শর্তসাপেক্ষে বাংলালিংক, রবি, সিটিসেলের ব্যাংক হিসেব খুলে দেবার নির্দেশ আদালতের

(প্রিয় টেক) তিনটি মোবাইল ফোন অপারেটরের ফ্রিজ করা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)কে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন বিচারপতি ওহাব মোল্লার আদালত। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এনবিআর ২০০৬ সালের সিম ট্যাক্স পাওনা হিসেবে বাংলালিংক, রবি এবং সিটিসেলের ব্যাংক হিসেব ফ্রিজ করে।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে গত রোববার পৃথক রিট দাখিল করে তিনটি অপারেটর। তবে বিচারপতি নাজমুন নাহার এ বিষয়ে শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানান। তার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তিন অপারেটর ওহাব মোল্লার আদালতে গেলে তিনি এ রায় দেন। এসব খবর নিশ্চিত করেছেন রবি'র এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান।
এনবিআরকে ব্যাংক হিসেব খুলে দেওয়ার কথা বললেও দশ দিনের মধ্যে এনবিআরের দাবীকৃত টাকার ৫০ শতাংশ পরিশোধ করতে বলেছে আদালত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের সিম ট্যাক্সে মামলার পূর্ণ রায় বেরলে তার প্রেক্ষিতে বাকি সিদ্ধান্ত হবে। ওই রায়ে যদি বলা হয়, সিম ট্যাক্স দেওয়া লাগবে না তাহলে অপারেটররা এই টাকা ফেরত পাবে। আবার রায়ে যদি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয় তাহলে পাওনা হিসেবে এনবিআরের দাবি করা বাকি ৫০ শতাংশ অর্থও তাদেরকে পরিশোধ করতে হবে।
২০০৬ সালে সাংবাদিক আবু সায়িদ খান মোবাইল ফোনের সিমের ওপর ট্যাক্স আরোপকে অবৈধ দাবি করে মামলা করেন। কয়েক বছর শুনানির পর গত আগস্টে এ বিষয়ে রায় বেরয়। মামলায় আবু সায়িদ খান হেরে যান। তার প্রেক্ষিতে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি (একটেল) এবং সিটিসেলকে ৭৪১ কোটি ৬১ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। গত ১ আগস্ট এ বিষয়ে মামলা রায় হয়।
তার প্রেক্ষিতে টাকা পরিশোধের জন্যে অপারেটর চারটিকে চাপ দিতে থাকে এনবিআর। এক পর্যায়ে আইন অনুসারে ব্যাংক হিসেব ফ্রিজ করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়। পরে গ্রামীণফোন তাদের টাকার অংশ (৩৪৮ কোটি টাকা) পরিশোধ করেন। অন্য তিন অপারেটর টাকা পরিশোধ না করায় তাদের হিসেব ফ্রিজ করে এনবিআর।
এনবিআরের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদা রহমান জানিয়েছেন, আদালতের আদেশ অনুসারেই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন।














