তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পে সুখবর

(প্রিয় টেক) পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে ‘দুর্নীতির ষড়যন্ত্র’ হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংক তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণের দাবি জানায়। পরবর্তী সময়ে সড়ক ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলে অফিশিয়ালি কিছু না জানালেও ওই খাতের কয়েকটি প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে নিজেদের বিরত রাখে আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাটি। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি-সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুতেই সহায়তা জোগানো হয় না, এটি নাকি তাদের রীতি। সম্প্রতি সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রীসভা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়ায় আইসিটি (ইনফরমেশন কমিউনিকেশন টেকনোলজি) ও আইটিইএস (ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবলড সার্ভিসেস) সংক্রান্ত বড় প্রকল্পে অর্থায়ন বিষয়ে বিশ্বব্যাংক আবার ইতিবাচকভাবে সাড়া দিচ্ছে বলে জানা গেল গতকাল প্রকাশিত বণিক বার্তার এক প্রতিবেদনে।
প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশে তথ্য ও প্রযুক্তির উন্নয়ন, ই-গভর্নমেন্ট ও প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট— এ তিন পর্যায়ে সিংহভাগ অর্থের জোগান দেবে আইডিএ (ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি)। দ্রুততম সময়ে সরকার গৃহীত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর বাস্তবায়ন তো বটেই, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা, গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতেও দরকার এটি। অতীতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের আইসিটি খাতের ওপর এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করে, সবল দিক হলো— এখানে স্বল্প সময় ও অর্থ বিনিয়োগেই দক্ষ জনবল তৈরি সম্ভব; এদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ছে দ্রুত। সাধারণত এখানকার শ্রমশক্তিও প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগত। ওই গবেষণায় পেশাদারির ঘাটতি ও অবকাঠামোগত অসুবিধাকে এ দেশের আইসিটি খাত বিকাশের প্রধান অন্তরায় বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে বিশ্বব্যাংকের ‘লেভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক প্রকল্পটিতে জোর দেয়া হয়েছে স্থানীয় জনসম্পদ, বিশেষত আইসিটি খাতে আসা নারীদের কর্মদক্ষতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে তোলায়। লক্ষ রাখা হয়েছে, খাতটি যাতে নিজে বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি গার্মেন্টসহ অন্যান্য খাতের সহায়ক এমনকি পরিপূরক হয়েও দাঁড়াতে পারে। পরিকল্পনা অনুসারে এসএমই খাতের বিকাশে যথেষ্ট সহায়ক হবে ওই প্রকল্প। এতে গুরুত্বসহ উল্লেখ করা হয় ক্লাউড কম্পিউটিং, মোবাইল সার্ভিস ডেলিভারি ও তথ্যের নিরাপত্তাগত দিকটিও। নিরাপদ ও যুগোপযোগী ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে এসবের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্প অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের ফের ইতিবাচক মনোভাব দেখানোটা সুখবর বটে।
জানা গেছে, একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে গভর্ন্যান্স অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি অ্যাকশন প্ল্যান যাচাইসহ কয়েকটি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় প্রকল্পটিতে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামী মাসেই। এটি যেন ভেস্তে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শুরুতে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল পদ্মা সেতুসহ বিশ্বব্যাংকের বেশকিছু প্রকল্পেই। এ অবস্থায় যেসব শর্ত মেনে তাদের কাছ থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে, সেগুলো পালনে আরও যত্নশীল হওয়া চাই। আইসিটি ও আইটিইএস-সংক্রান্ত মধ্যমেয়াদী ও সফট লোনের এ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান সহজে শক্তিশালী করে তোলার সুযোগ পাব আমরা।
সৌজন্যে: বণিক বার্তা










