়োজন তাহলো ট্রেনিং। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অসংখ্য মানুষকে ট্রেনিং দিয়ে এই ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াতে পারে। তারপর তাদের শেখা উচিৎ কিভাবে ছোট একটি ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। বিজনেস সেন্স তৈরি করার খুবই জরুরী। এবং সেই বিজনেস সেন্সটা স্থানীয় কোনও সমস্যার উপর প্রয়োগ করতে শিখতে হবে। এটা শুধু বাংলাদেশ বলে কথা নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদেরকে সেই স্থানীয় সম্ভাবনাকে বুঝতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাবনাটুকু বুঝতে পারলেও সেটার জন্য সঠিক এক্সিকিউশন হয়ে ওঠে না। সেটাও অনেক কঠিন একটি কাজ।

প্রিয় টেক: এই কঠিন কাজটি কাকে করতে হবে? সরকার, নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোক্তাদেরকে?
জন ডেভিস: উভয়কেই এই কাজটি করতে হবে। সরকার, ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, ব্যবসায়ী - সবাইকেই এটাতে ধাক্কা দিতে হবে। তাহলেই এটা একটি সুবিধাজনক জায়গায় যেতে পারে।


"প্রিয় টেক ২০১১: তথ্য প্রযুক্তি বর্ষপত্র" হাতে জন ডেভিস এবং বাংলাদেশে ইন্টেলের কর্মকতাবৃন্দ

প্রিয় টেক: বাংলাদেশে "ইন্টেল ওয়ার্ল্ড অ্যাহেড" প্রোগ্রামের সফলতা কেমন?
জন ডেভিস: আমরা ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ইন্টেল ওয়ার্ল্ড অ্যাহেড প্রোগ্রাম চালু করি। এবং আমার তো মনে হয় এটা বেশ ভালোভাবেই এগুচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আমরা আরো দ্রুত যেতে চাই। তবে সেগুলোকে আমি হতাশা হিসেবে দেখে মূল প্রোগ্রামকে খাটো করতে চাই না। যেসকল ক্ষেত্রে আমরা আরো দ্রুত যেতে চাই তার একটি হলো স্কুলের শিক্ষকদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রোগ্রাম। আমরা ক্লাসরুমগুলোতে যাচ্ছি। শিক্ষকদেরকে ট্রেনিং দিচ্ছি। কিন্তু আমরা তো চাই আগামী ৩/৪ বছরের ভেতর সকল শিক্ষকদের হাতে ল্যাপটপ চলে যাক। কিন্তু সেটা কি বাস্তবসম্মতভাবে হবে? হয়তো হবে না। এটাকে কিভাবে আরো দ্রুতগতির করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবছি।

এবারে যদি আসি ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে, তাহলে বলতে হয় - এটাও এগুচ্ছে। ওয়াইম্যাক্স এবং মোবাইল কোম্পানিগুলোর বদৌলতে ব্রডব্যান্ড সামনের দিকে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, বেশ ভালোই অগ্রগতি হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে শতকরা ৪ ভাগ মানুষের কাছে পিসি'র অ্যাক্সেস রয়েছে। আমরা সবসময়ই চাইবো এটা আরো বাড়ুক, যেখানে অর্ধেকের বেশি মানুষের কাছে মোবাইল ফোন রয়েছে। এই দেশ আরো দ্রুত যেতে চায়, আরো দ্রুত ভালো করার ক্ষমতা রাখে। সেটাকেই কাজে লাগাতে হবে।

প্রিয় টেক: এই প্রোগ্রামকে সফল করার জন্য ইন্টেল কি বাংলাদেশে সরাসরি কোনও বিনিয়োগ করেছে?
জন ডেভিস: আমরা এখনও সরাসরি সেভাবে বিনিয়োগ করিনি। তবে আমরা অনেক রিসোর্স এনে দিয়েছি। যেমন আমাদের ছোট একটি দল রয়েছে যারা স্থানীয় কার্যক্রমকে পরিচালনা করে থাকে। আমরা যে সফটওয়্যার এবং কোর্স ম্যাটেরিয়ালগুলো দিয়ে থাকি, সেগুলোর মূল্যমান কয়েক মিলিয়ন ডলার। আমরা সরাসরি স্কুলের শিক্ষকদেরকে ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এর বাইরে আমরা এখনও সরাসরি কোনও বিনিয়োগ করিনি। তবে সোশ্যাল বিজনেসে আমরা কয়েক মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি।

প্রিয় টেক: এর পর আপনি আবার বাংলাদেশে আসবেন কবে?
জন ডেভিস: আমাকে ডাকলেই আমি বাংলাদেশে আসবো। আমার কাজ তো পরবর্তী ১ বিলিয়ন মানুষকে প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করা। সারা পৃথিবী আমি ঘুরে বেড়াচ্ছি। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এদেরকে প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে পারলে উন্নয়নের হার অনেক বেড়ে যাবে।

প্রিয় টেক: আজ রাতেই আপনার ফ্লাইট। এই তাড়াহুড়োর ভেতর আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
জন ডেভিস: জ্বী, আজ রাতেই আমি চলে যাচ্ছি। এই সুযোগটুকু হয়ে যাওয়ায় আমিও অনেক খুশি। আশা করছি বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের মাধ্যমে ইন্টেলের কার্যক্রম সম্পর্কে আরো অবহিত হবে। আপনাদের জন্য শুভকামনা থাকলো।