বিটিআরসিতে সুনীল কান্তি বোসের পাঁচ চ্যালেঞ্জ; প্রিয়টেককে দেয়া বিশেষ সাক্ষ্যাৎকার

(প্রিয় টেক) পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দায়িত্ব নিয়েছেন বলে প্রিয়টেককে জানিয়েছেন সুনীল কান্তি বোস। আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর আগামী তিন বছরের জন্যে নতুন এই চ্যালেঞ্জ নেন তিনি।
তার বিবেচনায় ঠিকঠাক মতো ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল সার্ভিস প্রোভাইডারের (ভিএসপি) দেয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর জন্যে তৃতীয় প্রজেন্মর (থ্রি জি) সেবার সুযোগ দেওয়া; ভিওআইপি’র অবৈধ বদনাম থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করা; ইতিমধ্যে দেওয়া ৮৫টি গেটওয়ে লাইসেন্স নিয়ে বিদ্যমান সমস্যা দূরিকরণ এবং স্যাটেলাইট প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া।

দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রিয়টেককে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সুনীল কান্তি বোস বলেন, ছোটখাটো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে ওই পাঁচটিকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই পাঁচটিকেই তার সামনে আপাতত বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তিনি। বিটিআরসি’র নতুন এই চেয়ারম্যান বলেন, থ্রি জি সুবিধা এখন কেবল টেলিটক ব্যবহার করতে পারছে। প্রাইভেট সেক্টরকে ওই সুবিধা এখনও দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরো বলেন, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে সচিব থাকা অবস্থায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ অনেকদুর এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী বছরের প্রথম দিকে থ্রিজি লাইসেন্স প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়া যাবে। তবে নির্দিষ্ট দিনক্ষন বলা যাবে না।
এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন যে ৮৫টি গেটওয়ে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকেই সঠিকভাবে কাজ করছে না। আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজডব্লিউ), আন্তসংযোগ এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) এবং ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এসব লাইসেন্স দিয়েই হাত-পা গুটিয়ে বসে রয়েছে। এ নিয়ে কোনো ধরনের মনিটরিং করা হয়নি। ওই লাইসেন্স নিয়ে প্রতিযোগিতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে মনিটরিং করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটাও আমার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ভিওআইপি নিয়ে দেশে বড় ধরনের বদনাম রয়েছে। এই বদনাম ঘোচাতে তিনি তার সব জ্ঞান-অভিজ্ঞতা উজাড় করে দেবেন বলেও জানান। তিনি বলেন, সঠিক সিস্টেমের কারনে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাই ভিওআইপি নিয়ে বদনাম ঘোচাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ শিগশিগরই নেওয়া হবে।
তবে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে তিনি যে কয়েকটি কোম্পানির বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন তার মধ্যে অন্তত দুটি কোম্পানির সবচেয়ে বেশী ভিওআইপিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তখন না পারলে এখন কিভাবে পারবেন সেই প্রশ্নের অবশ্য কোনো উত্তর দেননি তিনি।
এছাড়া স্যাটেলাইট প্রজেক্ট নিয়ে এরই মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা নিয়ে নতুন করে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি দেশ স্যাটেলাইটের রুট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। যদিও আমাদের আরও বেশ কয়েকটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, নভেম্বরে এ নিয়ে একটি টিম জাতিসংঘের জেনেভায় যাচ্ছে। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে।













