কলপ্রতি ১০ সেকেন্ড পালস চালুর নির্দেশ বিটিআরসির

(প্রিয় টেক) ১৫ আগস্ট থেকে সেলফোন অপারেটরদের প্যাকেজ নির্বিশেষে কলপ্রতি ১০ সেকেন্ড পালস চালু করতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ নির্দেশনা কার্যকর হলে ৫০ সেকেন্ডের কম কথা বললে ১ মিনিটের বিল কাটতে পারবে না অপারেটরগুলো। আর ১০ থেকে ১৯ সেকেন্ড কথা বললে ২০ সেকেন্ডের বিল কাটা হবে। বর্তমানে কিছু অপারেটর ১ সেকেন্ড কথা বললেও পুরো মিনিটের বিল কেটে রাখে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এমনটি হবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিটিআরসির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। ছয় সেলফোন অপারেটরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ বলেন, অপারেটরদের কল ড্রপের বিষয় বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বেশিরভাগ অপারেটরেরই কল ড্রপ সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় এক মিনিট কথা না বললেও পুরো মিনিটের টাকা কাটা হচ্ছে। এটি বাস্তবসম্মত নয়। এ জন্য ১০ সেকেন্ড পালস গণ্য করতে অপারেটরদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্রাহক স্বার্থ নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ফলে গ্রাহকের প্রতি অপারেটরদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়বে।
বিটিআরসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গ্রাহকরা কল করার পর নেটওয়ার্কের ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে কল ড্রপ হয় এবং পুনঃসংযোগে প্রতিবার ১ মিনিট বা পূর্ণ পালস হিসেবে অধিকহারে কলচার্জ দিতে হয়। এ ছাড়া নির্ধারিত পালসের অংশবিশেষ কথা বললেও পুরো মিনিটের জন্য টাকা দিতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহককে একটি কলের জন্য একাধিকবার সংযোগ পেতে চেষ্টা করতে হয় এবং এ জন্য প্রতিবার ১ মিনিট বা পূর্ণ পালসের চার্জ দিতে হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তা ছাড়া অনেক গ্রাহক সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে অভ্যস্ত। সে ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময়ের চার্জ প্রদান বাস্তবসম্মত নয়। এ জন্য ১০ সেকেন্ড হারে পালস নির্ধারণের নির্দেশ প্রদান করা হলো। এ নির্দেশ ১৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।’
বিভিন্ন কারণে কল ড্রপের ফলে গ্রাহককে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। ১০ সেকেন্ড পালস চালু হলে কল ড্রপের ফলে গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতি কমে আসবে। মূলত হাইরাইজ ভবন অথবা খুবই দ্রুতগতির যানবাহনে থাকলে বা ডেড জোনের কাছাকাছি অবস্থান করলে কল ড্রপ বেশি হয়।
নতুন পদ্ধতি চালু হলে এক মিনিটের মধ্যে বিলের ছয়টি ধাপ থাকবে। এগুলো হলো— ১০ সেকেন্ড, ২০, ৩০, ৪০, ৫০ ও ৬০ সেকেন্ড। এ ধাপগুলোর মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী বিল পরিশোধ করতে হবে। যেমন— ১০ থেকে ১৯ সেকেন্ডের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ২০ সেকেন্ডের বিল কাটা হবে। এভাবে ২০ থেকে ২৯ সেকেন্ডের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ৩০ সেকেন্ডের বিল কাটা হবে।
সৌজন্যে: বণিক বার্তা












