চার অপারেটরকে ১ আগস্টের আগে ৩২শ' কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে

priyodesk's picture

(প্রিয় টেক) চারটি মোবাইল ফোন অপারেটরের দ্বিতীয় প্রজন্মের (টু জি) লাইসেন্স নবায়ন ফির দ্বিতীয় কিস্তির ৩ হাজার ১৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। আগামী ১ আগস্টের আগে এ টাকা জমা করতে চিঠিতে বলা হয়েছে। উল্লিখিত অর্থের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের মোট ফির ২৯ শতাংশ, প্রথম কিস্তির বকেয়া এবং বকেয়ার ওপর বিলম্বিত ফি যুক্ত রয়েছে। মোবাইল অপারেটররা টাকার অঙ্ক নিয়ে আপত্তি না জানালেও বিধিবিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে টাকা প্রদানের সময় বাড়াতে বিটিআরসিকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি।

মঙ্গলবার গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং সিটিসেলকে তাদের টু জি লাইসেন্সের নবায়ন ফি এবং বরাদ্দকৃত তরঙ্গ ফির টাকা চেয়ে চিঠি দেয় বিটিআরসি। চিঠি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিটিআরসির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করেছেন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা। বিটিআরসির চিঠিতে গ্রাহকসেরা অপারেটর গ্রামীণফোনের কাছে লাইসেন্স ফির দ্বিতীয় কিস্তির পাওনা হিসেবে ১ হাজার ৫০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত পুরনো পাওনা ৪২৭ কোটি ৩২ লাখ এবং বিলম্ব ফি ৪৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে ১ আগস্টের মধ্যে তাদের ১ হাজার ৫২২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা দিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে দ্বিতীয় গ্রাহকসেরা অপারেটর বাংলালিংকের কাছে চাওয়া হয়েছে ৭৭২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির পাওনা ৫৮৫ কোটি ৪৪ লাখ, বকেয়া ১৬৯ কোটি ৫১ লাখ এবং বিলম্ব ফি ১৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা রয়েছে। রবির কাছে চাওয়া হয়েছে ৭২৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির পাওনা ৫৫৮ কোটি ৫০ লাখ, বকেয়া ১৫৩ কোটি ৪৯ লাখ এবং বিলম্ব ফি ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা রয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে পুরনো অপারেটর সিটিসেলের কাছে পাওনা ১৬৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তির পাওনা ১৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা প্রথম কিস্তির বকেয়া। নির্ধারিত সময়ে টাকা না দেওয়ায় বিলম্ব ফি ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

জানা গেছে, গ্রামীণফোন এবং বাংলালিংক পাওনা টাকা দিতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে রবি এরই মধ্যে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। আর সিটিসেল আজকালের মধ্যে আবেদন করবে।

এদিকে গ্রামীণফোনের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স-কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদ হোসাইন পাওনা সম্পর্কে বলেন, টাকা দিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা আছে। সেগুলো পরিষ্কার হওয়া দরকার। অপারেটরগুলো ভ্যাটের বিপরীতে কীভাবে ট্যাক্স রিবেট পাবে সে সম্পর্কে তারা এখনও কিছু জানেন না। একই কথা বলেন বাংলালিংকের কর্পোরেট বিভাগের পরিচালক জাকিউল ইসলাম। সমকালকে তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে বিটিআরসি এ টাকা চাইতে পারে; কিন্তু আমরা কীভাবে ছাড় পাব সেটিও পরিষ্কার করে জানাতে হবে।

অন্যদিকে রবির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান তাদের সময় বৃদ্ধির আবেদন সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলেন, বিটিআরসি ভ্যাট চাইলেও রিবেট পাওয়ার বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করতে পারছে না। তাহলে এত টাকা তারা কোন নিশ্চয়তায় দেবেন? এ বিষয়ে সিটিসেলের মন্তব্য চেয়েও পাওয়া যায়নি।

অন্য একটি সূত্র জানায়, যেহেতু বিটিআরসির ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের নিবন্ধন নেই, সে কারণে অপারেটরগুলো টাকা দিলেও তারা রিবেট সার্টিফিকেট দিতে পারবে না। তা ছাড়া বিটিআরসিও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের বিরুদ্ধে। ফলে এ বিষয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অপারেটররা। একটি অপারেটরের এক কর্মকর্তা জানান, ভ্যাট হিসেবে শত শত কোটি টাকা বাড়তি দেওয়া হলেও তার সুবিধা তারা পাবেন না, সেটি হয় না।

চারটি অপারেটরের টু জি লাইসেন্সের ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হয় গত বছর নভেম্বরে। আরও ১৫ বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। চারটি অপারেটরের লাইসেন্স ফি ও তরঙ্গ ফি নির্ধারিত হয় ৮ হাজার কোটি টাকা, যা তিন কিস্তিতে দিচ্ছে অপারেটরগুলো। প্রথম কিস্তিতে মোট ফির ৪৯ শতাংশ দেয় চার অপারেটর। এখন দ্বিতীয় কিস্তিতে দিতে হচ্ছে মোট ফির ২৯ শতাংশ। বাকি ২২ শতাংশ তারা দেবে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট।

গত বছর নভেম্বরে চারটি অপারেটর বিটিআরসিকে দিয়েছিল ৩ হাজার ১৮৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোন দেয় ১ হাজার ৩৪৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। একই সময় বাংলালিংক দেয় ৮২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। রবি ও সিটিসেল দেয় যথাক্রমে ৮০০ কোটি ১৮ লাখ ও ১৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

সৌজন্যে: সজল জাহিদ, সমকাল