ঈদের কেনাকাটা ফেসবুকে

badol khan's picture

(প্রিয় টেক) মানুষের জীবন যাত্রার সাথে ফেসবুক গভীর ভাবে জড়িয়ে গেছে। ফেসবুকের ছোঁয়া লেগেছে সবখানে। কোন আনন্দের খবর বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি ফেসবুকের দ্বারস্থ হয়। তেমনি মন খারাপের খবর ফেসবুকের মাধ্যমে মুহূর্তে মধ্যেই পৌঁছে যায় প্রিয়জনে কাছে। বাঙালী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদের সময় পছন্দের নতুন নতুন পোশাক কেনার জন্য এই মার্কেট সে মার্কেট ঘুরে পাওয়া যায় না। আপনার প্রযুক্তির প্রিয় বন্ধু ফেসবুক ঈদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ঈদের এই সময় ফেসবুকে ক্লিক করেই কিনতে পারবেন আপনার পছন্দের পোশাক, গয়নাসহ বিভিন্ন উপকরণ।

বর্তমানে ঈদের সময় প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুগে ঘরে বসেই ফেসবুকের মাধ্যমে মিলবে হালফ্যাশনের খবরাখবর। শুধু খবর নিলেই তো হবে না, কিনতেও পারবেন পছন্দের পোশাক। ফেসবুকে থাকা গয়নার ছবি দেখে ঘরে বসে থেকেই চলতে পারে কেনাকাটা। পরিচিত ফ্যাশন হাউস তো আছেই। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফেসবুকে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো ফ্যাশন পেইজ।

ফেসবুকে ঈদের কেনাকাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে দেশীয় ফ্যাশন হাউজ রং-এর ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘কাজের ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলো হয়ে উঠেছে এখন বিনোদনের মাধ্যম। তাই ফ্যাশন নিয়ে সহজে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে এর বিকল্প নেই। এবারের ঈদ কেনাকাটায় বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয়তাও পেয়েছে এই ফ্যাশন পাতাগুলো।’

ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ফেসবুক ব্যবহার করছে বেশ আগে থেকেই। ঈদের সময় ফেসবুক কি কেনাকাটার ক্ষেত্রে কোন উপকারে আসে? জানতে চাই তার কাছে। জবাবে শারমিন সুলতানা বলেন, আমরা অনেকটা সময় ফেসবুকে কাটাই। ফেসবুকের মাধ্যমে বর্তমানে অনেক ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ঈদের সময় দেশে অনেক ব্যবহার প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের মাধ্যমেই ব্যবসা পরিচালনা করেছে। এখন অনেক সহজ ফেসবুকের কল্যাণে কেনাকাটা করা যাচ্ছে। এর ফরে ঈদে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে গেছে। ফেসবুকের মাধ্যমে বর্তমানে পছন্দমতো পোশাকটি ঘরে বসে অর্ডার দিলেই এসে পৌঁছে যাচ্ছে। বলেন তিনি।

দেশীয় তাঁতের ও সুতির সালোয়ার-কামিজ পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টপ, শাড়ি মিলবে রং-এর ফ্যাশন পাতায়। রঙ এর ফেসবুক পেজে দেখে পেয়ে যেতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাকটি।
অঞ্জনস-এর ফ্যাশন পাতায় উঁকি দিলে সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি আর শাড়ির পাশাপাশি দেখতে পাবেন রুপার তৈরি চমৎকার সব গয়না।

ধানমন্ডিতে অবস্থিত গ্ল্যামগার্ল ডিজাইনার ক্রিয়েশন অ্যান্ড জুয়েলারিতে পাবেন দেশীয় ডিজাইনারের তৈরি লম্বা কামিজ, শাড়ি ও জুয়েলারি। গ্ল্যামগার্লের নতুন নতুন সংগ্রহগুলো দেখতে তাঁদের ফেসবুক পেজে চোখ রাখতে বলেন এই পেইজের স্বত্বাধিকারী শাবনূর আহমেদ। হালফ্যাশনের জুতা ও ব্যাগ মিলবে শিমার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে। বিভিন্ন নকশায় স্যান্ডেল, পাম্প শু, চটি জুতা এবং বাহারি সব ডিজাইনের কাচ ব্যাগ আছে তাঁদের সংগ্রহে বলে জানান শিমার স্বত্বাধিকারী মাহজাবিন সায়েদ। আপনি চাইলে তাঁদের বনানীর দোকানেও একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন।

