বাংলালিংকের গ্রাহক প্রতারণা: আজ জরিমানার নোটিশ পাঠাবে বিটিআরসি

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) অনৈতিকভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা কামানোর ৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার চিঠি আজ সোমবার পাবে বাংলালিংক। সকালেই অপারেটরটিকে এ চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ।

এবং গ্রাহকদেরকে কিভাবে টাকা ফেরত দিতে হবে সেই বিষয়টিও পরিস্কারভাবে উল্লেখ করে দেয়া হচ্ছে। বিটিআরসি বলেছে, পোষ্ট পেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা মাস শেষে বিলের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে প্রিপেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ‘আই-টপ-আপ-এর মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, জনগনের টাকা নিয়ে প্রতারণা করার কোনো সুযোগ নেই। গ্রাহকদের টাকা তাদের কাছে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে।

তবে বাংলালিংকের একটি সূত্র বলছে, এ বিষয়ে বিটিআরসি’র সঙ্গে অনেক দিন থেকেই তাদের আলোচনা চলছিল। বিটিআরসি শেষ পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত নেবে এমনটি তারা চিন্তাও করেননি। তবে এটি ঘটলে শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে হবে তাদের।

তবে জরিমানার পরিমান এতো কম কেন, এই বিষয়ে বিশ্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। তারা মনে করছেন, ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা খুবই সামান্য। এই টাকা তুলতে বাংলালিংকের এক দিনও সময় লাগবে না। বাংলাদেশে টেলিকম নিয়ম ভাঙ্গার শাস্তি এখন অনেক বাড়ানো হয়েছে। বাংলালিংক যেভাবে বার বার নিয়ম ভেঙ্গে প্যাকেজ ঘোষণা করে গ্রাহকদেরকে এভাবে ঠকাচ্ছে, সেক্ষেত্র তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ ছিল কয়েশ কোটি টাকা।

পাশাপাশি অন্যায় করে উল্টো আদালতের আশ্রয় নিয়ে বিটিআরসি এবং বাংলাদেশের স্বার্থকে খাটো করার যে প্রয়াস তারা চালাচ্ছে, সেই বিষয়টি নিয়েও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে অনেকেই এর জন্য বাড়তি জরিমানা করার প্রস্তাব করেন।

এদিকে বাংলালিংক ছাড়াও তৃতীয় গ্রাহক সেরা অপারেটর রবি এবং এয়ারটেল বেশ কিছুদিন থেকে মোবাইল সেট উপহার দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছিল। কিন্তু এগুলোর কোনটারই অনুমতি নেয়া হয়নি। অথচ নিয়মানুসারে, বাজারে যে কোনও অফার দেয়ার আগে লিখিত অনুমতি নেয়ার আইন রয়েছে।

দীর্ঘদিন যাবত বাংলালিংক বাংলাদেশের টেলিকম নিয়মনীতিকে মোটেও তোয়াক্কা করছে না। এবং এভাবে বিনাঅনুমতিতে নানান ধরনের প্যাকেজ বাজারে ছেড়েছে, এবং গ্রাহকদেরকতে বিভ্রান্ত করে বোকা বানিয়ে টাকা তুলেছে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যে, প্যাকেজ বাজারে ছেড়ে মুনাফা তুলে নেয়ার অনেক পরে গিয়ে তদবিরের মাধ্যমে সেই প্যাকেজের অনুমতি নেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান বলেন, ভায়োলেশন এবং কমপ্লায়ান্স নিয়েই বিটিআরসি এখন বেশী কাজ করবে। গ্রাহকের স্বার্থের দিকেই তাদের বেশী মনযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের শেষ দিকে বাংলালিংক একটি প্যাকেজ দেয় যেখানে দিনে চার টাকা দিলে ৬৫ পয়সা মিনিটে কথা বলা যাবে। বিটিআরসি এ বিষয়ে পরে বাংলালিংকের কাছে কৈফিয়ত চায়। তারা জানিয়েছে, প্রতিদিন চার টাকা হারে ৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। প্যাকেজটিতে বিটিআরসি’র অনুমোদন ছিল না বলেও বলা হচ্ছে।

আরো আগে বাংলালিংকেরই আইকন নামের একটি প্যাকেজও বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি। কারণ ওই প্যাকেজটিরও কোনও অনুমতি ছিল না। তাছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন কেনাকাটায় বিভিন্ন মাত্রায় কমিশনের ঘোষণা দেওয়া অপর একটি প্যাকেজ নিয়েও কাজ করছে বিটিআরসি। এগুলোর কোনটারই বৈধ অনুমতি নেয়া হয়নি।