'লাইক' বাটনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ফেসবুক

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) 'লাইক' বাটনের ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেসবুক। স্প্যামার, ম্যালওয়্যার এবং কালোবাজারিদের দৌরাত্ম কমানোর লক্ষ্যে এবং বিজ্ঞাপনের অবকাঠামো হিসেবে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য জাল 'লাইক' এর ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে সামাজিক যোগাযোগ সাইটটি।

কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর 'লাইক' এর সংখ্যা ১% কমে যেতে পারে বলে উল্লেখ করেছে ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটি গত শুক্রবার নিজস্ব ব্লগের মাধ্যমে জানায়, "সম্পূর্ণ নতুন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ম্যালওয়্যার, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্ট, প্রতারিত ব্যবহারকারী অথবা ক্রয়কৃত লাইকগুলো মুছে দিবে।"

এ ব্যাপারে আগে থেকেই ব্যবস্থা চালু থাকলেও নতুন সিস্টেমটি ভুয়া লাইক বন্ধ করার ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে তৈরি করা হয়েছে বিধায় আরো বেশি দক্ষ বলে জানিয়েছে ফেসবুক।

বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পয়সার বিনিময়ে হাজার হাজার লাইক সংগ্রহ করে থাকে বলে জানিয়েছে ফেসবুক যা প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা বহির্ভূত একটি কাজ। এছাড়া বিভিন্ন স্প্যাম প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারীকে ভিডিওতে ক্লিক করতে আকৃষ্ট করা হয়ে থাকে। ফেসবুকের নতুন সিস্টেমটি এই ধরণের প্রোগ্রামগুলো চিহ্নিত এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই পরিষ্কার কার্যক্রমের কারণে প্রথমে সমস্যা হলেও পরবর্তীতে ব্যবহারকারী এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিক ফ্যান সংখ্যা এবং ডেমোগ্রাফিক সংক্রান্ত তথ্য পাবে।

'লাইক' বাটনের জনপ্রিয়তা রক্ষা করাটা ফেসবুকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বেশির ভাগ সময় বিজ্ঞাপন দাতারা তাদের বক্তব্য ভোক্তার কাছে সঠিকভাবে পৌঁছালো কিনা তা জানার মাধ্যম হিসেবে লাইকের সংখ্যাকে বিবেচনা করে থাকে। আর ফেসবুক চলছেই নানা ধরণের বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের মাধ্যমে।

গবেষণা সংস্থা আলটিমিটার গ্রুপের অংশীদার জেরেমিয়া আওয়াং লাইককে অর্থের সাথে তুলনা করে বলেন, "ফেসবুক হচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ, বাজারের একাগ্রতা রক্ষা করার জন্য সকল জাল টাকা সে তুলে নেবার চেষ্টা করছে।"

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে সমস্যাটি শুধু ফেসবুক কেন্দ্রিক নয়, বরং টুইটার এবং গুগল+ এও ভুয়া অ্যাকাউন্ট, স্প্যাম এবং অন্যান্য সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু ফেসবুকের ব্যাপারটা ভিন্ন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এক্ষেত্রে কঠোর হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার মূল্য যেভাবে দিন দিন কমে যাচ্ছে তাতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদেরকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও সদস্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদেরকে ধরে রাখার প্রচেষ্টা স্বরূপ এ ধরণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পরেছে।

সম্প্রতি ফেসবুক এক প্রতিবেদনে জানায় প্রতিষ্ঠানটির মোট সদস্যের ১.৫% জাল অথবা নীতিমালা ভঙ্গ করছে এমন। গার্টনারের মতে প্রতিষ্ঠানটি পুরো ব্যাপারটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবার আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করছে। কারণ একবার যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় আর ফেসবুক যদি ভুয়া অ্যাকাউন্টে ভরে যায় তাহলে সেই সকল ভুয়া অ্যাকাউন্টধারীদের কাছে কোন প্রতিষ্ঠান তার বিজ্ঞাপন দেবার চেষ্টা করবে না। ফলে ধ্বংস হয়ে যাবে ফেসবুক।