১৫ বছরের লাইসেন্স পেল ৪ মোবাইল অপারেটর

priyodesk's picture

(প্রিয় টেক) অবশেষে টুজি লাইসেন্স নবায়ন করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আগামী ১৫ বছরের জন্য এ লাইসেন্স দেয়া হলো চার মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সিটিসেলকে। নবায়নকৃত এই লাইসেন্সের মাধ্যমে আগামী ২০২৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সেবা দিতে পারবে তারা। গতকাল প্রত্যেক অপারেটরকে মোবাইল লাইসেন্স এবং আলাদা করে তরঙ্গ লাইসেন্স দেয়া হয়।


ছবি: রাজিব/বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে নবায়ন করা লাইসেন্স হস্তান্তর করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। এর মধ্য দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে বিটিআরসির চলা নয় মাসের টানাপড়েনের আপাত অবসান হলো।

গতকালের লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়টি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, মন্ত্রণালয়ের সচিব সুনীল কান্তি বোস, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ। অপারেটরদের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টোরে জনসেন, বাংলালিংকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আহমেদ ফাদি, রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল কুনার, সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই খাতে নতুন গতি আসবে। তবে এক্ষেত্রে কারো কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। টেলিকম খাতে আরো নতুন নতুন বিনিয়োগ হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এজন্য বিটিআরসিকে উদ্যোগ নিতে হবে। আগামীতে থ্রি-জি আসছে এবং সব অপারেটররা যেন এ সার্ভিস পায় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়ারও আহবান জানান মন্ত্রী।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, টু-জি লাইসেন্স নবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ হলো বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত জায়গা। এ সেক্টরে যেন আরো বিদেশি বিনিয়োগ হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জিয়া আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে বিটিআরসির লক্ষ্য হবে সেবার মান নিশ্চিতকরণসহ নতুন নতুন সার্ভিস প্রবর্তন করা। সিটিসেল প্রধান নির্বাহী মেহবুব চৌধুরী বলেন, লাইসেন্স নবায়নের পর যে নতুন যাত্রা শুরু হলো তা যেন অব্যাহত রাখতে পারি। আর এ যাত্রা যেন দেশের বৃহত্ স্বার্থে কাজে লাগাতে পারি।

টোরে জনসেন বলেন, লাইসেন্স নবায়নের মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব আরও বাড়ল। এ ছাড়া ভবিষ্যতে থ্রিজি লাইসেন্স দেয়া হবে। ফলে গ্রাহকদের আরও উন্নত সেবাদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ খাতে টিকে থাকতে হবে। এশীয় অঞ্চলে বাংলাদেশেই টেলিনর প্রথম বিনিয়োগ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্স নবায়ন গ্রামীণফোনের জন্য একটি মাইলফলক। বর্তমানে দেশে ৯ কোটির বেশি গ্রাহক রয়েছে। এটি টেলিযোগাযোগ খাত উন্নয়নের নির্দেশক। তবে এখনো এ খাতে উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

আহমেদ ফাদি বলেন, আরও ১৫ বছরের জন্য টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন রোড ম্যাপ তৈরিতে সহায়তা করবে এ লাইসেন্স। এর মধ্য দিয়ে আগামী দিনগুলোয় নতুন প্রযুক্তি ও সেবা দেয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

মাইকেল কুনার বলেন, অপারেটরদের প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও গ্রাহকদের আস্থার ফলেই লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে। গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে অপারেটরদের যে প্রচেষ্টা, লাইসেন্স নবায়ন তাতে গতি সঞ্চার করবে। ফলে গ্রাহকরা আরও উন্নত সেবা পাবেন।

সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহবুব চৌধুরী বলেন, মোবাইলফোন দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ খাতের অবদান আরও বাড়বে। মোবাইলফোন অপারেটররা দেশে ডিজিটাল ডিভাইড দূরীকরণে কাজ করতে পারে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অপারেটরদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে।