পাওনা অনাদায়ে অপারেটরেদের সাথে আন্তঃসংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে গ্রামীণফোন

(প্রিয় টেক) বকেয়া পাওনা না পাওয়ায় রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ল্যান্ডফোন অপারেটর বিটিসিএলের আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডবলিউ) সংযোগ বন্ধ করে দিতে পারে গ্রামীণফোন। একই সঙ্গে তিন মোবাইল ফোন অপারেটর এয়ারটেল, সিটিসেল এবং টেলিটকের কাছেও আন্তঃসংযোগের অনেক বড় অংক পাওনা রয়েছে অপারেটরটির। টাকা আদায়ে এই তিন অপারেটরের আন্তঃসংযোগ চুক্তিও বাতিল করে দিতে পারে বলেও গ্রামীণফোনের পরিকল্পনায় রয়েছে।
এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি জানিয়েছে, এর আগে কয়েকবার বিভিন্ন অপারেটরের আন্তঃসংযোগের পাওনা আদায়ে আন্তঃসংযোগ চুক্তি বাতিলের অনুমোদন চায় তারা। কিন্তু মন্ত্রনালয় এবং বিটিআরসি’র মধ্যস্থতায় অনাকাঙ্খিত সেই পরিস্থিতি এড়ানো গেছে।

জানা গেছে, চারটি অপারেটরের কাছে সব মিলে গ্রামীণফোনের পাওনার পরিমান ১২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কেবল বিটিসিলের আইজিডবলিউ’র কাছে পাওনা ৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনেক কলের টাকা পাওনা থাকলেও বিটিসিএলের কাছে তার কোনো প্রমাণ নেই।
এ বিষয়ে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণফোনের পাওনার পরিমান সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। কাগজপত্র না দেখে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান।
গতকাল ১ অক্টোবর অপারেটরগুলোর কাছে আন্তঃসংযোগের এসব পাওনা নিয়ে জরুরী এক বৈঠক করে গ্রামীণফোন। ওই হিসেবে দেখা যায় বিটিসিএলের আইজিডবলিউ’র বাইরে টেলিটকের কাছে আন্তঃসংযোগের পাওনা ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এয়ারটেলের কাছে তাদের পাওনা ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর সিটিসেলের কাছে পাওনা রয়েছে আরো ৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
নিয়ম অনুসারে এক অপারেটর থেকে আরেক অপারেটরে ফোন কল গেলে প্রতি মিনিটের কলের জন্যে ১৮ পয়সা করে দিতে হয়। এক্ষেত্রে বড় অপারেটরগুলো সব সময়ই ছোট অপারেটরের কাছে টাকা পেয়ে থাকে। কারণ ছোট অপারেটর থেকে বড় অপারেটরে কল অনেক বেশী যায়। পক্ষান্তরে বড় অপারেটর থেকে ছোট অপারেটরে কল অনেক কম আসে। প্রতি তিন মাস পর পর এই হিসেব সমন্বয় করে অপারেটরগুলো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের কেউ অফিসিয়াল বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে বিটিআরসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, পাওনা দেনা ব্যবসায় থাকবেই। সেটি সমন্বয় করতে গিয়ে একটু বিলম্ব হলেও কেউ যাতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।










