বিটিসিএলের কাছে চার মোবাইল কোম্পানির পাওনা ৫৯৩ কোটি টাকা

priyodesk's picture

(প্রিয় টেক) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কাছে ৫৯৩ কোটি টাকা পায় দেশের চার বেসরকারি মোবাইল পরিচালকেরা। গত তিন বছরের বেশি সময়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কল সংযোগের জন্য বকেয়া আন্তঃসংযোগ ফি বাবদ এই টাকা পায় অপারেটররা।

বিটিসিএলের কাছে গ্রামীণফোনের পাওনা ৩২৮ কোটি টাকা, বাংলালিংকের পাওনা ৯০ কোটি, রবির ১৫১ কোটি এবং সিটিসেলের পাওনা ২৪ কোটি টাকা।

চার মোবাইল কোম্পানি এই হিসাব দিলেও তা অস্বীকার করেছে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। বিটিসিএলের দাবি, অপারেটররা যে পরিমাণ কলের হিসাব দিচ্ছে, তা সঠিক নয়। অন্যদিকে মোবাইল অপারেটররা বিটিসিএলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কলের রেকর্ড মুছে ফেলার অভিযোগ করেছে। তাদের বক্তব্য, মাসের শেষে কলের হিসাব উভয় পক্ষের মধ্যে সমান থাকে। কিন্তু দুই-তিন মাস পরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিটিসিএলের কল শনাক্তকরণ যন্ত্রে (কল ডিটেইলস রেকর্ডার—সিডিআর) সেই রেকর্ডের হিসাব পাওয়া যায় না।

পরিচালকদের এই অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, অবশ্যই বিটিসিএল নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করে। আর এটা দুই পক্ষের সম্মতিতেই হয়। পরিচালকদের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও বিটিসিএল বকেয়া পরিশোধ করছে না কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একবার চিঠি দিয়ে বসে থাকলে তো হবে না, এ বিষয়ে চিঠিপত্রের মাধ্যমে নিয়মিত ফলোআপ করতে হবে।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন মোবাইল পরিচালকদের পক্ষ থেকে জমা দেয়া নথিপত্র থেকে দেখা যায়, বিটিসিএল কর্তৃপক্ষকে পাওনা পরিশোধে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কাজ না হওয়ায়, তারা টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

দুই পক্ষ বসে বকেয়া পরিশোধের জন্য গত ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯ মার্চ ও ২ মে পর পর তিনটি চিঠি বিটিসিএলের কাছে পাঠায় গ্রামীণফোন। কিন্তু বিটিসিএলের কোনো সাড়া না পেয়ে গত ১০ জুন বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া বিল পাওয়ার জন্য এই আবেদন জানায় তারা।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অন্য এক চিঠিতে বিটিসিএলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কলের রেকর্ড মুছে ফেলার অভিযোগ করে গ্রামীণফোন। ২০১০ সালের জুলাই থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত বিটিসিএল ও গ্রামীণফোনের মধ্যে মোট ১৬৫ কোটি মিনিট আন্তর্জাতিক কল হিসাবের অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি, যা থেকে সরকার হারিয়েছে প্রায় ১৯৫ কোটি টাকা। আর বিটিসিএলের সিডিআর থেকে কল মুছে ফেলার হার ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বলে মন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে দাবি করেছে গ্রামীণফোন।

প্রায় একই ধরনের অসংখ্য তাগাদাপত্র বিটিসিএলের কাছে এবং সর্বশেষ মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির পাঠিয়েছে বাংলালিংক, রবি ও সিটিসেল। টেলিযোগাযোগ সচিব ও বিটিসিএলের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, বিভিন্ন অপারেটর ও বিটিসিএলের মধ্যকার কল নিয়ে বিরোধের সত্যতা এবং বিটিসিএলের সিডিআর-সম্পর্কিত অভিযোগ তদন্ত করতে কমিটি করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন দেখে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

সৌজন্যে: অনিকা ফারজানা, প্রথম আলো