বাংলালিংকের গ্রাহক প্রতারণা: মাফ চেয়ে গ্রাহকের ৯২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার দায় এড়াতে চাইছে

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন কোম্পানী বাংলালিংকের "নবাবী কলরেট প্যাকেজ"-এর মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া ৯২ কোটি ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৪ টাকার পুরোটাই ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে তা ফেরত দিতে বাংলালিংককে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি। একই সঙ্গে এই অপরাধের জন্যে তাদেরকে আরো ১০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলালিংকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ। তবে বাংলালিংক চাইছে ‘ভুল’ স্বীকার করে মাফ চেয়ে দায় এড়াতে।

চিঠির বিষয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান বলেন, এসব বিষয়ে বাংলালিংকের কোন বক্তব্য থাকলে তারা নিশ্চয়ই সেটি জানাতে পারে। সেই সুযোগ চিঠিতে দেওয়া রয়েছে। তবে গ্রাহকের কাছে থেকে ‘অবৈধ’ উপায়ে নেওয়া টাকা ফেরত দিতেই হবে।

এদিকে বাংলালিংকের রেগুলেটরি অ্যান্ড লিগাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক জাকিউল ইসলাম মিডিয়াকে জানিয়েছেন, চিঠি হাতে না পেলেও বিটিআরসি’র চিঠির বিষয়টি জেনেছেন তারা। তবে ক্ষমা চাইলেই বিটিআরসি তাদের মাফ করে দেবে বলে জেনেছেন। সেক্ষেত্রে অনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে এমন অপরাধ দ্বিতীয়টি আর হবে না বলেও বাংলালিংক অঙ্গীকার করবে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত বছরের শেষ দিকে বাংলালিংক "নবাবী কলরেট প্যাকেজ" চালু করে। সেখানে দিনে চার টাকা দিলে সারা দিন যে কোনো অপারেটরে ৬৫ মিনিটে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। কয়েক মাসের মধ্যে ওই চার টাকার হিসেব গিয়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৩৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৪ টাকা। এখন এই টাকার পুরোটাই গ্রাহকদের ফেরত দিতে বলছে বিটিআরসি। সেক্ষেত্রে প্রি-পেইড গ্রাহকদের আই-টপআপের মাধ্যমে এবং পোষ্ট-পেইড গ্রাহকদের মাসিক বিলে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।

এর আগে ৮ আগষ্ট ২০১২, বাংলালিংককে এমন জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। তবে বিটিআরসি’র সিদ্ধান্তের পর নানা দিক দিয়ে তা থামিয়ে রাখার চেষ্টা চলানো হয়। এমনকি টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু নিজেও এই দফায় বাংলালিংককে মাফ করে দেওয়ার জন্যে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এবং টেলিকম সচিবও তার সমর্থন দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য যে, বাংলালিংকের এই গ্রাহক জালিয়াতির খবরটি দেশের বাইরেও ছড়িয়ে গেছে। বিশ্বখ্যাত ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের একজন সাংবাদিক এবং আরো কিছু নিউজ এজেন্সি বিষয়টির উপর বর্তমানে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।