ইয়াহুর ১৫০০ কর্মী ছাটাই এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়ার

(প্রিয় টেক) একেই বুঝি বলে কপালের ফের খণ্ডায় কে! ইয়াহুর প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী স্কট থম্পসন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছাটাই করার সিদ্ধান্ত নেন, তাতে নাখোশ হয়ে কেঁচো খুড়তে লেগে যায় বেশ কিছু কর্মী আর তাতে সাপ বের হয়ে যাওয়ায় বেচারাকে পদত্যাগ করতে হয়। আর সেই স্থান দখল করে গুগলের ম্যারিসা মেয়ার। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হল না! প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেয়ার পরই ছোট কিছু প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ ও বিশ্বব্যাপী ১,৫০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছেন তিনি। সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের কাছে পাঠানো এক নথি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারহোল্ডারদেরকে যে বিলিয়ন ডলার দেবার অঙ্গীকার করেছিল তা বাতিল করে দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। আলিবাবার শেয়ার বিক্রয় লব্ধ অর্থ থেকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেবার কথা থাকলেও পরিকল্পনায় বাঁধা সৃষ্টি করেছেন মেয়ার।
অপ্রত্যাশিত এ খবরটি প্রকাশ হলে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম গত বৃহস্পতিবার ৩ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির আয়, শেয়ার মূল্য ও নতুন সেবা বাড়ানোর জন্য ইয়াহুকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন মেয়ার। গত পাঁচ বছরে ইয়াহুতে যোগ দেয়া পঞ্চম প্রধান নির্বাহী মেয়ার। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের আশা মেয়ারের অধীনে ইয়াহু আবার ইন্টারনেটের বাজারে ঘুরে দাঁড়াবে।
দীর্ঘ মেয়াদী শেয়ার হোল্ডারদের মূল্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে মেয়ার সম্ভাব্য অধিগ্রহণ, দ্বিতীয়ার্ধে ১৫০০ কর্মী ছাটাই এবং আলিবাবা বিক্রয়ের কার্যক্রম সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

এদিকে উচ্চ পদগুলোতে পরিবর্তন আনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে মেয়ার। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ দিন মানব সম্পদ বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ডেভিড উইন্ডলি পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন। তার এক ধাপ নিচের ব্যক্তিকেও ইয়াহু ছাড়তে হয়েছে। এই দুইজনের অবর্তমানে মধ্যবর্তীকালিন সময়ে দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রিস্টেন রবিনসন।
এছাড়া টুইটারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা কেটি জ্যাকব স্ট্যান্টনকে ইয়াহু নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে অলথিংকসডি। স্ট্যান্টন ১৯৯২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ইয়াহু ফাইনান্সে কর্মরত ছিলেন।
ইয়াহুকে নিয়ে এখন হতাশায় প্রতিষ্ঠানটির বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী। বাজারে নতুন কিছু আনতে না পারায় ইন্টারনেটের বাজার দখল ক্রমেই কমছে প্রতিষ্ঠানটির। এর প্রভাব পড়ছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের ওপরও। দিন দিন কমে চলেছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম। সে হিসেবে মেয়ারের সিদ্ধান্তকে অন্ধভাবেই অনুসরণ করবে বলে মনে করছে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞেরা।













