বহু প্রতিভার অধিকারী ফ্রিল্যান্সার সিএক্স রানা

Mizanur Rahman Sohel's picture

(প্রিয় টেক) আনোয়ার হোসেন রানা। অনলাইনে Cx Rana নামেই বেশি পরিচিত। জন্মগ্রহণ করেছেন ফেনী এবং বর্তমানে তিনি ফেনীতেই থাকেন। তিনি ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি লেখালেখি করেন, একটি ক্যাম্পাস ভিত্তিক পত্রিকা চালান, পার্বত্য এলাকা, রাজশাহী এবং ঢাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্সি ও চুক্তি ভিত্তিক কাজ করেন, উত্তরাতে সপ্তাহে একদিন আইটি কোর্স পরিচালনা করেন। বহু প্রতিভার অধিকারী রানা টাইম ম্যানেজমেন্ট এর ব্যাপারে খুব সচেতন। ২০০৯-১০ সাল থেকে ওয়েব ডিজাইন এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে প্রচুর আর্টিকেল লিখেন। লেখালেখিতে ভালো হাত থাকার কারণে তিনি প্রযুক্তি নিয়ে ইংরেজিতে কয়েকটি প্রতিবেদন লিখে ২০১১ সালে "ডিগ" কৃতক আয়োজিত ওয়ার্ল্ড টেকনোলজি লিডার তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বর্তমানে রানা e107.org (ওপেন সোর্স সিএমএস) এর বাংলা ভার্সনে রূপান্তর এর অফিসিয়াল দায়িত্বে আছেন। এতো কিছুর মধ্যেও বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করছেন। তিনি ওয়ার্ডপ্রেস থীমস এবং প্লাগ-ইন ডেভেলপ এর কাজ তুলনামূলক বেশি করেন। আর সময় পেলেই ফ্রিল্যান্সিং এর নানা জটিল সমস্যা এবং সমাধান নিয়ে লেখালিখি করেন বিভিন্ন ব্লগ সাইটে। আনোয়ার হোসেন রানা সম্পর্কে আরো জানতে তার ফেসবুক, টুইটার অথবা নিজের সাইট সিএক্স রানাতে যোগদান করতে পারেন।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন? এবং এ সম্পর্কে প্রথম ধারণা পেলেন কিভাবে?
আনোয়ার হোসেন রানা: প্রথমত আমার পরিচিত অনেকেই এই পেশায় অনেক আগে থেকেই জড়িত। তাদের সাথে কথাবার্তা এবং আইডিয়া আদান প্রদানের মাধ্যমেই ফ্রিল্যান্সিং এর যাত্রা শুরু। আর আমি প্রচুর ব্লগ পড়ি, সেখান থেকেও অনেকটা উদ্বুদ্ধ হই। গত দুই বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করছি।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার জন্য সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছিলেন কোথা থেকে?
আনোয়ার হোসেন রানা: আমার বন্ধু তানভীর (প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির) সবসময় আমাকে এই ব্যাপারে অনুপ্রেরণা দিত। তাছাড়া আমার সহপাঠী বাপ্পী এবং জুয়েল থেকেও সহযোগিতা পেয়েছি। তার চেয়ে বড় কথা তেজগাঁও কলেজের অমিত মজুমদার ভাই আমাকে বলেছিলেন তোমার কাজ ভালোই, ফ্রিল্যান্সিং এ প্রফেশনাল হও। এভাবেই ফ্রিল্যান্সিং এ আমার পথ চলা।

প্রিয় টেক: কবে থেকে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছিলেন? সাধারণত কি কাজ করেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: আমি ২০১১ থেকে শুরু করেছিলাম ওয়েব ডিজাইনের মধ্য দিয়ে। মাঝখানে কিছু দিন কাজ বাদ দিয়ে নিজের সমস্যাগুলো ঝালাই করেছি এবং যে সব বিষয়/কোডিং এর সাথে পরিচিত ছিলাম না তা বাসায় বসে প্রাকটিস করেছি। বর্তমানে লিড ওয়েব ডিজাইনার হিসেবে হলিউডের (ডাইনামিক বিজনেস সলিউশন কোম্পানি)তে কর্মরত আছি। আমি বান্দরবনের একটি রিসোর্ট কোম্পানির ওয়েব মার্কেটিং এর কনসালটেন্ট হিসেবে আছি। এক কথায় আমি ওয়েব ডিজাইন এবং প্রজেক্ট কনসালটিং করছি।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং এ আপনার প্রিয় সাইট কোনগুলো?
আনোয়ার হোসেন রানা: এক কথায় ওডেস্ক।

