সাইবার এসপিওনাজের শিকার লেবাননের ব্যাংক

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) লেবাননের ২৫০০ বেশি কম্পিউটার গাউস নামক একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাস্পারেস্কি। ভাইরাসের কোডের মাঝে জার্মান গণিতবিদ কাল ফ্রেডরিক গাউসের নাম রেফারেন্স হিসেবে থাকায় ভাইরাসটির নাম করণ করা হয়েছে গাউস। বিশ্লেষকেরা জানিয়েছে লেবাননের ব্লুম ব্যাংক, বাইব্লস ব্যাংক এবং ক্রেডিট লিবানেস প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের উপর নজর রাখার জন্য ডেভেলপ করা হয়েছে এই ভাইরাসটি। তবে ক্যাস্পারেস্কি জানিয়েছেন পেপ্যাল এবং সিটিব্যাংকের গ্রাহকরাও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে হিজবুল্লা, সিরিয়া অথবা ইরান সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবার জন্য এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। ব্যাংক জালিয়াতির জন্য যে সকল ভাইরাস তৈরি করা হয়ে থাকে তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এই ভাইরাসটি। সাধারণ ব্যাংক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে আক্রমণ না করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে আঘাত এনেছে বলে জানা গিয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ্রি কার এর মতে মাদকদ্রব্য পাচারকারী এবং মিলিশিয়া গ্রুপের ব্যাপারে তথ্য যোগার করার জন্য মার্কিন সরকার অনেক দিন আগে থেকে লেবাননের ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের উপর লক্ষ্য রেখে আসছে।

ব্যাংক সম্পর্কিত তথ্য ছাড়াও ভাইরাসটি ওয়েব ব্রাউজারের ইতিহাস, পাসওয়ার্ড এবং কম্পিউটারের প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। ধারণা করা হয়েছে এই কম্পিউটার ব্যবহার করে আরো আক্রমণ পরিচালনা করা যায় কিনা তা জানার জন্য প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ক্যাস্পারেস্কি ল্যাব জানিয়েছে ভাইরাসের কোড বিশ্লেষণ করার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও এই ভাইরাস ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারে গোপনে আক্রমণ করতে সক্ষম বলেই তাদের মনে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা ভাইরাসটির কোডের গোদেল নামের একটি মডিউলকে "ওয়ারহেড" হিসেবে দেখছেন। এই কোডের মাধ্যমে বিশাল ক্ষতি সাধন করা সম্ভব বলেও মনে করছেন তারা। গোদেল নামকরণটিও করা হয়েছে একজন গণিতবিদের নামে।


স্টাক্সনেট, দুকু, ফ্লেম এবং গাউস আক্রান্ত দেশ সমূহ

গবেষকদের ধারণা এই ভাইরাসটির পেছনে সেই সকল প্রতিষ্ঠান বা দেশ জড়িত রয়েছে যারা স্টাক্সনেট, দুকু এবং ফ্লেম ভাইরাসের জন্য দায়ী ছিল। এছাড়া গাউসের কোডের ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য এবং এলিমেন্টগুলোর সাথে দুকু, ফ্লেম এবং স্টাক্সনেটের অদ্ভুত মিল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

গাউস নির্মাণের পেছনে সরকার বা অন্যরা জড়িত রয়েছে এই ধারণার মধ্যে দিয়ে ক্যাস্পারেস্কি আবার নতুন করে গোপন সাইবার যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ইরানের পারমানবিক কার্যক্রমে বাধা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১০ সালে স্টাক্সনেট তৈরি করার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় রাষ্ট্র কর্তৃক ভাইরাস নির্মাণ এবং আক্রমণ। পরবর্তীতে আসে দুকু এবং ফ্লেম। দি নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে স্টাক্সনেট ভাইরাসটি রাষ্ট্রপতি ওবামার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ডেভেলপ করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

দুকু এবং ফ্লেম ভাইরাসগুলো ক্ষতির চাইতে তথ্য চুরি করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। গাউস এমন ধরণের ভাইরাস। আর এর সবগুলোতেই রয়েছে স্টাক্সনেটের বৈশিষ্ট্য।

ক্যাস্পারেস্কি জানিয়েছে জুলাই মাসে তারা গাউসের অস্তিত্ব আবিষ্কার করে। আর আবিষ্কারের পর থেকে ভাইরাসটির অনলাইন নিয়ন্ত্রণ সিস্টেমটি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু তারপরেও এই ভাইরাস সম্পর্কে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন তারা।