গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেবে না অপারেটররা। বিটিআরসি বলছে, ভূয়া নিবন্ধনে শাস্তি

(প্রিয় টেক) গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেবে না মোবাইল ফোন অপারেটররা। তারা বলছে, ১২ অক্টোবর থেকে মোবাইল ফোনের প্রি-অ্যাকটিভ (আগে থেকে চালু) সিম বিক্রি বন্ধ করার বিষয়টি তারা মেনে নিচ্ছেন। কিন্তু তাই বলে গ্রাহক ভুল তথ্যের পরিচয়পত্র দিলে তা নিশ্চিত করতে তারা পারবেন না।
উল্টো দিকে বিটিআরসি বলছে, নতুন সিম নিবন্ধনে ভূয়া তথ্য দেওয়া হলে তার দায় অপারেটরদের। এর জন্যে তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
এক সপ্তাহ পর থেকে শুরু হতে যাওয়া সিম বিক্রির নতুন নিয়ম নিয়ে নতুন করে এক ঝামেলার শুরু হতে যাচ্ছে। যার কাছে সিম বিক্রি করা হচ্ছে সেই গ্রাহকের সঠিক পরিচয় কে নিশ্চিত করবে তা নিয়ে অপারেটর এবং বিটিআরসি’র মধ্যে এই ঠেলা ঠেলি শুরু হয়েছে। অপারেটররা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গ্রাহকের পরিচয় সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তারা নিতে পারেন না। সোমবার এক বৈঠকে ছয় অপারেটর এ সিদ্ধান্ত নেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোনে বেড়ে যাওয়া অপরাধ প্রবণতা বন্ধে ১২ অক্টোবর ২০১২ থেকে বন্ধ হচ্ছে, নতুন বিক্রি হওয়া সিমের প্রি-অ্যাকটিভ (আগে থেকে চালু) সুবিধা। এর ফলে সিম কিনেই আর কেউ কথা বলার সুযোগ পাবেন না। বরং তার ছয়টি তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর সিমটি কথা বলার উপযোগী হওয়ার কথা। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দেওয়া এ সংক্রান্ত নির্দেশনা অপারেটররা মেনে নিলেও গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করার দায়িত্ব তারা নেবেন না। এ প্রেক্ষাপটে ১২ অক্টোবরের পর নতুন সিম বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভুল তথ্যে সিম নিবন্ধনের দায় অপারেটরকে নিতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ হলে আইন অনুযায়ি তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, কোনো অবস্থায় এই দায়িত্ব বিটিআরসি’র ওপর আসতে পারে না।
এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অপারেটরদের মনে রাখতে বলেন যে, প্রতিটি সিমের ভুল নিবন্ধনের জন্যে ৫০ ডলার করে জরিমানার বিধান রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদেরকে কয়েক কোটি টাকা জরিমানাও গুনতে হয়েছে।
অন্যদিকে সোমবারের বৈঠকে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে গ্রাহকের পরিচয় সংক্রান্ত ছয়টি কাগজ তারা সংগ্রহ করবেন। কিন্তু সেই কাগজপত্র সঠিক কি-না তা তাদের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আর এ দায় কোনোভাবেই তারা নেবেন না।
এ বিষয়ে একটি অপারেটরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সিমি বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলেও তারা নতুন এই ফাঁদে পা দেবেন না। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উভয় পক্ষ একে অপরের উপর দায় না চাপিয়ে আলোচনা মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করলেই সুফল পাওয়া যাবে।
রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান বলেন, বিটিআরসির নির্দেশনা মেনে তারা সব কাগজপত্র নিতে পারেন। কিন্তু ঠিক না ভুল তাদের পক্ষে নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব? তিনি আরো বলেন, কেউ ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিলে তা কিভাবে তারা নিশ্চিত হবেন যে সেটি ভুয়া। কারণ জাতীয় পরিচয় পত্রের সার্ভারে ঢোকার সুযোগ তাদের নেই। আর কিভাবে তারা তথ্য নিশ্চিত করবেন সে ব্যাপারেও বিটিআরসি কোনো নীতিমালাও দেয়নি। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা যাবে না। মোবাইলের সিম কার্ড কেনার ক্ষেত্রে এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার কথা বিটিআরসির নির্দেশনায় রয়েছে।
বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে তাদের কাছে চিঠি লিখে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি যতগুলো নাম্বারের রেজিষ্ট্রেশন ফরমের তথ্য নিয়েছে তার সবগুলোই ভুয়া। সেখানে নাম- "আলু", বাবা- "পটল" বা নাম- "চিনি", বাবা- "সুজি" এমন সব নাম বাবার নাম বা ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফরমের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের কোন ফটোকপিও তারা পাননি। অপারেটররা আন্তরিক হলে এই ফরমগুলো তো অন্তত তাদের চোখে পড়ত। এই ধরনের রেজিষ্ট্রেশন থাকা আর না থাকা সমান কথা। ওই কর্মকর্তা বলেন, শুধু লোক দেখানো রেজিষ্ট্রেশন করলেই হবে না, তাদের আন্তরিকতা থাকলেই অর্ধেক ভুয়া রেজিষ্ট্রেশন এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। তাই তিনি দেশের স্বার্থে এ ব্যাপারে অপারেটরদের আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ করেন।

প্রিয়.কম-এর পক্ষ থেকে কিছু গ্রাহককে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, তাদের বেশির ভাগই জানিয়েছেন যে, মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো এতো কিছু করতে পারে, আর একজন গ্রাহকের সঠিক তথ্য যোগাঢ় করতে এতো গড়িমসি করছে কেন তা বোধগম্য নয়। তারা মনে করেন, মোবাইল কোম্পানীগুলো বাংলাদেশের কোনও মঙ্গল চায় না, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যাথা নেই। তারা যেনতেন উপায়ে শুধু তাদের ব্যবসাটাই নিশ্চিত করতে চাইছে। তারা বাংলাদেশের মানুষকে ক্রমাগত শোষন করে চলেছে।








