দেশব্যপী চার দিনের মোবাইল ফোন রিচার্জের ধর্মঘট চলছে

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) দেশব্যপী চার দিনের মোবাইল ফোন রিচার্জের ধর্মঘট চলছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে আগামী রোববার পর্যন্ত এটি চলবে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রিচার্জ করা নিয়ে টেলিযোগাযোগ খাতে রীতিমতো এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চার দিনের ধর্মঘটে পড়ে বুধবার পড়ি-মরি করে অনেকে হাজার টাকা রিচার্জ করেছেন। আবার যারা রিচার্জ করতে পারেননি, তাদের ভুগতে হচ্ছে অন্তহীন সমস্যায়। দোকান থেকে দোকানে ঘুরেও বৃহস্পতিবার অনেকে একটি টাকাও মোবাইলে রিচার্জ করতে পারেননি। আগামী রোববার পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তাদের করণীয় ঠিক করেনি। তারা বলছেন, পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটিই তারা খেয়াল করছেন। আর মোবাইল ফোন অপারেটররাও নজরে ঈদের আগে আর কোনো ইস্যুতে নজর দিতে রাজি নন। তারা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে। গ্রাহক ভোগান্তি করে সমস্যার সমাধান হবে না।

জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের সবগুলো বড় শহরের রিচার্জ ব্যবসায়ীরা স্বতঃম্ফুর্ত ধর্মঘটে নেমেছেন। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও চোরাই রিচার্জ ঠিকই মিলছে। তবে তার জন্যে গুনতে হচ্ছে বাড়তি পয়সা। তবে মোবাইল রিচাজ ব্যবসায়ী এসোশিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলু দাবি করছেন, ঢাকার মতিঝিল এবং মুগদা এলাকায় কিছু ব্যবসায়ী একটু সমস্যা করছে। এছাড়া সারা দেশেই সমানতালে ধর্মঘট চলছে।

রিচার্জ ব্যবসায়ীরা তাদের কমিশনের পরিমান ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দশ শতাংশ করার দাবিতে মূলত আন্দোলন করছেন। তাছাড়া সব মিলে তাদের ১১ দফা দাবি রয়েছে। এসব দাবি আদায়ে ২০০৮ সাল থেকে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করলেও আস্তে আস্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেপ্টেম্বরে প্রথম ধর্মঘটে যায় ব্যবসায়ীরা।

ইন্দিরা রোডের ঘরোয়া টেলিকমে বৃহস্পতিবার দুপুরে রিচার্জ চাইতে গেলেই ‘নেই’ জানিয়ে দেন দোকানি। পরে বলেন, কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার তারা। আগামী চার দিন অন্য সব পন্য বিক্রি হবে। কিন্তু কোনো রিচার্জ তিনি করবেন না বলে জানান। এমনকি নিজের মোবাইলে রিচার্জ বন্ধ থাকবে।

ফার্মগেটের জোবারে টেলিটকের আমজাদুল করিম জানান, চার দিনের ধর্মঘটের কথা গ্রাহকরা আগেই জেনে ছিলেন। সে কারণে বুধবার সন্ধ্যা থেকে একেকজন শতশত টাকা রিচার্জ করেছেন। আবার কেউ কেউ ডজন ডজন রিচার্জ কার্ড কিনে নিয়েছেন।

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্বতঃম্ফুর্তভাবেই রিচার্জ বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। এতোদিন যারা ফুটপাতে একটা টেবিল এবং ছাতা নিয়ে রিচার্জের ব্যবসা করতেন তাদেরকে গতকাল খুঁজে পওয়া যায়নি। ধানমন্ডির সাত নম্বর রোডের অরণি বিদ্যালয়ের পাশের ফুটপাতে প্রতি দিন মোবাইল রিচার্জের পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ী রাজ্জাক হোসেন। কিন্তু আজ তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে স্কুলে আসা অভিভাবকদের অনেকেই রিচার্জ নিতে পারেনি।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও রাস্তার রিচার্জ ব্যবায়ীরা ফুটপাতের টেবিল উল্টো করে রেখেছেন। আবার গলির মোড়ের দোকানে কোথাও টেবিলের ওপর ‘রিচার্জ বন্ধ’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। আর বড় বড় ষ্টেশনারির দোকানে অন্য সব কেনাকাটা বললেও রিচার্জ বন্ধ।

ভোগান্তির বিষয়ে বিটিআরসি’র সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। কমিশনার এটিএম মনিরুল আলম বলেন, বিটিআরসি’র নতুন চেয়ারম্যান আসবেন কয়েক দিনের মধ্যে। তাছাড়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দেশের বাইরে। এর মধ্যে আগ বাড়িয়ে তার কিছু বলা ঠিক হবে না। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে বিটিআরসি’র অপর এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, দুই পক্ষেই ব্যবসায়ী। আগ বাড়িয়ে এই পরিস্থিতিতে তাদের ঢুকে পড়া ঠিক হবে কিনা সেটিও ভেবে দেখতে হবে। অন্যদিকে আবার গ্রাহক ভোগান্তির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। রিচার্জ ব্যবসায়ী এবং মোবাইল ফোন অপারেটররা আলোচনা করে সমস্যা ঘোচাতে পারলে সবচেয়ে ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে পরস্থিতি যে দিতে যাচ্ছে তাতে বিটিআরসি আর বেশী দিন মুখ বালুতে গুজে রাখতে পারবে না বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

এসব বিষয়ে কোনো অপারেটর এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে একটি অপারেটরের কর্পোরেটর বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশন বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি যৌক্তিক নয়। একশ টাকা আয় হলে তার ৫৪ টাকা সরকারকে দিতে হয়। রিচার্জ ব্যবসায়ীদের কমিশন আরো বাড়িয়ে দেওয়া হলে তাদের কিছুই থাকবে না। তবে তাদের কেউ ব্যবসা করতে রাজি না হলে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হবে।

ধর্মঘটের প্রথম দিনে খুলনার ব্যবসায়ীরা রিচার্জের সিমগুলো বন্ধ রেখে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সকালে ব্যবসায়ীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোম্পানির কাষ্টমার কেয়ার পয়েন্টগুলো বন্ধ করে দেয়। পরে রিচার্জ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোম্পানিগুলোকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এদিকে প্রথম দফা ধর্মঘট চলাকালে অনেকেই মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাষ্টমার কেয়ার পয়েন্টে গিয়ে রিচার্জ করেছেন। কিন্তু গতকাল আন্দোলনকারীরা পয়েন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়ায় রিচার্জের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বরিশালে বুধবার রাতে নগরীর বিভিন্ন দোকানে লাইন দিয়ে রিচার্জ নিয়েছেন মোবাইল গ্রাহরা। রিচার্জ দিতে গিয়ে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর ব্যালেন্সই শেষ হয়ে যায়। নাজ ট্রেডার্সের মোহাম্মদ জসিম জানান, আগের রাতে গ্রাহকের এতো বেশী চাপ ছিল যে সেটি সামলে ওঠাই ছিল দুষ্কর। বুধবার এতো চাপ সামলালেও বৃহস্পতিবার থেকে তারা দোকানোর শার্টারও নামিয়ে রেখেছেন বলে জানান তিনি।

সিলেট অফিস জানিয়েছে, ধর্মঘট চলছে। অধিক সংখ্যক ব্যবসায়ী ধর্মঘটে রয়েছেন। কিন্তু তার কারণে গ্রাহকদের যে খুব সমস্যা হচ্ছে তা নয়। যারা ধর্মঘটে নেই তারা সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন। পয়সা বেশী খরচ করলেই রিচার্জ এবং কার্ড মিলছে।