দক্ষিণ কোরিয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করলো এইচটিসি

(প্রিয় টেক) স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচটিসি গত জুনে ব্রাজিলে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার পর এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের অফিস বন্ধ করে দিচ্ছে। দেশটির স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির দখল কমতে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে এইচটিসি জানায়।

কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার ফলে কি পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই করা হবে এইচটিসি তা জানায়নি। তবে এ কর্মীদের অন্য দেশে এইচটিসিতে কাজ করার সুযোগ থাকবে বলে জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতি অনুযায়ী, এটা আসলেই একটি কঠিন সিদ্ধান্ত। এতে এখানকার চাকরি যাওয়া লোকদের ও তার পরিবারের ওপর প্রভাব পড়বে।
দেশটি থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়া সম্পর্কে ক্যানালিসের গবেষক নিকোল পেং বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ বাজারটি এইচটিসির জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা টিকতে পারেনি।
গত বছর দেশটির স্মার্টফোন বাজারের মাত্র ২ শতাংশ এইচটিসির দখলে ছিল। চলতি বছর এর পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ১ শতাংশে। স্যামসাং, এলজি, প্যানটেক ও অন্যান্য কোরিয়ান কোম্পানির দখলে এ বাজারের ৯০ শতাংশ।

নিকোল পেং আরও বলেন, তাদের এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে হবে, যেখানে তারা নিশ্চিতভাবে সফল হবে। চীনে তাদের এখন বিনিয়োগ করা উচিত।
পেংয়ের তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্রাজিলে এইচটিসির ১ শতাংশের চেয়েও কম বিক্রি হয়। ফলে এইচটিসি ব্যবসার কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে একটি মাত্র ছোট অফিস রেখে বাকি অফিস তারা গুটিয়ে নেয়।
কোরিয়ায়ও এইচটিসি স্মার্টফোনগুলোর বিক্রয়োত্তর সেবা দেয়ার কারণে কেবল একটি অফিস খোলা রাখবে বলে জানিয়েছে।
এইচটিসির এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণ দিয়েছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট। প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ বিদেশী পণ্যের ব্যাপারে ততটা আগ্রহী নন বলে উল্লেখ করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে এক ব্যবহারকারী বলেন, "স্যামসাং হচ্ছে কোরিয়া", আর "এলজি সবসময় নাম্বার দুই"। পুরো দেশটি দেশীয় পণ্যের ব্যাপারে অত্যন্ত নিবেদিত বলে উল্লেখ করেছে এনগ্যাজেট তাদের প্রতিবেদনে। এবং দেশটির প্রতি দেশবাসীর যে ভালোবাসা তার কোন তুলনাই হয় না বলে জানানো হয়েছে উক্ত প্রবন্ধে। উদাহরণ হিসেবে তারা ১৯৯৮ সালের অর্থনৈতিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, যখন দেশকে বাঁচানোর জন্য হাজার হাজার মানুষ তাদের সোনাদানা এবং মেডেল দান করার জন্য লাইন দিয়েছিল।
দক্ষিণ কোরিয়ায় এইচটিসি ছাড়া মটোরোলার অবস্থাও সঙ্গিন, জাপানি হবার কারণে সনিও তেমন একটা জনপ্রিয় নয়। আর অ্যাপল, স্থানীয় নির্মাতারা যখন থেকে বড় পর্দার ডিভাইস এবং এলটিই সুবিধা যুক্ত স্মার্টফোন নির্মাণ করা শুরু করেছে তখন থেকে জনপ্রিয়তা কমে এসেছে। যার কারণে এসকে এবং কেটি টেলিকম দফায় দফায় আইফোন ফোর এস এর মূল্য কমাতে বাধ্য হয়েছে।