প্রিয় টেক: অন্য সাইটগুলো থেকে আপনার সব থেকে প্রিয় সাইট ওডেস্ক এর তফাৎ কি?
আনোয়ার হোসেন রানা: ওডেস্ক সবসময় ইউজারদের কথা মাথায় রেখে সাইটের লুক, কোয়ালিটি, ফিচার সংযুক্ত করে। মোটামুটি সব ধরনের ইন্টারনেট কানেকশন থেকেই ব্রাউজ করতে পারি। কোন লোডিং সমস্যা পাই না। আর পেমেন্টের ব্যাপারে শতভাগ নির্ভরযোগ্য ওডেস্ক। বায়ারদের সাথে কমিউনিকেশন সিস্টেম অনেক ভালো। মোটামুটি সব দিক থেকে ভালো লাগে।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আনোয়ার হোসেন রানা: আমি বর্তমানে রাজশাহীর একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে ১ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ওদের ই-কমার্স সাইটের কাজ করবো। আর ঢাকাস্থ উত্তরাতে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাথে জড়িত, যেখানে গরিব মেধাবীদের সামান্য অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রতিবন্ধীদের কেউ শিখতে চাইলে তাদের জন্য ফ্রি কোর্স করার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি আমি একটি মাসিক ম্যাগাজিনের (প্রিন্ট) পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, যেখানে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। দেশের সুপরিচিত ফ্রিল্যান্সারদের পরামর্শ থাকবে। ম্যাগাজিনটি পড়তে যারা আগ্রহী আমি তাদের বাসায় কুরিয়ারের মাধ্যমে বিনামূল্য পৌঁছে দিবো। আপাতত এসব নিয়েই ভবিষ্যৎ দেখছি।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং এ এখন পর্যন্ত আপনার অর্জন কতটুকু?
আনোয়ার হোসেন রানা: আমি সন্তুষ্ট, অনেক সম্মান পেয়েছি। আমি ওডেক্সের বাইরেই বেশি কাজ করছি। ওডেক্সের প্রথম কাজের মাধ্যমেই আমি ডাক পেয়েছি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। এখন তাদের সাথে রিমোটলি কাজ করি। আর বাংলাদেশের অনেক সাইটের কাজ করেছি, তাদের থেকে ভালোই ফিডব্যাক পাই। এক কথায় আমি এখন ফ্রিল্যান্সিং করেই নিজের খরচ নিজে বহন করি। পরিবারের প্রতি তাকিয়ে থাকি না।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় করা প্রথম টাকা কিভাবে পেয়েছিলেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: ওডেক্সের প্রথম কাজের টাকা পাই আমার এক বড় ভাই (অয়ন ভাই) এর পেপ্যাল এর মাধ্যমে।

প্রিয় টেক: প্রথম টাকা পেতে কি কোনো বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: এটা আর বলতে হয়! আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু.. টাকা তো একদিন না একদিন দিবে। তবে বাংলাদেশী কোম্পানির কাজ করলে তারা আমাদের অনেক ঠকায়, ভেঙ্গে ভেঙ্গে পেমেন্ট দেয়। যা আমার মতে একদম ঠিক নয়।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং এ প্রথম কোন কাজ করেছেন এবং প্রথম পেমেন্ট কত পেয়েছিলেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: প্রথম কাজ করেছি একটি মিউজিক রিভিউ সাইটের। যা আমি ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএস দিয়ে করেছিলাম। পেমেন্টটা ছিল ৮ হাজার টাকা। আর ওডেক্স থেকে প্রথম পেয়েছিলাম ১৭০০ টাকা।

