অ্যাপল স্যামসাং পেটেন্ট যুদ্ধে অ্যাপলের জয়

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) অ্যাপল স্যামসাং পেটেন্ট যুদ্ধে অবশেষে অ্যাপলকে জয়যুক্ত করলো। তিন সপ্তাহ ব্যাপী দুই পক্ষের যুক্তি-তর্ক শোনার পর জুরিরা ২১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট পর তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। জুরিদের মতে স্যামসাং ২১টি পণ্যে অ্যাপলের "৩৮১ বাউন্স ব্যাক" পেটেন্ট এবং ৩টি পণ্যে "পিঞ্চ-অ্যান্ড-জ্যুম সংক্রান্ত ৯১৫" পেটেন্ট ভঙ্গ করেছে। আর এই পেটেন্ট ভঙ্গের জন্য অ্যাপলকে স্যামসাং $১.০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে জুরিবৃন্দ।

জুরিদের মতে স্যামসাং যে অ্যাপলের পেটেন্ট ভঙ্গ করছে সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যনির্বাহীরা জ্ঞাত ছিল অথবা তাদের জানা উচিত ছিল। এছাড়াও অ্যাপল আইফোনের নকশার উপর ভিত্তি করেই স্যামসাং তার স্মার্টফোন নির্মাণ এবং হোমস্ক্রিন গুইটি (GUI) রচনা করেছে বলে উল্লেখ করেছে জুরিরা।

তবে গ্যালাক্সি ট্যাব আইপ্যাডের নকশা পেটেন্টটি ভঙ্গ করে নি বলে উল্লেখ করে জুরিরা।

তাই বলে স্যামসাংয়ের কপাল খারাপি এখানেই শেষ হয় নি, বরং জুরিরা অ্যাপলের সর্বমোট সাতটি পেটেন্টের মধ্যে পাঁচটি পেটেন্ট স্যামসাং ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করেছে বলে রায় দিয়েছে। এবং এই রায়ের বৈধতা ইউটিলিটি, ডিজাইন ও ব্যবসায়িক ডিজাইনের ক্ষেত্রেও বলবত হবে বলে জানিয়েছে।


স্যামসাং অ্যাপলের ট্যাবলেট ডিজাইন নকল করেনি

অ্যাপল আইফোনের থ্রিজি এবং থ্রিজিএস এ স্যামসাংয়ের পেটেন্ট ভঙ্গ করেছে বলে যে দাবী স্যামসাং করেছিল তা বাতিল করে দিয়েছে জুরিরা এবং এ সংক্রান্ত কোন ক্ষতিপূরণ স্যামসাং পাবেনা বলে জানিয়েছে।

অ্যাপল মার্কিন বাজারে বেশ কিছু স্যামসাং পণ্য প্রবেশে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করছে সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্যামসাং। স্যামসাং তার বিবৃতিতে জানিয়েছে, "আমরা এ রায় পরিবর্তনের জন্য এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো, আর যদি ব্যর্থ হই তাহলে কোর্ট অব আপিলে আপিল করবো।"

নয় সদস্য বিশিষ্ট জুরিরা ৭০০ প্রশ্নের উত্তরের উপর ভিত্তি করে সকলে একমত হয়ে এই রায় দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মামলায় অ্যাপল যে পরিমাণ ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল তা দেয়া হয় নি। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে $২.৫ বিলিয়ন ডলার দাবী করলেও পেয়েছে মাত্র $১.০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর স্যামসাং পেয়েছে $৫১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি মামলার রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, "স্যামসাং এর ব্যবহার যে ইচ্ছাকৃত তা উল্লেখের মাধ্যমে (আদালত) পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিল চুরি করা ঠিক নয়।"

স্যামসাং এই রায়কে "আমেরিকার ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর" হিসেবে উল্লেখ করেছে। এবং জানিয়েছে, "এর ফলে পছন্দের পরিমাণ কমে যাবে, উদ্ভাবন কমে যাবে এবং মূল্য বৃদ্ধি পাবে।"

তবে স্যামসাংয়ের এই বক্তব্যের সাথে একমত নয় গার্টনারের গবেষণা পরিচালক মাইকেল গুটেনবার্গ। তার মতে মামলার রায় এই শিল্পকে 'আরো উদ্ভাবনী এবং পার্থক্য তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করবে।"

তিনি আরো বলেন, "মামলাটির ফলাফলের দীর্ঘকালীন প্রভাব ভোক্তাদের জন্য উত্তম বলে বিবেচিত হবে। অ্যাপলের প্রযুক্তি এবং নকশা ধার নেবার চিন্তা যারা করছিলেন তারা এখন এ ধরণের কাজ করার আগে দুইবার চিন্তা করবেন।"

"এই মামলার মাধ্যমে অ্যাপল জানাতে চেয়েছিল ভালো অভিজ্ঞতা দেবার জন্য অ্যাপলের নকশা বা প্রযুক্তি নকল করার প্রয়োজন নেই এবং এই মুহূর্তে সেই কাজটি শুধু নোকিয়া এবং রিম তার ব্ল্যাকবেরির মাধ্যমে করছে।"


এই ফোনগুলোর মাধ্যমে অ্যাপলের পেটেন্ট ভঙ্গ করেছে স্যামসাং

স্যামসাং এবং অ্যাপল ছাড়াও আজ পর্যন্ত মোবাইল ডিভাইস-প্রস্তুতকারকদের মধ্যে অসংখ্য পেটেন্ট সংক্রান্ত মামলা হয়েছে কিন্তু তা সত্ত্বেও এই পেটেন্ট সংক্রান্ত মামলাটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হবার কারণ হিসেবে শুধু ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নয় বরং মোবাইল ক্ষেত্রের উপর এর ভবিষ্যৎ প্রভাব এবং পেটেন্ট লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যে প্রভাব মামলাটি বিস্তার করবে তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

যদিও এই মামলায় যে সকল পণ্য নিয়ে অ্যাপল এবং স্যামসাং যুদ্ধ করেছিল সেগুলোর আপডেট ইতোমধ্যে বাজারে চলে এসেছে তারপরেও অ্যাপল জানিয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর এর ফলো-আপ শুনানির পর আদালতের হুকুমের উপর ভিত্তি করে উক্ত পণ্য বিক্রয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা চাইবে সে।

এছাড়া এই মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে অন্য যে কোন অ্যানড্রয়েড ওএস ভিত্তিক মোবাইল ফোন নির্মাতা তাদের গুই এ অ্যাপলের ইউজার ইন্টারফেসের এলিমেন্ট নকল বা প্রতিলিপি করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।