রেকর্ড পরিমাণ সিম বিক্রয় হয়েছে সেপ্টেম্বরে

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে সাড়ে তিন গুন বেশী গ্রাহক বাড়িয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। শেষ হওয়া মাসে তারা ২৯ লাখ ৩৮ হাজার নতুন গ্রাহক নিয়েছে। অতীতের যে কোনো মাসের তুলনায় এটি রেকর্ড। এর আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে একবার ২০ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছিল। এতদিন ওটাই ছিল সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক সময়ে সিম বিক্রির হার যখন ক্রমান্বয়ে কমছে তখন হঠাৎ করে এতো বেশী সংখ্যায় সিম বিক্রি সংশ্লিষ্টদের অবাক করেছে।

বৃহস্পতিবার সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যার হিসেব প্রকাশ করেছে বিটিআরসি। প্রকাশিত হিসেবে, সেপ্টেম্বরে দেশে কার্যকর মোবাইল সিমের সংখ্যা ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৬৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আর আগস্টে ছিল ৯ কোটি ৫৫ লাখ ২৮ হাজার। বিটিআরসি'র ওই হিসেবে, সেপ্টেম্বরে টেলিটকের কোনো গ্রাহক বাড়েনি। আগেও তারা ১৩ লাখ ৬৭ হাজারে ছিল এখনো সেখানে। সিটিসেলের গ্রাহক এই মাসে কমেছে। ১৬ লাখ ৮৩ হাজার থেকে তাদের আরো চার হাজার গ্রাহক কমে গেছে।

এদিকে বাকি চারটি অপারেটরের গ্রাহক এতোটা বেড়েছে যে তাতে সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। এই মাসে সবচেয়ে বেশী গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে গ্রাহক সেরা অপারেটর গ্রামীণফোনের। সেপ্টেম্বরে তারা ১১ লক্ষ ৫১ হাজার গ্রাহক বাড়িয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ৪ কোটি ৯ লাখ ৫৪ হাজার। বাংলালিংক একই সময়ে ১০ লাখ ৩২ হাজার গ্রাহক বাড়িয়ে ২ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজারে এসেছে। আর তৃতীয় গ্রাহক সেরা অপারেটর রবি বাড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৭ হাজার গ্রাহক। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখ ১ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। সেখানে এয়ারটেল বাড়িয়েছে এক লাখ তিন হাজার গ্রাহক। তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৬৮ লাখ ৮৭ হাজার।

গত কয়েক মাসে গ্রাহক বৃদ্ধির হার যখন ধীরে ধীরে কমছিল তখন হঠাৎ এই গ্রাহক বৃদ্ধির হার টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদেরকেও অবাক করেছে। সেপ্টেম্বরে এতো বেশী গ্রাহক বাড়লেও আগস্ট মাসে ছয় অপারেটর মিলে গ্রাহক বাড়াতে পেরেছিল মাত্র ৮ লাখ ১৪ হাজার। সেই তুলনায় সেপ্টেম্বরে এসে সাড়ে তিনগুণ গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে গ্রাহক বৃদ্ধি পায় ৯ লাখ ২৬ হাজার। তার আগে অবশ্য গ্রাহক বৃদ্ধির অংকগুলো দশ লাখের ঘর পেরিয়ে যেত।
গ্রাহক বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিটিআরসি'র এক কর্মকর্তা বলেন, ১২ অক্টোবরের পর থেকে যেহেতু প্রি-অ্যাক্টিভেশন (সংযোগ চালু করলেই কথা বলার সুযোগ) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সে কারণে জটিলতা এড়াতে আগে থেকেই গ্রাহক বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।

বিটিআরসি'র ওই কর্মকর্তার সঙ্গে একমত হয়েছেন গ্রামীণফোনের অপর এক কর্মকর্তাও। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। আর মোবাইল ফোন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময়ে গ্রাহক বৃদ্ধির জন্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারা। তার ফলও পেয়েছেন হাতে নাতে।

এক মাসে এতো বেশী সংখ্যক গ্রাহক বৃদ্ধি পাওয়ায় দশ কোটি মাইলফলকের খুব কাছাকাছি বলে এসেছে দেশের মোট কার্যকর মোবাইল সিমের সংখ্যা। তবে মোবাইল ফোন অপারেটরের প্রতিনিধিরাই বলেছেন, কার্যকর সিমের সংখ্যা দশ কোটি হলেও গ্রাহক সংখ্যা ছয় থেকে সাত কোটির বেশী নাও হতে পারে।