ইনস্টাগ্রামের অপর দিক: জনপ্রিয় অ্যাপ দিয়ে তৈরী হচ্ছে হাজার হাজার ইনস্টা-পর্ণ

(প্রিয় টেক) যদিও ৮ কোটির বেশি মানুষ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে থাকে, কিন্তু সেখানে বন্যার মতো ধেয়ে চলেছে পর্ণগ্রাফিক ফটো। বিখ্যাত হাফিংটনপোষ্ট এর নাম দিয়েছে ইনস্টাপর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির ছোট একটি দল এইসব ছবি মুছতে মুছতে হিমসিম খাচ্ছে বলে রিপোর্ট বেরিয়েছে।
হাফিংটন পোস্টের সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে কোনও ব্যবহারকারী খুব সহজেই ওই যৌন উত্তেজক ছবিগুলো দেখতে পারেন। এবং সেই ছবিগুলো আবার তুলেছেনও কোনও না কোনও ব্যবহারকারী, কিংবা তাদের পার্টনার।
এর চেয়েও ভয়ংকর বিষয় হলো, একজন ব্যবহারকারী "সেক্সটাগ্রাম" দিয়ে সার্চ করলেই এমন অসংখ্য ছবি খুঁজে পাবে, এবং সেই ব্যবহারকারী এমন একটি চ্যাট রুমে প্রবেশ করবে, যেখানে অসংখ্য অপরিচিত মানুষ ইন্টারনেটে সেক্স করার জন্য অপেক্ষা করছে।

যদিও ইনস্টাগ্রামের নিয়মে বলা রয়েছে যে, কোনও রকম যৌন উত্তেজক, নগ্ন ছবি ওখানে পোষ্ট করা যাবে না, কিন্তু মাত্র ১৫ জনের ছোট একটি দল ওই সাইটটি পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালন করছে, এবং তাদের পক্ষে দৈনিক পোষ্ট হওয়া ৫০ লক্ষ ছবি দেখে পরীক্ষা করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের লিবারেল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক টেরি সেনফিট বেশ মজার একটি তত্ত্ব দিয়েছেন এই বিষয়ে। তিনি বলেন, প্রথম দিক ইনস্টাগ্রাম ছিল একটি নতুন ধরনের সেবা, যা আগে মানুষ ব্যবহার করেনি। কিন্তু এখন মানুষ এর কথা জেনে গেছে। অর্থ্যাৎ ইনস্টাগ্রাম একটি মোমেন্টাম পেয়ে গেছে। তাদের ক্রিটিকাল ম্যাস তৈরী হয়েছে। আর যখুনি ক্রিটিকাল ম্যাস তৈরী হয়, তখুনি সেক্স এসে ভর করে।"
ইনস্টাপর্ণ, হ্যান্ডব্রা, সেক্সটাগ্রাম ইত্যাদি সার্চ টার্মগুলো হাজার হাজার যৌন আবেদনমূলক ছবি নিয়ে আসে। আর তাই ইনস্টাগ্রাম এখন অনেক অভিভাবকের চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ, এগুলো দেখা এবং অংশগ্রহন করা যেতে বিরত রাখার জন্য খুব কম টুলসই রয়েছে।
আরও ভয়ংকর হলো, সেই ছবিগুলোতে মন্তব্যকারীর সংখ্যা শত শত, এবং তারা এই ধরনের ছবি আরো বেশি পোষ্ট করার জন্য প্রতিনিয়ত অনুরোধ করেই যাচ্ছে। আর যেসকল অ্যাপ তৈরী হয়েছিল ইনস্টাগ্রামের সাধারন ছবিগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে, এখন সেগুলোর এফ্যাক্টই ব্যবহার করা হচ্ছে এই সব নগ্ন ছবিকে আরো আকর্ষণীয় করতে।
উল্লেখ্য যে, এই সাইটটি কেনার জন্য ফেসবুক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছে।










