জমা হয়নি কিস্তির অর্থ, লাইসেন্স নবায়নে জটিলতা বাড়ছে

(প্রিয় টেক) টুজি লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সেলফোন অপারেটরদের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতা বাড়ছে। দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধের শেষ দিনেও গতকাল অর্থ জমা দেয়নি চার অপারেটরের কেউই। এরই মধ্যে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে অপারেটররা। এখনো সে আবেদনে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ অবস্থায় পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আজ বৈঠকে বসছে বিটিআরসি।
গতকাল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠকে লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের সুপারিশ করে কমিটি। তবে টাকার দাবিতে আগের অবস্থানে রয়েছে বিটিআরসি। সরকারের লিখিত নির্দেশ পেলে লাইসেন্স নবায়ন করবেন বলে কমিটিকে জানিয়ে দিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ।
কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে লাইসেন্স নবায়নসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের তাগিদ দেয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান।
প্রসঙ্গত, লাইসেন্স নবায়নের জটিলতা নিরসনে গত ২৪ জুলাই বৈঠক করে অর্থ মন্ত্রণালয়। বৈঠকে ১৫ আগস্টের মধ্যে অপারেটরদের মামলা তুলে নেয়া ও লাইসেন্স নবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়। আর বিটিআরসির সব পাওনা অপারেটররা ৩১ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করবে বলে সমঝোতা হয়।
সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের বলেন, চার সেলফোন অপারেটরের টুজি লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ বলেন, লাইসেন্স নবায়নের টাকা পরিশোধের দিনক্ষণ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সে অনুযায়ী অপারেটরদের প্রস্তুতি থাকা উচিত ছিল। তা না করে তারা কালক্ষেপণ করছে। এটি সরকারের ন্যায্য পাওনা। যথাসময়ে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে তাদের। সময় বাড়ানোর পক্ষে নয় বিটিআরসি। তবে সরকারের লিখিত নির্দেশনা পেলে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।
অপারেটররা লাইসেন্স নবায়নের টাকা দেয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও বৈঠকের সার-সংক্ষেপ এখনো বিটিআরসিতে পৌঁছেনি। ফলে কিস্তির টাকা পরিশোধের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আজ কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সার-সংক্ষেপ তৈরি হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা না হলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তৈরি এ সার-সংক্ষেপে চুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গ্রামীণফোনের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির বলেন, এ খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি চিন্তা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্রুতই লাইসেন্স নবায়ন করবে বলে আমরা আশাবাদী। লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যাংকই নতুন করে অপারেটরদের টাকা দিতে চাইছে না। ফলে লাইসেন্স নবায়নের কিস্তিও পরিশোধ করতে পারছে না অপারেটররা। প্রয়োজনে মুচলেকা দিয়ে হলেও লাইসেন্স নবায়নের অনুরোধ করেন তিনি।
জানা গেছে, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করে বিটিআরসির পাশাপাশি গত মঙ্গলবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়েও চিঠি পাঠিয়েছে চার অপারেটর।
দেশের ছয় সেলফোন অপারেটরের মধ্যে চার অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সিটিসেলের টুজি লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয় গত নভেম্বরে। সেসময় লাইসেন্স নবায়নে প্রথম কিস্তির ৪৯ শতাংশ হিসেবে ৩ হাজার ১৮৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা জমা দেয় অপারেটররা। তবে এ সময় ভ্যাট ও মার্কেট কম্পিটিশন ফ্যাক্টর (এমসিএফ) বাবদ ৭৮৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা কেটে রাখে চার অপারেটর। এ বিষয়টি নিয়ে পরে আদালতে যায় অপারেটররা। আর এসব জটিলতার জেরে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে এ চার অপারেটরের সেবা। এখন দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে মোট অর্থের ২৯ শতাংশ দিতে হবে তাদের। আর শেষ কিস্তির ২২ শতাংশ দিতে হবে আগামী বছর।
সৌজন্যে: বণিক বার্তা।












