বাংলালিংকের গ্রাহক প্রতারণা: এই দফায় মাফ করে দিতে টেলিকম মন্ত্রী-সচিবের অনুরোধ। অনড় বিটিআরসি

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) এই দফায় দেশের দ্বিতীয় গ্রাহক সেরা অপারেটর বাংলালিংককে মাফ করে দিতে অনুরোধ জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এবং সচিব সুনীল কান্তি বোস। আজ সোমবার মন্ত্রনালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মন্ত্রী এবং সচিব টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানের প্রতি এ অনুরোধ জানান। তবে চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ তাদেরকে জানিয়ে এসেছেন তাদের পক্ষে আর পেছনে ফেরা সম্ভব নয়।

গ্রাহকদের কাছ থেকে ‘নবাবী কল রেট’ নামের একটি প্যকেজের মাধ্যমে অন্তত ৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা তুলে নেয় বাংলালিংক। এই প্যাকেজটির প্রতি বিটিআরসি’র কোনো অনুমোদন ছিল না। ফলে যতো টাকা তোলা হয়েছে তার পুরোটাই অবৈধ। এখন এই পুরো টাকা আবার গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া এবং একই সঙ্গে আরো দশ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিটিআরসি। সোমবার এ সংক্রান্ত চিঠি বাংলালিংকে পাঠানোর কথা থাকলেও মন্ত্রী-সচিবের সঙ্গে বৈঠক থাকায় চিঠিটি পাঠানো সম্ভব হয়নি।

তবে মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই তা পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান।

মন্ত্রনালয়ের বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এই বারের মতো বাংলালিংককে মাফ করে দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। এসময় সচিব নিজেও বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগে দ্বিতীয় প্রজন্মের (টু জি) লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। এখনই এমন একটি ঝামেলায় গেলে তা খুবই খারাপ দেখাবে।

তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে বাংলালিংক শেষ পর্যন্ত মামলায় যেতে পারে বলেও একটি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। গতকালের বৈঠকে এ বিষয়টিও মনে করিয়ে দেওয়া হয় বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানকে। এসময় সচিব বলেন, এমনিতেই বিটিআরসি অপারেটরদের সঙ্গে অনেক মামলায় জড়াচ্ছে। আরো মামলায় জড়ানো ঠিক হবে কিনা সেটিও ভেবে দেখতে হবে।

মন্ত্রী-সচিবের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান বলেন, যেহেতু কমিশন বৈঠকের মাধ্যমে জরিমানা এবং গ্রাহকদের টাকা ফেরতের কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এখন তার একার পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব নয়। তাছাড়া পুরো বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে চলে এসেছে। এ পর্যায়ে এখান থেকে পিছিয়ে পড়লে তা নিয়ে আরো নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি সূত্রই এসব খবর নিশ্চিত করেছে।

গত বছরের শেষ দিকে বাংলালিংক একটি প্যাকেজ দেয় যেখানে দিনে চার টাকা দিলে ৬৫ পয়সা মিনিটে কথা বলা যাবে। বিটিআরসি এ বিষয়ে পরে বাংলালিংকের কাছে জানতে চায়। তারা জানিয়েছে, প্রতিদিন চার টাকা হারে ৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্যাকেজটিতে বিটিআরসি’র অনুমোদন ছিল না।

মঙ্গলবার বিটিআরসি বাংলালিংকে যে চিঠি দেবে তাতে পোষ্ট পেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা মাস শেষে বিলের মাধ্যমে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রিপেইড গ্রাহকদের কাছ থৈকে নেওয়া টাকা ‘আই টপ আপ’এর মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগনের টাকা নিয়ে প্রতারণা করার কোনো সুযোগ নেই। গ্রাহকদের টাকা তাদের কাছে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার কমিশন বৈঠকে বিটিআরসি বাংলালিংকে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া এবং একই সঙ্গে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়। আর সবার আগে প্রিয় টেকে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনেকেই এ বিষয়ে আগ্রহ দেখায়। দেশের প্রচলিত সংবাদপত্রেও প্রিয় টেকের খবরের পর বিষয়টি সামনে আসে।