মোবাইলফোনে আর্থিক সেবা নীতিমালায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

(প্রিয় টেক) মোবাইলফোনে আর্থিক সেবা নীতিমালায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেবাটি যেন ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও দিতে পারে সে বিধান রেখে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গসংগঠন বিকাশের কার্যক্রমের বৈধতা দিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালায় এ পরিবর্তন আনছে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসীম কুমার বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই। বিকাশও নিয়ম মেনে চলছে। আমরা তাদের কোনো সমস্যা দেখছি না। সমস্যা ধরা পড়ছে শুধু মিডিয়ার চোখে।’

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে বিকাশ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক অবসান করতে হলে প্রতিষ্ঠানটির পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর (পিএসও) লাইসেন্স বাতিল করে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার লাইসেন্স দিতে হবে। পাশাপাশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডাররা এ সেবা দিতে পারবে এই নীতিটি মোবাইলফোনে আর্থিক সেবা নীতিমালার ৪ ধারায় যুক্ত করতে হবে এবং ব্যাংকবহির্ভূত মডেল এ সেবা দিতে পারবে— এটি যুক্ত করতে হবে নীতিমালার ৬ ধারায়। বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংকবহির্ভূত মডেল এ ধরনের সেবা দিয়ে আসছে। তবে বাংলাদেশে শুধু ব্যাংকগুলোকে এ সেবা প্রদানের অনুমোদন দেয়া হয়।
ব্র্যাক ব্যাংক ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএসও হিসেবে কাজ করতে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের জন্য অনাপত্তির আবেদন করে। ঐ বছরের ২৩ ডিসেম্বর কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংককে পিএসও হিসেবে কাজ করার জন্য সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনে অনাপত্তি দেয়া হয়। ২০১০ সালের ১২ এপ্রিলও একই বিভাগ থেকে ব্র্যাক ব্যাংককে বিকাশের জন্য পিএসও লাইসেন্স দেয়া হয়। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণীত পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর নীতিমালায়ই বলা আছে, লেনদেন নিষ্পত্তির সঙ্গে যুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানই শুধু এ লাইসেন্স পাবে। এ ছাড়া যারা বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ অর্থ জমা রাখে, সেসব ব্যাংকও এ লাইসেন্স পেতে পারে। তাই এসব নীতিমালায় পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্র্যাক ও বিকাশ দুটোই আলাদা লিমিটেড প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনা পর্ষদও আলাদা। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্র্যাকের মাধ্যমে বিকাশকে পিএসওর জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়। বিকাশ গঠিত হয়েছে আমেরিকান কোম্পানি মানি ইন মোশন ও ব্র্যাকের যৌথ বিনিয়োগে। এরই মধ্যে দেশে ৪ লাখের বেশী গ্রাহক তৈরি করেছে বিকাশ। এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে ১০ হাজারের বেশী। গ্রামীনফোন ও রবির নেটওয়ার্ক ও কয়েকটি আউটলেটের মাধ্যমে সেবাটি দিচ্ছে বিকাশ।
সৌজন্যে: বণিক বার্তা