প্রিয় টেক: প্রথম টাকা পাওয়ার অনুভূতি কেমন ছিলো এবং সে টাকা কি করেছিলেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: অনুভূতি বলে বুঝাতে পারবো না। টাকা হাতে পাওয়ার পর চুপ থেকেছিলাম ৫ মিনিট। আর প্রথম টাকা দিয়ে আমার আম্মাকে একটা শাড়ি কিনে দিয়েছিলাম।

প্রিয় টেক: বাংলাদেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কাজ করার সম্ভাবনা কেমন?
আনোয়ার হোসেন রানা: সম্ভাবনা অনেক। এটা হতে পারে মডার্ন যুগে একটা মডার্ন পেশা। শুধু বেকাররাই নয়, চাকরি করে এমন ব্যাক্তিটিও এটা পার্ট-টাইম হিসেবে নিতে পারেন। আমি বলবো বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং বিপ্লব তো মাত্র শুরু, আমরা অনেক দূর যাব।

প্রিয় টেক: বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির মন্দ দিক কোন গুলো ?
আনোয়ার হোসেন রানা: এক কথায় ইন্টারনেট সেবা। সরকারী টেলিকম প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কথা কেউ সামনে তুললেই আমার মুখ দিয়ে মন্দ কথা বের হয়। আমাকে কেন গ্রামীণ/রবি/বাংলা লিংক/ওয়াইম্যাক্স থেকে চড়া দামের ইন্টারনেট ইউজ করতে হয়? আমি কেন সরকারী টেলিকম প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট সেবা হতে বঞ্চিত? আমার এলাকায় তো টেলিটকের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একজনও নেই। কেন নেই? এই ব্যাপারে কেউ কি কোনদিন মনিটরিং করতে এসেছিল? বেসরকারী টেলিকম কোম্পানি প্রতিবছর যে টাকা সরকারকে দেয়, সে টাকা দিয়ে সরকার কি করে? তারা কি পারে না টেলিটকের নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করতে? তারা কেন ইন্টারনেট সেবা সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে না? কবে যে টেলিটকের 3g ফেনীতে আসবে তা স্বয়ং আল্লাহ পাক কোন উসিলায় না জানালে জানতে পারবো না। ভারতে ৩০০ টাকা দিয়ে পুরোমাস ইন্টারনেটে ব্যবহার করা যাচ্ছে তাও ২/৩ জি আর আমাকে প্রতিমাসে ২৩ কেবিপিএস এর ইন্টারনেটে এর জন্য ৮৫০ টাকা খরচ করতে হয়!

প্রিয় টেক: আপনার কাছে দেশের তথ্য প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো কি কি?
আনোয়ার হোসেন রানা: এক কথায় প্রযুক্তি ব্লগ গুলো। কারণ বেশির ভাগ ছেলেমেয়ে আজ ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে ধারনা পাচ্ছে বাংলা প্রযুক্তি ব্লগগুলো থেকেই। আর বর্তমানে মিডিয়া সাফল্যের কাহিনীগুলো কভারেজ করে বলেই মানুষের কাছে তথ্য প্রযুক্তির খবর দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া তরুণদের সোশ্যাল কমিউনিটি এবং অভিজ্ঞদের সভা, সেমিনার বিশেষ করে পিএইচপি এক্সপার্ট গ্রুপ/ওয়ার্ডপ্রেস গ্রুপ/জুমলা গ্রুপ/ফ্রিল্যান্সিং কর্মশালাগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে সবচেয়ে দামি কথা হলো বাংলাদেশ ওপেনসোর্স অর্গানাইজেশন এখন অনেক অ্যাকটিভ। আর সরকারের নানা উদ্যোগের আভাস পাচ্ছি, যা বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এবং এগিয়ে যাওয়া আরো সহজ হবে।

প্রিয় টেক: প্রথম প্রথম ইন্টারনেট কি কাজে ব্যবহার করতেন আর এখন ইন্টারনেটে কি নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: প্রথমে ইন্টারনেটে ব্যবহার করতাম ইমেইল, ফেসবুক, গান ডাউনলোড করার কাজে। আর এখন শিখতেই মরিয়া, শুধু টিউটোরিয়াল খুঁজি আর প্রাকটিস করি।

