অ্যাপল-স্যামসাং মামলার রায়ে গুগলের প্রতিক্রিয়া এবং অ্যানড্রয়েডের ভবিষ্যত

(প্রিয় টেক) অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের মধ্যেকার মামলার রায় অ্যানড্রয়েড ডিভাইসের ক্রমবিকাশের উপর প্রভাব বিস্তার করবে না বলে আশা করছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটি সোমবার এক বিবৃতিতে স্যামসাং এবং অ্যাপলের মেধাস্বত্ত্ব মামলাগুলোর বেশিরভাগ অ্যানড্রয়েডের "কোর" অপারেটিং সিস্টেম সংক্রান্ত নয় বলে অভিহিত করেছে। তবে অনুসন্ধান খ্যাত প্রতিষ্ঠানটি আজকের অনেক উদ্ভাবন পূর্বের প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বলে জানায়।
গুগলের একজন মুখপাত্র বলেন, "আপিল আদালত উভয় লঙ্ঘন এবং দাবীকৃত পেটেন্টের বৈধতা পর্যালোচনা করবে। এর বেশির ভাগের সাথে মূল অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এর কোন সম্পর্ক নেই, এবং অনেকগুলো মার্কিন পেটেন্ট অফিস কর্তৃক পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। মোবাইল শিল্প অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, নতুন যারা আসছে তারা সহ সকলে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এমন আইডিয়ার উপর ভিত্তি করে নিজেদের আইডিয়া তৈরি করছে। আমরা আমাদের অংশীদারদের সাথে একীভূত ভাবে ভোক্তাদেরকে উদ্ভাবনমূলক পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে দেবার জন্য কাজ করছি, এবং আমাদের এ প্রচেষ্টায় কেউ বাধা সৃষ্টি করে তা আমরা চাইনা।"

গুগলের এই বিবৃতি প্রকাশ পেল অ্যাপল স্যামসাং মামলার রায় প্রকাশের বেশ অনেক দিন পরে। অ্যানড্রয়েড ডিভাইস নির্মাণ এবং বিক্রয়ের দিক থেকে স্যামসাং সবচেয়ে এগিয়ে। আর তাই এই মামলার রায় অ্যানড্রয়েডের ভবিষ্যতের উপর কি প্রভাব বিস্তার করে তা জানতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
এই মুহূর্তে মামলার রায়ে শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ দেবার কথা উল্লেখ করা হলেও আগামী সেপ্টেম্বরে যে শুনানি রয়েছে সেখানে অ্যাপল স্যামসাংয়ের কিছু পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাইবে। অ্যাপল জানিয়েছে এই শুনানিতে আদালতের কাছে সর্বমোট ১৭ ফোন বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আদেশ চাইবে সে। এই তালিকায় গ্যালাক্সি এস থ্রি না থাকলেও এর পুরনো সংস্করণটি রয়েছ। তবে এই রায়ের আলোকে অন্য যে কোন সেট বিক্রয়ের ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা আদেশ চাইতে পারে অ্যাপল।
মামলার সময় অ্যাপল জানায় সে তার প্রযুক্তি ব্যাবহারের অনুমোদন সে মাইক্রোসফটকে দিয়েছে। এবং প্রমাণ হিসেবে উইন্ডোজ ফোন সেভেন চালিত নোকিয়া লুমিয়া হ্যান্ডসেট প্রদর্শন করে আইনজীবী। প্রতিষ্ঠানটির দাবী লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও উইন্ডোজ ফোন এর ডিজাইন অ্যাপলের ফোন থেকে অন্যরকম।

অ্যাপল বর্তমানে আরো দুটো প্রতিষ্ঠান এইচটিসি এবং গুগলের মটোরোলার সাথে মেধাস্বত্ত্ব মামলায় জড়িত রয়েছে।
স্যামসাংয়ের এই পরাজয় অ্যানড্রয়েডের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে আনলেও মাইক্রোসফটের জন্য সুখবর বলে ধারণা করছে অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। ডেল, এইচটিসি, স্যামসাং, এলজি এবং জেডটিই সকলেই ইতোমধ্যে উইন্ডোজ ফোন সেভেন ডিভাইস তৈরি করলেও এতদিন নোকিয়া ছাড়া অন্য কেউ এই অবকাঠামো টিকে ঠিক আপন করে নেয় নি। কিন্তু এ ব্যাপারে মাইক্রোসফট যদি এখন সঠিক ভাবে এগিয়ে আসে তাহলে নির্মাতাদেরকে এই অবকাঠামো ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
প্রযুক্তি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এন্ডার্ল গ্রুপের প্রধান বিশ্লেষক রব এন্ডার্ল বলেন, "অ্যাপলের মেধাস্বত্ত্বগুলোকে এড়িয়ে যাবার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার জন্য বেশ কিছুদিন তারা অ্যানড্রয়েড ব্যবহার বন্ধ রাখবে বলে মনে করছি। আর এর মাধ্যমে মাইক্রোসফটের নতুন অবকাঠামো দুটি - উইন্ডোজ এইট এবং উইন্ডোজ ফোন এইট - জন্য সৃষ্টি হবে নতুন সুযোগ।

অ্যাপলের পেটেন্টগুলো আদালত যদি শেষপর্যন্ত বহাল রাখে তাহলে গুগলকে হয় অ্যানড্রয়েডের কোডে পরিবর্তন আনতে হবে অথবা হ্যান্ডসেট নির্মাতাদেরকে লাইসেন্স ফি প্রদান করতে হবে। আরেকটি উপায় হচ্ছে অ্যাপলের সাথে গুগলের ক্রস-লাইসেন্স চুক্তি।
আমরা ইতোমধ্যে জানি গুগল এবং অ্যাপলের মাঝেও পেটেন্ট যুদ্ধ চলছে। মটোরোলা অধিগ্রহণের পর এই মামলা দায়ের করে গুগল। এই মামলায় গুগল যদি জেতে তাহলে সে অ্যাপলের আইওএস পণ্যগুলো বিভিন্ন বাজারে নিষিদ্ধ করতে পারবে। আর এরকম ঘটনা ঘটলে প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে মিটমাট করে নেবার চেষ্টা যে অ্যাপল করবে না তা মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা।
এদিকে মামলার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারেও উত্থানপতন দেখা গিয়েছে। সিউলে স্যামসাংয়ের শেয়ার মূল্য ৭.৫ শতাংশ কমে যায় সোমবার, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি $১২ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর হেলসিঙ্কিতে নোকিয়ার শেয়ার মূল্য ৭.৭শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিউইয়র্কে অ্যাপলের স্টক ২.১% আর মাইক্রোসফটের শেয়ার ০.৮% বৃদ্ধি পায় এবং গুগলের শেয়ার মূল্য ১.৪% কমে গিয়েছে।