বাহারি কারুকাজের বালা, কানপাশাসহ বিভিন্ন জুয়েলারির খোঁজ যারা করছেন তাঁদের জন্য আছে ‘আবরণ’-এর ফেসবুক পেজটি। আবরণের স্বত্বাধিকারী সাবরিনা জাহান জানান, এবারের ঈদ সামনে রেখে সোনার ওপর কাটাই কাজ আর নবরত পাথরের গয়না এনেছেন তাঁরা। এ ছাড়া সালোয়ার-কামিজ পাবেন এখানে এবারের ঈদে। জারিফ ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে পাবেন জামদানি ও মসলিন কাপড়ে নকশা করা শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ। বসুন্ধরা সিটিতে তাঁদের শোরুমও আছে।

যাঁরা একটু ভিন্ন কাটের সালোয়ার-কামিজের খোঁজ করছেন, তাঁরা ঘুরে দেখতে পারেন অ্যাডাম অ্যান্ড ইভের ফেসবুক পেজে। লম্বা কামিজে ফুলের নকশা চোখে পড়বে আপনার। সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি শাড়ি, পাঞ্জাবি, কাফতানও রয়েছে তাঁদের ঈদ সংগ্রহে। অরচার্ড পয়েন্টে তাদের শোরুমেও একবার ঢুঁ মারতে পারেন।

যাঁরা একটু জমকালো শাড়ির খোঁজে আছেন তাঁরা ঘুরে দেখতে পারেন ‘স্টাইল ওয়ার্ল্ড’-এর পেইজটি। জর্জেট, তসর, সিল্কসহ বিভিন্ন ডিজাইনারের করা শাড়ি পাবেন এখানে। সেলাইবিহীন সালোয়ার-কামিজ চাচ্ছেন যাঁরা ‘আই ব্লক’-এর পেইজে একবার ঢুঁ দেবেন। এ ছাড়া ডিজাইনার মণিদীপা দাশগুপ্তও তাঁর প্রোফাইলের মাধ্যমে সেলাই ছাড়া কাপড় বিক্রি করেন। ছেলেদের পোশাকের জন্য বিখ্যাত ক্যাটস আই। ক্যাটস আই এর ফেসবুক পেজে আপনি পছন্দ করে নিতে পারেন জামা, ফতুয়া, পাঞ্জাবীসহ ছেলেদের বিভিন্ন রকম পোশাক। এছাড়া মেয়েদেরও পোশাক দেখতে পাবেন ফেসবুক পেজে।

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে হরেক রকম শাড়ির পসরা সাজিয়েছে বেরং। মসলিন, জামদানি, তাঁত, সিল্ক, নেটসহ বিভিন্ন কাপড়ে এমব্রয়ডারি, ব্লক, হাতের কাজ করা এসব শাড়ি অনলাইনে দেখে অর্ডার করা যাবে

লেস, ইয়োক, প্যাচওয়াক, এমব্রয়ডারি, বোতাম ইত্যাদির ব্যবহারে সালোয়ার-কামিজ ও ফতুয়া তৈরি করেছে আরুশা। এ ছাড়াও ফ্যাশন হাউজি চৈতি, যাত্রা, ক্যাটস আই, বাটন অ্যান্ড বোজ, ডিলাইটেড, কিনারা, ড্রিমস এক্সেসরিজের পেইজগুলোও দেখে নিতে পারেন।

তবে কেনাকাটার আগে অবশ্যই পেইজগুলো নির্ভরযোগ্য কি না, তা আগে ভেবে নিন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে নিন। বিভিন্ন পেইজের কেনাকাটার প্রক্রিয়ার মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে, সঠিক প্রক্রিয়াটি জেনে নিন। প্রয়োজন হলে ফোনে খবরাখবর নিয়ে নিন। আপনি যে পোশাকটি পছন্দ করেছেন তার কোড নম্বরটি সঠিকভাবে দেখে নিন।