সিরিয়ায় সামাজিক মাধ্যমগুলো যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে

(প্রিয় টেক) আরবের দেশগুলোর সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর অবসান অনস্বীকার্য। কয়েকদিন আগে দেশগুলোতে যে গণ বিপ্লবের জোয়ার এসেছিল সেখানে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সামাজিক মাধ্যমগুলো। বিপ্লবীরা তাদের কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেবার জন্য ব্যবহার করে ফেসবুক এবং টুইটারকে। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। মুদ্রার অপর পিঠটি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ জনগণের সামনে। তিউনিসিয়ায় আরব বসন্তের ছোঁয়া লাগার প্রায় একবছর পর সংঘর্ষে লিপ্ত সিরিয়ার জন্য প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে। সমস্যা হচ্ছে এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজটি করছে উভয় পক্ষ।

টুইটার, ফেসবুক এবং ইউটিউব এর মত সাইটগুলো এখন সিরিয়ার প্রোপাগান্ডামূলক পোস্ট দিয়ে ভরে উঠেছে - সরকার এবং বিপ্লবী - উভয় পক্ষই এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সমর্থন আদায় করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এমনকি সিরিয়ার সরকার এ কাজের জন্য সিরিয়ান ইলেকট্রনিক আর্মি নামক একটি বিভাগই খুলে ফেলেছে।
সিরিয়ার এ পদক্ষেপ লক্ষ্য করে লন্ডনস্থ রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো জন ব্যাসেট সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সিরিয়ার সাইবার যুদ্ধ পরিচালনা করার ক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টাতে বিস্মিত হবার কিছু নেই। পদক্ষেপটি তাদের রাসায়নিক এবং জৈবিক ওয়ারফেয়ার প্রোগ্রাম এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সিরিয়ায় বাস্তব যুদ্ধের পাশাপাশি যে তথ্য যুদ্ধ চলছে তার প্রধান উদাহরণ হচ্ছে ইউটিউব। ভিডিওতে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে উভয় পক্ষ। ধরুন দুই পক্ষই একই ঘটনার ভিডিও করেছে, কিন্তু ধারণ করা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে। যার মাধ্যমে কোন বিস্ফোরণকে সরকার বিদেশী সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বলে অবহিত করছে আর বিপ্লবীরা বলছে সেটা সিরিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ।
উভয় এই দাবীগুলো যাচাই করার মত সাংবাদিকের অভাব থাকায় গুজবগুলো অনলাইনে সংক্রামক রোগের মত ছড়িয়ে পরছে। রাশিয়ার মন্ত্রীর নামে করা এক জাল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে যখন সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির "মৃত্যু"র কথা প্রচার করলে বিশ্ব তেল বাজারে বিশাল উত্থান-পতনের সৃষ্টি হয়।
আর এই গোলযোগের মধ্যে থেকে সঠিক সংবাদটি খুঁজে নেবার উদ্দেশ্যে "ওয়াচিং সিরিয়া'স ওয়ার" নামক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে দি নিউ ইয়র্ক টাইমস। তারা এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট থেকে সঠিক তথ্যটি খুঁজে পাবার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।

এই তথ্য যুদ্ধের সাথে জড়িয়ে পরছে হ্যাকাররাও। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ব্লগ হ্যাক করে সংবাদের আদলে সরকারের সপক্ষে প্রোপাগান্ডা পোস্ট করে। একই উদ্দেশ্য নিয়ে সংস্থাটির টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়।
তবে ডিজিটাল আক্রমণগুলো সিরিয়ার ভেতর থেকে নাকি বাইরে থেকে করা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই প্রোপাগান্ডাগুলো তারা পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত থেকেই করতে পারে। আর তাই যদি হয় তাহলে আমরা তথ্য যুদ্ধের নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে চলেছি। একে ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ারের নতুন বিশ্ব বিবর্তন বলা যেতে পারে। আর তাই যদি হয় তাহলে খুব শীঘ্রই বাস্তব যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে পরিগণিত হবে।
মার্কিন নেভাল ওয়ার কলেজের মধ্যপ্রাচ্য শিক্ষা বিষয়ের অধ্যাপক হায়াত আলভি বলেন, "সাইবার আক্রমণ আধুনিক যুদ্ধের একটি অংশ। এ ধরণের আক্রমণ আরো বৃদ্ধি পাবে। আর এ ধরণের যুদ্ধে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে 'সত্য'। উভয় পক্ষ তথ্যে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে অপর পক্ষকে পরাজিত এবং নিজেকে জয়ী বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে।"










