‘কথা বলতে পারলেই হয়। এর সঙ্গে আবার ছবি দেখার কি দরকার?’ - সাহারা খাতুন

(প্রিয় টেক) তিনি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। অথচ তিনিই কিনা তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি জি) সেবার প্রতি আগ্রহী নন। টেলিটকের থ্রি জি সেবার যে পারফম্যান্স তাতে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারছেন না অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। নিজেই বলছেন, তার তো থ্রি জি সিমের খুব দরকার নেই। ‘কি করব এই সিম দিয়ে? কথা বলতে পারলেই হয়। এর সঙ্গে আবার ছবি দেখার কি দরকার।’ বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে টেলিটকের সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে এক পর্যায়ে এই প্রতিবেদকে এমন কথা বলেন তিনি।
সেই শুরু থেকেই অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন রাষ্ট্রায়াত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটকের নম্বর ব্যবহার করছেন। কখনো তার নম্বর পরিবর্তনও হয়নি। আর এখন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হওয়া টেলিটকের সিম ব্যবহার করা তার জন্যে অবধারিত হয়ে গেছে।

সাহারা খাতুন জানান, ১৪ অক্টোবর উদ্বোধনের দিনেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে থ্রি জি সিম দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবহার করছেন কিনা সেটি এখনো জানা হয়নি তার। তবে তার নিজের এই সিমের বিশেষ দরকার নেই বলেও জানান।
টেলিযোগাযো মন্ত্রী নিজে থ্রি জি সিম ব্যবহার করলে সেটি কী ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বিজ্ঞাপন হতো না-এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, মন্ত্রীদের চেয়ে পাবলিক ব্যবহার করলেই আরো বেশী বিজ্ঞাপন হতে পারে। এই একই কারণে মন্ত্রী পরিষদের অন্য সদস্যদের আগ বাড়িয়ে থ্রি জি সিম দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই বলেও জানান।
সাহারা খাতুন বলেন, টেলিটকের সাম্প্রতিক সমস্যার কথা তিনি জেনেছেন। সঙ্গেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ১০ হাজার কেনো, একটি গ্রাহকও যাতে ভোগান্তিতে না পড়ে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে গত সোমবার টেলিটকের থ্রি জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারনের কাজ করতে গিয়ে টু জি’র অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ঈদের আগেই এসব গ্রাহককে নতুন সিম দেওয়া হবে বলা হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়া এসব গ্রাহকরা সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ দেখতে পাননি।
সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে কয়েকটি কাস্টমার কেয়ারের নম্বর দেওয়া হলেও সেখানকার ফোন কেউ ধরেন না বলে জানিয়ছেন আগারগাঁওয়ের গ্রাহক আবু কাওসার। ফলে ঈদকে সামনে রেখে তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করছেন।
তবে অন্য তিন দিনের মতো, এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান মোবাইল ফোন ধরননি।








