এসএমএসে আগ্রহ কম দেশের সেলফোন গ্রাহকের

(প্রিয় টেক) দেশে সেলফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৯ কোটিরও বেশি। তবে এসব গ্রাহকের বেশির ভাগই সেলফোন ব্যবহার করেন শুধু কথা বলার জন্য। বিটিআরসির তথ্যমতে, ২০১১ সালে প্রতি মাসে গড়ে তিন কোটি এসএমএস পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি তিনটি সেলফোন থেকে প্রতি মাসে একটি করে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। নিলসেন মিডিয়া অ্যান্ড ডেমোগ্রাফিক সার্ভের মতে, বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের এক-তৃতীয়াংশ সেলফোন ব্যবহার করেন। সে হিসেবে প্রতি তিনজনের একজনের হাতে সেলফোন রয়েছে। তবে এগুলো কেবল কথা বলার জন্যই ব্যবহার হয়।

এ প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষ সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির বলেন, এসএমএস জনপ্রিয় মূলত এশিয়ার দেশগুলোয়। কথা বলার পাশাপাশি আমাদের দেশেও এসএমএম পাঠানো জনপ্রিয় হচ্ছে।’ অন্যদিকে সেলফোনের বহুমুখী ব্যবহার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে কৃষি থেকে শুরু করে দুর্যোগ মোকাবেলায় সেলফোনের ব্যবহার বহুবিধ। এমনকি দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজই সহজ করে দিয়েছে সেলফোন।
নিলসেন মিডিয়া অ্যান্ড ডেমোগ্রাফিক সার্ভের সূত্রমতে, শিক্ষার হার কম থাকার কারণেই গ্রাহকদের মধ্যে এসএমএস পাঠানোর ব্যাপারে আগ্রহ কম। এর পাশাপাশি সবধরনের সেলফোনে বাংলা কিপ্যাড না থাকায় সাধারণ ব্যবহারকারীরা আগ্রহী হয় না। সম্প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। এ নির্দেশনায় বলা হয়, ২০১২-এর ফেব্রুয়ারির পর থেকে আমদানি করা সব ফিচারফোনে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিপ্যাড থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে শুধু ফিচারফোনে বাংলা কিপ্যাড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরে টাচস্ক্রিন এবং স্মার্টফোনগুলোকেও এ আইনের আওতায় আনা হবে।
ইউকেএইডের অর্থায়নে পরিচালিত ইনফোএসএইড এক গবেষণায় জানায়, দেশের মোট সেলফোন গ্রাহকের ৭৩ শতাংশ সেলফোনের মাধ্যমে রেডিও শুনে থাকেন। দেশের মানুষের আয় বাড়ার কারণে তারা সেলফোনে অর্থ ব্যয় করার মতো সঙ্গতি পেয়েছেন। তবে দেশে এসএমএস জনপ্রিয়তা না পেলেও অন্যান্য কাজে সেলফোনের ব্যবহার বাড়ছে। ২০০৮ সাল থেকেই সেলফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, গ্যাস, টেলিফোন বিল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের সময়সূচি, ভাড়া এবং মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করা যাচ্ছে সেলফোনের মাধ্যমে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ ও কক্সবাজারে সেলফোনের মাধ্যমে দুর্যোগের আগাম খবর প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের সেলফোন দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এখন ব্যাংকিং সেবাও পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ফর ডেভেলপমেন্ট ২০১২: ম্যাক্সিমাইজ মোবাইল’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার চাহিদা এবং মূল্য নির্ধারণে ব্যবসায়ী ও এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ কৃষক এখন সেলফোন ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশ সেলফোনের মাধ্যমে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করে থাকেন।
সৌজন্যে: জেসমিন মলি, বণিক বার্তা










