সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে ইন্টারনেটের উপর নজর রাখার দাবী জানালো জাতিসংঘ

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) ইন্টারনেট তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা চালু করার দাবী করলো জাতিসংঘ। তথ্য সংরক্ষণের জন্য সর্বসম্মত আন্তর্জাতিক কোন অবকাঠামো না থাকার কারণে বিমানবন্দর, রেস্তোরা এবং পাঠাগারগুলোতে থাকা উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক গুলো নিরাপত্তা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে বলে এই দাবী করেছে ইউএনওডিসি।

১৪৮ পৃষ্ঠার "দি ইউজ অব দি ইন্টারনেট ফর টেরোরিস্ট পারপোজ" (সন্ত্রাসবাদের জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার) নামক এই প্রতিবেদনে সন্ত্রাসীরা সামাজিক মাধ্যম এবং ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং ড্রপবক্সের মত শেয়ারের সাইটগুলো "প্রোপাগান্ডা" ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করছে।

জাতিসংঘের মাদকদ্রব্য এবং অপরাধ (ইউএনওডিসি) বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ইউরি ফেদোতোভ বলেন, "সম্ভাব্য সন্ত্রাসীরা ইন্টারনেটের মত উন্নত মানের যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প খরচে এবং তুলনামূলক ভাবে পরিচয় গোপন রেখে বিশ্বের যে কোন প্রান্তের জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারে।"

ভিয়েনায় ইউএনওডিসি আয়োজিত সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের শেষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে আইএসপিগুলোর কাছে থাকা তথ্য সংগ্রহের জন্য গ্রহণযোগ্য কোন আন্তর্জাতিক অবকাঠামো না থাকাকে দায়ী করা হয়েছে। ইউরোপ ছাড়া আমেরিকা অথবা অন্যান্য দেশগুলোতে তথ্য সংরক্ষণকে বাধ্যতামূলক করার জন্য কোন আইন প্রণয়ন করা হয় নি বলে উল্লেখ করা হয়।

ইউএনওডিসি'র এই দাবী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দাবীর সাথে মিলে যায়। ভবিষ্যতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজে লাগতে পারে বিধায় আইএসপিগুলো যেন তাদের গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ করে সেই নীতি চালু করার জন্য কংগ্রেসের কাছে তদবির করছে।

জাতিসংঘ তার প্রতিবেদনে এ উদ্যোগ নির্দিষ্ট কিছু ওয়েব সাইটের জন্য নেয়া উচিত বলে উল্লেখ করেছে। তাৎক্ষণিক বার্তা (ইনস্ট্যান্ট মেসেজ) এবং স্কাইপ এর মত ভয়েপ সেবাগুলোর উপর নজর রাখা এবং চ্যাটরুম গুলোতে কি ধরণের যোগাযোগ ঘটছে তা লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারটা বিশেষ গুরুত্ব পায় ইউএনওডিসি'র প্রতিবেদনে। কিন্তু নীতিটি কঠোরতার দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকেও ছাড়িতে গিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র ব্রডব্যান্ড এবং ওয়্যারলেস সেবা প্রদানকারী সংস্থার উপরই নজর রাখার দাবী করেছে, কোন নির্দিষ্ট সেবার উপর নয়।

অন্যান্য যে সকল বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে-

উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক:
"ফৌজদারি তদন্তের ক্ষেত্রে সুবিধার জন্য উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক অথবা সাইবার ক্যাফে ব্যবহারকারীদেরকে নিবন্ধীকরণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। তবে সাইবার ক্যাফের ক্ষেত্রে এই নীতি চালু করার পর বিমান বন্দর, পাঠাগার এবং পাবলিক ওয়াই-ফাই হটস্পটগুলোকে এই নীতির আওতায় না আনা হলে ব্যাপারটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।"

মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং:
"স্থান সংক্রান্ত তথ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে ক্রাইম সিন এবং অ্যালিবাই পরীক্ষা এবং সন্দেহভাজন তালিকা থেকে বাদ দেবার সময় প্রযুক্তিটি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।"

টেরর ভিডিও গেম:
সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ভিডিও দৃশ্য বা সন্ত্রাসবাদী সংগঠন কর্তৃক নির্মিত ত্রাস সৃষ্টিকারী ভিডিও গেম যা অন্যকে এই ধরণের কাজে উদ্বুদ্ধ করে।

নজর রাখার জন্য অর্থ প্রদান:
"আর তাই সরকারের উচিত হবে এই ধরণের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য যে অর্থ এবং আইনি সহায়তার প্রয়োজন হবে তার ব্যবস্থা নেয়া।"