আপাতত গ্রামীণফোনে কর্মী ছাটাই বন্ধ

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে অনৈতিক ও অবৈধ কিছু হয়নি বলে সাংবাদিকদের কাছে উল্লেখ করেছে দেশের বৃহত্তম মোবাইল পরিচালক গ্রামীণফোন। গ্রামীণফোন কর্মীদের ছাঁটাই বিষয়ে গতকাল সোমবার জরুরি ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে আপাতত তারা আর ছাঁটাই করবে না। তবে ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষ চাইলে ছাঁটাই হবে। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার আন্দোলনকারীদের ই-মেইলে এ তথ্য জানিয়েছে। ইমেইল পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রতিষ্ঠানের করপোরেট যোগাযোগ বিভাগের প্রধান তাহমিদ আজিজুল হক এবং কর্মী সংগঠনের সদস্য এস এম সাইদুজ্জামান। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ সময় নিলেও তাদের দাবির ব্যাপারে কোনো আগ্রহই দেখানো হয়নি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের একটি ই-মেইল পাঠালেও সেখানে দাবি মানার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

ই-মেইলে অন্যান্য দাবি প্রসঙ্গে জানানো হয়, চাকরিচ্যুত কর্মীদের অবসর পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। এটি এক বছরেই দেওয়া হবে। ছাঁটাইয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির বিষয়ে বলা হয়, এটা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এখানে কোনো ব্যক্তি জড়িত নন। যৌক্তিক হারে ইনক্রিমেন্টের দাবির বিষয়ে বলা হয়, কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির তুলনায় ইনক্রিমেন্ট বেশি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া লভ্যাংশের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। কর্মী অসন্তোষের কারণে রোববার গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয় বন্ধ থাকলেও গতকাল পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কার্যালয়ের বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা কাজী মনিরুল কবির গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ছাঁটাই হওয়া ৪৮ কর্মীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে তাঁদের প্রবেশ পত্র (এন্ট্রি পাস) সক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গ্রামীণফোনের নিয়ম অনুযায়ী কর্মী ছাঁটাই করা হয়। একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। যাঁরা পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে পারেন না, নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা চাকরিচ্যুত হন। এক্ষেত্রে কর্মীদের চার মাসের মূল বেতনের বদলে ১২ মাসের মোট বেতন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্জিত ছুটির টাকা, উৎসব ভাতা, ভবিষ্য তহবিল, গ্র্যাচুইটি, দক্ষতা ভাতা সবই দেওয়া হচ্ছে। কারও যদি গাড়ি কেনা বা অন্য বিষয়ে অফিস থেকে ঋণ নেওয়া থাকে সেটিও মওকুফ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সংস্কার পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রিটেইল সেলস বিভাগের (পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রয় বিভাগ) ৪৮ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। গত রোববার সকালে ওই ৪৮ কর্মচারী কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না পেরে মূল ফটকে অবস্থান নেন এবং অন্য কর্মীদের কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন। একই সঙ্গে গ্রামীণফোনের কর্মী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ছয় দফা দাবিতে গ্রামীণফোন ভবন অবরোধ করে রাখেন।

গ্রামীণফোন থেকে আরও কর্মী ছাঁটাই করা হবে কি না, জানতে চাইলে মনিরুল সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণফোন কোনো টার্গেট নিয়ে ছাঁটাই করে না। কর্মী ছাঁটাই একটি চলমান প্রক্রিয়া। ২০০৭ ও ২০০৯ সালেও এর চেয়ে অনেক বেশি কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৭১ জন চলে গেছেন। আরও ১৬৬ জন এখন বিদায়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

মাতৃত্বকালীন ছুটির মধ্যে নারী কর্মীদের ছাঁটাই প্রসঙ্গে মনিরুল কবির বলেন, এ ধরনের তিনটি ঘটনা রয়েছে। ওই তিন সন্তানসম্ভবা নারীর মধ্যে দুজন পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হন, একজন উত্তীর্ণ হন। তবে ওই তিনজনকে যথাযথ নিয়ম মেনে পরীক্ষার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় নারীদের কেন পরীক্ষা দিতে আসতে বলা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, ‘এটা (ছাঁটাই) প্রক্রিয়ার অংশ। আমাদের সময়মতো ডাকা হয়নি। তাদের সুবিধা মতোই ডাকা হয়েছে।’

এদিন তিনি চাকরিচ্যুত অনেককেই আগামী নোটিশ না দেওয়ার কথাও স্বীকার করে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল না। তাই অনেককে নোটিশ দিতে পারিনি। তবে এজন্য তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।’

গ্রামীণফোনের অধিনিয়মগত বিষয়াদি বিভাগের প্রধান মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে গতকাল অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রতিটি বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণফোনের কর্পোরেট বিষয়াদি বিভাগের প্রধান মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘যতজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি কোম্পানির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার একটি অংশ।’

এদিকে আন্দোলনকারীদের নেতা ওমর ফারুক তাদের আন্দোলন বিষয়ে বলেন, তারা ছয় দফা দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি দাবিও মানা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তারা পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছেন।