পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মাইক্রোসফট ড্রিমস্পার্ক অ্যাকাউন্ট!

PriyoTech's picture

আপডেট: এ ব্যাপারে মাইক্রোসফটের সাথে যোগাযোগ করে জানা গিয়েছে সময়মত রিনিউ না করার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মাইক্রোসফট তার প্রতিজ্ঞা থেকে সরে দাঁড়াইনি।

যাদের অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভ দেখাচ্ছে তাদের কাছে রিনিউ এর ইমেইল যাবার কথা। সেই রিনিউ ইমেইলে সাবস্ক্রিপশন নাম্বার লিখে রিপ্লাই দিলেই অ্যাকাউন্ট আবার আপডেট হয়ে যাবে।

(প্রিয় টেক) বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাইক্রোসফটের টুল/ অ্যাপ্লিকেশন/প্ল্যাটফর্মের সাথে পরিচিত করানোর জন্য এবং নিত্য নতুন প্রযুক্তি শেখার এবং ব্যবহারের সুযোগ করে দেবার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে মাইক্রোসফট বাংলাদেশে মাইক্রোসফট ডেভলপারস নেটওয়ার্ক অ্যাকাডেমি অ্যালায়েন্স (MSDN AA) প্রোগ্রাম আরম্ভ করে। শুরুতেই সরকারী/বেসরকারি মোট ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রোগ্রামের আওতায় চলে আসে এবং ঐ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মাইক্রোসফটের সমস্ত টুল/অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুযোগ পায়। ২০১২ সাল পর্যন্ত সরকারী/বেসরকারিসহ দেশের প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠান উক্ত প্রোগ্রামের আওতায় চলে আসে। ২০১২ সালের শুরুতে মাইক্রোসফট এই প্রোগ্রামটির নাম পরিবর্তন করে ড্রিমস্পার্ক প্রিমিয়াম নামকরণ করে এবং প্রোগ্রামের কার্যক্রম অপরিবর্তিত থেকে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ড্রিমস্পার্ক প্রিমিয়াম প্রোগ্রামটির বাৎসরিক মূল্য $৪৯৯ মার্কিন ডলার হলেও মাইক্রোসফট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে, “বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি সবসময়ই এই প্রোগ্রামটি বিনামূল্যে উপভোগ করতে থাকবে।”

এরকম প্রতিশ্রুতি থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি - বাংলাদেশ (এআইইউবি), পটুয়াখালী প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (পিএসটিউই) সহ সরকারী/বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে অভিযোগ করতে থাকে যে তাদের ড্রিমস্পার্ক অ্যাকাউন্টটি তারা আর ব্যবহার করতে পারছেন না। পিএসটিউই-এর শিক্ষার্থী সায়েফ প্রিয় টেককে বলেন, “মাইক্রোসফট নতুন ভিজুয়াল স্টুডিও রিলিজ করছে, সামনে উইন্ডোজ ৮ আসছে, আমরা নতুন দু'টি প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছি। এরকম সময় আমাদের এগুলি থেকে বঞ্চিত করলে হতাশ হওয়া ছাড়া আমাদের আর কিছু বলার থাকবেনা। মাইক্রোসফট কেন পূর্ব ঘোষণা দিলনা, সেটা আমাদের কাছে পরিষ্কার না।” আবার এআইইউবি-এর শিক্ষার্থী রুমী বলেন, “কথা নাই বার্তা হঠাৎ করে অ্যাকাউন্ট অ্যাকসেস বন্ধ হয়ে গেল। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/ব্যবস্থাপকদের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কিছু বলতে পারেনি। মাইক্রোসফট এটা খুবই আনপ্রফেশনাল একটা পদক্ষেপ নিয়েছে।”

যেহেতু উক্ত প্রোগ্রামটি মাইক্রোসফট শিক্ষক/ব্যবস্থাপকদের সম্পৃক্ততা ছাড়াই সরাসরি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে চালাত, তাই শিক্ষক/ব্যবস্থাপকরা এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারেননি। তবে আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে এখনই সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসেস বন্ধ হয়নি, কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখনও স্বাচ্ছন্দ্যে ড্রিমস্পার্ক প্রিমিয়াম সেবা ব্যবহার করে যাচ্ছেন।

কারণ যেটাই হোক, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পক্ষে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে মাইক্রোসফটের টুল/অ্যাপ্লিকেশনগুলি কিনে ডেভেলপমেন্ট শেখাটা বাস্তব সম্মত মনে হয়না। শিক্ষার্থীরা আশা করছে মাইক্রোসফট বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের জন্য প্রোগ্রামটি পুনর্বহাল করবে।