প্রযুক্তিসেবায় পিছিয়ে সরকারি চার ব্যাংক

PriyoTech's picture

(প্রিয় টেক) আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অগ্রগতি নেই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের। দেশের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক গ্রাহকসেবায় প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগোলেও এসব ব্যাংক এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। অথচ সম্মিলিতভাবে দেশের ব্যাংক খাতের প্রায় অর্ধেক ৩ হাজার ৪৫৪টি শাখা রয়েছে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব শাখার মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের ১০২টি শাখা অনলাইনের আওতায় এসেছে। বাকি তিন ব্যাংকের হাতেগোনা কয়েকটি শাখায় আন্তঃশাখা অনলাইন (অফলাইন) কার্যক্রম চলছে। সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর কম্পিউটারভিত্তিক কার্যক্রম ও এটিএম সেবাও সীমিত। ফলে গ্রাহকরা যেমন আধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে ব্যাংকগুলো।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ও নানা জটিলতার কারণে ব্যাংকগুলো সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনকে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিলেও দেশের বৃহত্তম এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রযুক্তি ব্যবহারে এতদিনেও উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেয়নি। এমনকি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পরিষদেরও এ নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। এ পরিস্থিতিতে অনেকে, বিশেষ করে দৈনন্দিন লেনদেনকারীরা অ্যাকাউন্ট গুটিয়ে বেসরকারি ব্যাংকে চলে যাচ্ছেন।

সোনালী ব্যাংক: দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক এ ব্যাংকের ১ হাজার ১৯৬ শাখার মধ্যে মাত্র ১০৯টিতে অফলাইন (যেকোন শাখায় ব্যাংকিং-এবিবি) লেনদেন চলছে। গ্রাহকদের জন্য কোনো অনলাইন সেবা নেই। তবে এগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেনের বেশি করা যায় না। অফলাইন কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও একক সফটওয়্যারের পরিবর্তে চারটি ভিন্ন কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবহার করায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তবে একক সফটওয়্যার ব্যবহার এবং কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন সেবা দেওয়ার জন্য সম্প্রতি ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় সোনালী-পোলারিশ এফটি নামে কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।

ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছর গুরুত্বপূর্ণ ২০ শাখায় পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হবে। ব্যাংকটির নিজস্ব পাঁচ শাখায় পাঁচটি এটিএম বুথ রয়েছে। ওইসব শাখার গ্রাহকরা কিউ ক্যাশ কনসোর্টিয়ামের আওতাভুক্ত বুথগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে ব্যাংকের আইটি বিভাগের এক উপ-মহাব্যবস্থাপক বলেন, বর্তমানে রেমিট্যান্স স্থানান্তর, এসএমএস ব্যাংকিং, এটিএমসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা দেওয়া হলেও প্রকৃত অর্থে অনলাইনে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে ব্যাংকের ১ হাজার ১৬৩টি শাখায় কম্পিউটার সরবরাহ করা হলেও সেগুলো ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাখাগুলোতে এসবের ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় যত্ন নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনতা ব্যাংক: দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ব্যাংকের ৮৭৬টি শাখার মধ্যে ৫৩০টি বর্তমানে কম্পিউটারাইজড। অনলাইন কার্যক্রম এগোচ্ছে খুবই ধীরে। কিছু শাখায় অফলাইন কার্যক্রম চললেও রিয়েল টাইম অনলাইন ব্যাংকিং শুরু হয়নি। যে কোনো শাখায় লেনদেন সুবিধাও নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, আগামী আগস্টের মধ্যে ১০টি শাখায় অনলাইন কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়া সম্পূর্ণ কম্পিউটারাইজড এবং অনলাইন ব্যবস্থা রেখে নতুন শাখা চালু করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এটিএম সেবাতেও পিছিয়ে এ ব্যাংক। মাত্র ছয়টি শাখার গ্রাহকরা এটিএম সুবিধা পাচ্ছেন। এসব শাখার নিজস্ব বুথের পাশাপাশি কিউ ক্যাশ কনসোর্টিয়াম বুথও ব্যবহার করতে পারেন গ্রাহকরা। মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অপেক্ষায় রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।

এ বিষয়ে ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু সমকালকে বলেন, আগের চেয়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হওয়ায় এ খাতে উন্নয়ন হচ্ছে। জনতা ব্যাংকও এগিয়ে যাচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংক: একটু ধীরে হলেও অন্য তিনটির চেয়ে অনেক এগিয়ে অগ্রণী ব্যাংক। ব্যাংকের ৮৭৯টি শাখার মধ্যে ১০২টি রিয়েল টাইম অনলাইনের আওতায় এসেছে। আগামী বছরের জুন নাগাদ আরও ২০০ শাখায় এ সুবিধা চালু করতে কাজ চলছে। তবে এটিএম সেবার ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র পাঁচটি শাখায়। এ ব্যাংকের সব শাখায় অনলাইন রেমিটেন্স সেবা পাওয়া যায় বলে কর্মকর্তারা জানান।

ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক কাজী আলমগীর সমকালকে বলেন, অনলাইন সেবা এখন সময়ের দাবি। প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যিক পরিস্থিতিতে এখন ব্যাংকগুলোর আধুনিক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো একটু পিছিয়ে থাকলেও তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

রূপালী ব্যাংক: অনলাইন ব্যবস্থায় এ ব্যাংকটির কার্যক্রম সবচেয়ে করুণ। ব্যাংকটির ৫০৩টি শাখার মধ্যে মাত্র ৪০টিতে অফলাইন ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সব শাখায় রেমিটেন্স সুবিধা পাওয়া যায়। একটি বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে ৫০টি এটিএম বুথ ব্যবহারের চুক্তি করলেও তা এখন পর্যন্ত ২০টিতে পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলেও রিয়েল টাইম অনলাইন চালু সম্ভব হয়নি। এ বছরের মধ্যে কিছু শাখায় তা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সৌজন্যে: শেখ আবদুল্লাহ, সমকাল