ভিওআইপি: আন্তর্জাতিক ইনকামিং কলের পরিমান কিছুটা বেড়েছে

(প্রিয় টেক) নতুন মন্ত্রী টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈধ পথে আসা আন্তর্জাতিক ইনকামিং টেলিফোন কল ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন সপ্তাহের হিসেব পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে এ তথ্য। রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু সর্বশেষ যেদিন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেদিনও বৈধ পথে আসা আন্তর্জাতিক কল ছিল ২ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার মিনিট। আর গত ৫ অক্টোবর তা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৯ মিনিটে।

অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির এই উন্নতির চিত্র তৈরী করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা - বিটিআরসি। এই সময়ে অবৈধ পথে থাকা অন্ততঃ ১ কোটি ৩৮ লাখ ১৬ হাজার মিনিটের টেলিফোন কল বৈধ পথে ফিরেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাতে করে প্রতিদিন অন্ততঃ ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বৈধ পথে ফিরে এসেছে।
রোববার ভিওআইপি পরিস্থিতির এই উন্নতির চিত্র নতুন মন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করে বিটিআরসি। বিটিআরসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এই উন্নতি বিষয়ে বলেন, নানা কারণে মাঝখানে পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দিন যতো যাচ্ছে ততোই অবৈধ কল বৈধ পথে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে। দুই সপ্তাহ পরে বৈধ কল অনেক বেশী দেখা যাবে বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে শনিবার নিজ বাসভবনে বসে সারা খাতুন বলেন, নতুন মন্ত্রনালয়ে তার প্রধান লড়াই ভিওআইপিকে বৈধ পথে নিয়ে আসা।
এর আগে গত ডিসেম্বরে প্রতিদিন যেখানে বৈধ পথে আসা টেলিফোন কলের পরিমান পাঁচ কোটি মিনিটের বেশী ছিল এরই মধ্যে তা তিন কোটির নীচে নেমে যায়। বৈধ পথ থেকে প্রতিদিন যে দুই কোটি মিনিট চোরাই পথে চলে যায় তার আর্থিক মূল্য ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বিটিআরসি প্রণীত হিসাব থেকেই পাওয়া যায় এই তথ্য।
যখন দিনে ৫ কোটি মিনিটের বৈধ কল এসেছে, তখনো অবৈধ কল ছিল সমপরিমান। তাতে দিনে হয়তো দশ কোটি টাকার সমপরিমান কল অবৈধ পথে আসে।
ভিওআইপি’র অবৈধ কল বৃদ্ধির প্রসঙ্গে সব সময়ই এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর দায় চাপিয়েছেন। কিন্তু নতুন মন্ত্রী কারো ওপর দায় না দিয়ে সকলের কাছে সহযোগিতা চাইছেন।

বৈধ কলের পরিমান বাড়লেও সরকার নিয়ন্ত্রক কোম্পানি বিটিসিএলের বৈধ কলের সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিটিসিএলের মাধ্যমে কল আসে ৬০ লাখ ২ হাজার মিনিট। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর বিটিসিএলের ইনকামিং কল ছিল ৮৪ লাখ ৫৬ হাজার মিনিট। মাঝখানে ৮ সেপ্টেম্বর ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার মিনিট এবং ১০ সেপ্টেম্বর ছিল ৬৬ লাখ ১১ হাজার মিনিট।
এখন অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে এই কলের পরিমান প্রায় অভিন্নই থেকেছে। ১ অক্টোবর ৭০ লাখ ৮১ হাজার মিনিট কল আনে বিটিসিএল। ২ অক্টোবর তা নেমে যায় ৬৪ লাখ মিনিটে। পরের দিন ছিল ৬৭ লাখ মিনিট। ৪ অক্টোবর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হয়। এদিন বিটিসিএলের মাধ্যমে কল আসে মাত্র ৫৯ লাখ ৬৯ হাজার মিনিট। আর ৬ অক্টোবর কল আসে ৬৪ লাখ ৯ হাজার মিনিট।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি মিনিটের ভয়েস কল রয়েছে। এখনও একটি বিশাল অংকের কল হিসাবের খাতার বাইরে রয়ে গেছে। পাশাপাশি, যেহেতু সাময়িক এই উন্নতিতে বিটিসিএল-এর বৈধ কলের পরিমান বাড়েনি, তাই খুব সহজেই বলে দেয়া যায় যে, বিটিসিএল ছাড়াও অন্য কিছু অপারেটরও এই কাজের সাথে জড়িত।
নীচে আগের বছরের কিছু গড় বৈধ কলের ডাটা পয়েন্ট দেয়া হলো -
জুলাই ‘১০ : ৪ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার মিনিট
আগষ্ট ‘১০ : ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৬২ হাজার মিনিট
অক্টোবর ’১১ : ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৫ হাজার মিনিট
নভেম্বর ’১১ : ৪ কোটি ১৩ লাখ ১ হাজার মিনিট
ডিসেম্বর ’১১ : ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৭৫ হাজার মিনিট
এপ্রিল ’১২ : ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৩৩ হাজার মিনিট
জুন ’১২ : ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার মিনিট
জুলাই ’১২ : ২ কোটি ৯৮ লাখ ৫৭ হাজার মিনিট
আগষ্ট ’১২ : ৩ কোটি ৯ লাখ ২৩ হাজার মিনিট
সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসের কয়েক দিনের বৈধ কল -
০৮ সেপ্টেম্বর: ২ কোটি ৭৩ লাখ ৯৪ হাজার মিনিট
১২ সেপ্টেম্বর: ২ কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার মিনিট
১৩ সেপ্টেম্বর: ২ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার মিনিট
০১ অক্টোবর: ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার মিনিট
০৩ অক্টোবর: ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার মিনিট
০৫ অক্টোবর: ৩ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার মিনিট
০৬ অক্টোবর: ৩ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার মিনিট













