বিটিআরসি-তে ঈদ সেলামী নিয়ে তুলকালাম কান্ড

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) ঈদের ছুটির আগে শেষ অফিসের দিন (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যানের স্টাফদেরকে ঈদের সালামী দেয়া নিয়ে তুলকালাম কান্ড হয়ে গেছে। সেখানে সিবিএ নেতাদের সাথে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে বাক-বিতন্ডা হয়, এবং এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেশামাল হয়ে ওঠে।

চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদের সঙ্গে ওই দিন সব মোবাইল ফোন অপারেটরের "১০ সেকেন্ড পালস চালু করা" বিষয়ে বৈঠক ছিল। বৈঠকের জন্যে বেলা ১১টার দিকে সবাই আসলেও তা শুরু হতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়।

মিটিং-এর জন্য অপেক্ষা করতে করতে এক পর্যায়ে এয়ারটেলের কর্মকর্তা জনাব আশরাফ চৌধুরী চেয়ারম্যানের পিএস-এর কক্ষে প্রবেশ করেন। তার একটু পরেই সেখানে এসে উপস্থিত হন ৩০-৩৫ জন সিবিএ নেতা এবং কর্মীরা। তারা আশরাফ চৌধুরীকে ঘিরে ধরেন। এবং পিএস-এর ড্রয়ার থেকে একটি টাকার প্যাকেট বের করে তাকে চার্জ করেন।

সিবিএ নেতারা চিৎকার করে অভিযোগ করতে থাকেন যে, টেলিকম অপারেটররা বড় বড় সাহেবদেরকে নানান ধরনের উপঢৌকন এবং উৎকোচ দিয়ে থাকে, তাহলে তারা কিছু পাবে না কেন? এই নিয়ে চেয়ারম্যানের অফিসের সামনেই বিশাল জটলা এবং চিৎকার চেচামেচি শুরু হয়ে যায়।

সিবিএ নেতাদের অভিযোগ, টেলিকম অপারেটররা বিটিআরসি'র কর্মকর্তাদের সরাসরি টাকা দেয়া সহ অন্যান্য ঈদের গিফট দিয়েছে। এবং বিভিন্ন ষ্টাফদেরকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঈদের বকশিস দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে, সকল অপারেটররাই কমবেশি এই কাজটি করেছে। এবং বিটিআরসি-তে এটি একটি প্রচলিত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে।

উক্ত মিটিং-এ উপস্থিত ছিলেন এবং যাদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটেছে তাদের অনেকেই প্রিয়.কম-কে জানিয়েছেন যে, বিটিআরসি-তে এমন হৈ চৈ আগে কখনই হয়নি। বিশেষ করে টাকা-পয়সার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে এমন পরিস্থিতি আগে তারা দেখেন নি। তবে, বিষয়টি যে দিনে দিনে এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছে সেটা তারা নিশ্চিত করেন।

খবরটি জেনে ক্ষুব্ধ হন বিটিআরসি'র চেয়ারম্যানও। ঘনিষ্ঠদের কাছে তার এই ক্ষোভের কথাও জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক কর্মকর্তা প্রিয়.কম-কে জানান যে, চেয়ারম্যান বিষয়টি ভালো চোখে দেখেননি। যেহেতু বিষয়টি তার অফিসের স্টাফদের দেয়া হয়েছে, তাতে তিনি বিরক্ত হয়েছেন।

বিটিআরসি'র চেয়ারম্যান তার বিরক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, এভাবে কেউ টাকার গরম দেখিয়ে গেলে তো বিপদে পড়তে হবে। তিনি আরো বলেন, তিনি নিজে যেখানে ২’শ থেকে ৫’শ টাকা বকশিস দেবেন বলে ঠিক করে রেখেছিলেন সেখানে অন্য অপারেটররা এসে এতো টাকা বকশিস দিয়ে তাকে অপমান করাটা ঠিক হয়নি।

সংশোধনী: প্রাথমিক রিপোর্টে গ্রামীণফোনের নাম উঠে এসেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে, অন্যান্য অপারেটরাও একই ধরনের কাজ করেছেন। তাই রিপোর্টটি সংশোধন করা হয়েছে।