রবি-সিটিসেলে অডিট করবে বিটিআরসি

(প্রিয় টেক) টেলিযোগাযোগ খাতে আবারও অডিট কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এবার মোবাইল ফোন অপারেটর রবি এবং সিটিসেলে অডিট কার্যক্রম চালাবে সংস্থাটি। অন্যদিকে দু'বার শুরু করেও শেষ না হওয়া বাংলালিংকের অডিটও নতুন করে শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে অডিট শুরুর জন্য প্রাসঙ্গিক আয়োজন শুরু হয়েছে। তবে এসব কাজ শেষ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বছরের শেষ দিকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচিত অডিট কোম্পানিগুলো ওইসব মোবাইল ফোন অপারেটরের অফিসে গিয়ে কাজ শুরু করতে পারবে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকি কিংবা অনিয়ম যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এ অডিট কার্যক্রম চালানো হবে।
সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে অডিট কার্যক্রম শুরু করতে গত জুনে কাজ শুরু করে বিটিআরসি। ১ জুলাই থেকে ছয়টি অডিট কোম্পানিকে আরএফপির (রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল) কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের আরএফপি জমা দিতে বলা হয়েছে। কোম্পানিগুলো তাদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক প্রস্তাব উল্লেখ করবে। কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর মূল্যায়ন করে যে কোনো দুটি বা তিনটি কোম্পানি অডিটের জন্য নিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিটিআরসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কয়েক কর্মকর্তা জানান, এর আগে গ্রামীণফোনের অডিট নিয়ে যেহেতু নানা বিতর্ক হয়েছে, একই সঙ্গে বাংলালিংকের অডিটের ক্ষেত্রেও যেহেতু দুটি কোম্পানি পরপর ব্যর্থ হয়েছে, সে কারণে এবার বিটিআরসি অনেক বেশি সচেতন। এবার অনেক যাচাই-বাছাই করে অডিট কার্যক্রমে এগোচ্ছে কমিশন।
এ দফায় মূলত তৃতীয় গ্রাহকসেরা মোবাইল ফোন অপারেটর রবি এবং সবচেয়ে পুরনো অপারেটর সিটিসেলের অডিট করতে চায় বিটিআরসি। তবে যেহেতু বাংলালিংকের অডিটও অনেকদিন থেকে আটকে রয়েছে, এবার সেটিরও একটা রফা করতে চাইছে কমিশন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের অডিটও হবে বলে এর আগে সমকালকে জানিয়েছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ।
বিটিআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, টেলিযোগাযোগ আইন অনুসারে টেকনিক্যাল ও আর্থিক অডিট সবসময়ই হওয়া উচিত। তবে নানা কারণে এটি হয় না। এমন অডিট হলে অপারেটরগুলোর নানা অনিয়ম সামনে চলে আসবে বলেও জানান তিনি। তবে রবির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান বলেন, অনেকদিন থেকেই রবিতে অডিটের কথা শুনছেন তারা। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। বরং অডিটের মাধ্যমে গুণগত ও প্রক্রিয়াগত উৎকর্ষ লাভ করা সম্ভব রবি কর্তৃপক্ষ এমনটাই মনে করে বলে জানান তিনি।
তবে একটি মোবাইল ফোন অপারেটরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অডিট এখন বিটিআরসির জন্য হাতিয়ার। যখন যার বিরুদ্ধে যেভাবে খুশি এ হাতিয়ার ব্যবহার করতে পারে বিটিআরসি। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভালো মানসিকতা নিয়ে অডিট করা হলে তাতে তাদের আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু যেভাবে অডিট হচ্ছে তাতে তাদের ভয় থেকেই যায়।
এর আগে দেশের শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনের অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিটিআরসি। সবমিলিয়ে তাদের কাছে বিটিআরসির ৩ হাজার ৩৪ কোটি ১১ লাখ ৮ হাজার ৫৮১ টাকা পাওনা আছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টির এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণফোন আদালতের দ্বারস্থ হয়। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বলছে, অডিটের নামে সুরাহা হয়ে যাওয়া অনেক ইস্যু নতুন করে তুলে এনে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিটিআরসি।
সৌজন্যে: সজল জাহিদ, সমকাল