প্রিয় টেক: তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির জন্য সরকারের কি কি করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এখন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। যেগুলো যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না, সেগুলো ভালোভাবে পরিচালনা করতে হবে। নতুন নতুন ট্রেড চালু করা খুব জরুরী। সরকারী ভাবে স্বল্প টাকায় যেন আইটি সেক্টরে চাহিদা আছে এমন কোর্স চালু করা হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন আরো উন্নীত করা হয়। বেসরকারী কোম্পানির ইন্টারনেট মূল্যর উপর সরকারী ভাবে একটি নির্ধারিত দাম ধার্য্য করা আবশ্যক। যেমন ১ গিগাবাইট ইন্টারনেট এর মূল্য হবে ১৫০ টাকা/ভ্যাট সহ ১৭৫ টাকা, ব্যবহারের সময় ৩০দিন। কেননা যারা মাত্র এ পেশায় ঢুকেছে, তাদের তো আর জমানো টাকা নেই যে দামী দামী মডেম কিনবে আর চড়া দামের ইন্টারনেট সার্ভিস নিবে। সরকারীভাবে ব্যাংক লোণ চালু করা প্রয়োজন। যাতে তরুণ উদ্যোগতারা নিজেই প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারে। লোণের সুদ হবে প্রথম বছরে ০% এবং ২য় বছরে ৩% সুদে প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠানকে সরকার সহায়তা দবে। একক/এক মালিকানা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৩-৫ লক্ষ টাকা লোণের ব্যবস্থা করা হোক। প্রতিটি জেলায় সরকারীভাবে তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ রোড শো ব্যবস্থা করা হোক। যাতে যারা প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো জানে না তারাও জানতে পারে। শুধু মাত্র কোন বিশেষ দিবসে না করে বছরে ২/৩ বার এই রোড শো করা হোক। প্রতিটি সরকারী কারিগরি কলেজে খন্ডকালীন আউটসোর্সিং কোর্স চালু করা হোক। যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতারণার সাথে জড়িত তাদের জন্য স্থায়ী ভাবে নির্ধারিত সাজার ঘোষণা দেওয়া হোক।

প্রিয় টেক: ইন্টারনেটেই যেহেতু আয় তো বাংলাদেশের ইন্টারনেট সার্ভিস নিয়ে কি আপনি সন্তুষ্ট?
আনোয়ার হোসেন রানা: হ্যাঁ, আমি চিরকৃতজ্ঞ যারা আমাকে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা করে দিয়েছে। গ্রামীণ ফোন এবং রবিকে ধন্যবাদ দ্রুত দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তবে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে বলে কিছুটা ব্যথিত হচ্ছি।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং এর কাজগুলো সাধারণত কোন সময় করেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: রাতের বেলা। বিশেষ করে রাত ১১ টার পরেই করতে হয়। এর আগে ২/৩ বার কারেন্ট আসে যায় বলে কাজের সমস্যা হয়।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য সবচেয়ে কোন প্রতিবন্ধকতায় বেশি পড়েছেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: টাইমজোন। তারপর পেপ্যাল না থাকায় এখনো পেমেন্ট আনতে সমস্যা হচ্ছে। আর কারেন্ট তো কথা দিয়ে কথা রাখে না!

প্রিয় টেক: স্বাধীনভাবে নাকি দলগত ভাবে কাজ করছেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: একাই কাজ করছি।

প্রিয় টেক: বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কোনটি বলে মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: ভুল ব্যাখ্যা গ্রহণ করাই সবচেয়ে বড় ভুল। তারা যাচাই বাচাই না করেই যে কার কথায় কান দিয়ে যেখানে সেখানে (অনলাইনে) ইনভেষ্ট করে। যে কোন সাইটে গিয়ে কাজ করে, পরে পেমেন্ট পায় না। ক্লিক করার মত বাজে কাজকে তারা অভ্যাসে পরিণত করে। আর সবার আগে যেটা বলা উচিত তা হচ্ছে কাজ না শিখে ইনকাম করার প্রবণতা বেশি। আমি বলবো আপনারা আগে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কোর্স করুন, তারপর না হয় ইনকামের চিন্তা করবেন। আর মনে রাখবেন, যে কাজ জানে তার কাজ খুঁজতে হয় না। কাজই তার কাছে ঘুরে। আর আমাদের একটি খারাপ অভ্যাস হচ্ছে আমরা সহকর্মীদের সমালোচনা করি। তাদের নামে বায়ারের এবং সাধারণ মানুষের কাছে বদনাম করি। যার কারণে সকলের রেপুটেশন নষ্ট হচ্ছে। আমরা নিজের কাজকে বেষ্ট বলি আর অন্যদের কাজকে তুচ্ছ করে দেখি, এটা একদম পজিটিভ কিছু না।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কাজ করতে সরকারের কাছে কি কোনো চাওয়া আছে?
আনোয়ার হোসেন রানা: হাতের নাগালে ইন্টারনেটে সেবা পৌঁছে দেওয়া হোক। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি সমস্যা ও সমাধান মূলক ইনডেক্স চালু করা হোক। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া হোক। পেপ্যাল সেবা দ্রুত বাংলাদেশে চালু করা হোক। ব্যাংকগুলো যাতে ফ্রিল্যান্সারদের ডলার হতে অল্প পরিমাণ টাকা কর্তন করে সে ব্যাপারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হোক। প্রতিটি ব্যাংকে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ইনস্ট্যান্ট জমা/গ্রহণ মূলক নতুন পদ্ধতির একাউন্ট সিস্টেম চালু করা হোক।

প্রিয় টেক: বায়াররা বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের কেমন মূল্যায়ন করে বলে মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: ভালোই করে। সহযোগিতাও করে। তবে আমাদের কিছু কিছু ফ্রিল্যান্সার ভাইদের প্রতারণার শিকার বায়াররা আমাদের সাথেও মাঝে মাঝে খারাপ ব্যবহার করে। আসলে সব দোষ বায়ারের নয়,আমাদেরও সমস্যা আছে।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং এ ভালো পারফরমেন্স করার জন্য কি কি যোগ্যতা থাকা উচিত?
আনোয়ার হোসেন রানা: প্রথমত কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা। বায়ার হ্যান্ডেলিং করার মত মানসিকতা। ভালো আচরণ করতে হবে। মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করতে হবে। খুব অল্পতে উত্তেজিত হলে চলবে না। আর ভালো কমিউনিকেশন এর মধ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রিয় টেক: ফ্রিল্যান্সিং এ যারা নতুন তাদের জন্য কি পরামর্শ দিবেন?
আনোয়ার হোসেন রানা: কথা একটাই, আগে কিছু শিখ, তারপর এদিকে এসো। তুমি যেটা ভালো বুঝবে বলে মনে হচ্ছে সেটাই কর। নিজে নিজে পারলে ভালো কথা, না হয় কোন ভালো প্রতিষ্ঠান হতে কোর্স কর। পরিচিতদের সহযোগিতা নাও। দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের থেকে পরামর্শ নাও। নিজের পায়ে দাড়াতে চাইলে এখুনি সঠিক পথে পা বাড়াও। পরিচিত বড় যারা সোশ্যাল কমিউনিটিতে আছে তাদের যথাযথ সম্মান কর। যাতে সবাই তোমাকে সহযোগিতা করে। সমালোচনা করতে চাও? কর তবে আত্মসমালোচনা, অপরের জন্য করবে গঠনমূলক সমালোচনা। ফ্রিল্যান্সিং করতে গিয়ে যেকোনো সমস্যায় পড়লে আমাকে জানাতে পারেন। আমি যদি পারি অবশ্যই সাহায্য করবো। আর আমি এর আগে কোন ইন্টার্ভিউতে অংশগ্রহণ করিনি। ভুল কিছু বলে থাকলে আমাকে ক্ষমা করবেন। আর প্রিয় টেকের এমন আয়োজন নিয়মিত করার অনুরোধ করছি।