ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেণ্ট (ই-জিপি) সম্পর্কে সম্যক ধারণা

মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন-মিঠু's picture

গত ০২ জুন ২০১১ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ই-জিপি পোর্টালটি উদ্বোধনের প্রাক-কালে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে সরবরাহকৃত লিফলেটে সন্নিবেশিত তথ্যসহ এ সংক্রান্ত আরো কিছু তথ্য সংযুক্ত করে ই-জিপির বাস্তব ব্যবহার সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি আজকের এ লিখায় মাধ্যমে।

আশাকরি ক্রয়কারী সংস্থা/প্রতিষ্ঠানসমূহ ও ঠিকাদারগণ নতুন এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। একইসাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ও অঙ্গীকার পূরণের অন্যতম পদক্ষেপের মিছিলে সামিল হবেন দলমত নির্বিশেষে। কারণ আমরা চাই আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ। সকলের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠাই পারে এ ধরণের একটি শুভ উদ্যোগকে সাফল্য মণ্ডিত করতে।

দেশের উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ৮০% অর্থ বরাদ্দ করা হয় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ বরাদ্দ সম্পূর্ণ ব্যবহৃত হয় না। তাই দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সকল সেক্টরকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে গতিশীল করাও অত্যন্ত জরুরি। সরকারী সকল ক্রয় কার্যক্রম সাধারণত দেশের মানুষের জীবন-মান উন্নত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়। সুতরাং এই কার্যক্রম যত সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে, দেশের উন্নতিও ততই ত্বরান্বিত হবে।

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে দেশের অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি, যেমন: ভবন, সড়ক, রেলপথ, সেতু, ইত্যাদি নির্মাণ; এবং পণ্য ও সেবা সংগ্রহ। জনগণের অর্থেই এসকল উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হয়। জনগণের করের টাকা, বিদেশী সাহায্য বা ঋণ এসকল উন্নয়ন কাজের অর্থের উৎস। বৈদেশিক ঋণের সুদও জনগণকেই বহন করতে হয়। সুতরাং সরকারি ক্রয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের অর্থে তাদের জন্যই পরিচালিত হয়।

সময়মত ও সঠিক নিয়মে ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট অনুযায়ী দরপত্র দলিল তৈরি, দরপত্র আহ্বান, গ্রহণ, মূল্যায়ন, অনুমোদন, চুক্তি সম্পাদন ও বাস্তবায়ন তথা পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু সম্পাদনের মাধ্যমেই একটি সফল ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। ক্রয় প্রক্রিয়ার গুণগতমান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ বিষয়ে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে। সরকারি ক্রয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা দেশের সকল নাগরিকের অধিকার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট এন্ড টেকনিক্যাল ইউনিটের তত্ত্বাবধানে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২’ এর আওতায় একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেণ্ট (ই-জিপি) সিস্টেম প্রস্তুত ও পরীক্ষার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২ প্রকল্পের মূল উপাদান হলো- সরকারি ক্রয়ের সাথে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসূচিকে টেকসই করা; বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহের ক্রয় কাজের ব্যবস্থাপনা এবং কমপ্লায়ান্স মনিটরিং শক্তিশালী করা; চারটি টার্গেট ক্রয়কারী সংস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে পর্যায়ক্রমে সবক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা এবং যোগাযোগ কার্যক্রমের মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সম্পর্কে জনসাধারণের সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা।

কোন চুক্তির মাধ্যমে সরকারি অর্থ দ্বারা কোন পণ্য ক্রয় বা ভাড়া করা অথবা কোন পূর্ত কাজ বা সেবা ক্রয় করার প্রক্রিয়াকে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অর্থাৎ সরকারি ক্রয় বলা হয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত এবং আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি আইন দ্বারা গঠিত সংস্থার মাধ্যমে সরকারি ক্রয় কাজ বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৭ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুসারে এসব ক্রয় কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে।

সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সমআচরণ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর ক্রয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন প্রণয়ন করা হয় এবং আইনটি মহান জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত হয়ে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে “পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮” গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ২০০৮-এর ৩১ জানুয়ারি আইন ও বিধিমালা কার্যকর হয়েছে। ২০০৯ এবং ২০১০ সালে কিছু সংশোধনীর পর ঐ আইন ও বিধিসমূহ বর্তমানে সরকারি ক্রয়ের জন্য অবশ্য পালনীয় আইন ও বিধিমালা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের রূপকল্পে সরকারী ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য এ পদ্ধতি চালু করতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে ই-জিপি চালুর আগে ২০১১ সালের শুরু থেকেই সীমিত পরিসরে ই-টেন্ডারিং চালু হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ই-টেন্ডারিং এর আওতায় দরপত্র আহবান, প্রক্রিয়াকরণ এবং চুক্তি সম্পাদন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। অতঃপর পূর্ণাঙ্গ ই-জিপির আওতায় তা চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। পিপিআরপি-২ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে সিপিটিইউ ও চারটি টার্গেট এজেন্সি’র (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) ১৭টি ক্রয়কারী অফিসে ই-টেন্ডারিং চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সরকারী ক্রয়ের ক্ষেত্রে সারাদেশে সকল সরকারী অফিসে ই-জিপি প্রবর্তন করার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশা করছি।

ই-জিপি সিস্টেম কী?
ই-জিপি সিস্টেম একটি জাতীয় পোর্টাল (www.eprocure.gov.bd) যার মাধ্যমে ক্রয়কারী সংস্থা এবং ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানসমূহ নিরাপদ ওয়েব ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে যাবতীয় ক্রয়কার্য সম্পাদন করতে পারবে। যেমন: বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা তৈরি করা; দরপত্র আহ্বান করা; প্রস্তাবের জন্য অনুরোধ করা; কোটেশনের জন্য অনুরোধ করা; দরপত্র/আবেদন/প্রস্তাব তৈরি, জমা, উন্মুক্তকরণ ও মূল্যায়ন করা; চুক্তি সম্পাদন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা; চুক্তি ব্যবস্থাপনা, আর্থিক লেনদেন এবং ইনফরমেশন সিস্টেমের প্রধান প্রধান নির্দেশিকার মাধ্যমে সম্পাদিত কার্যাবলী পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন এবং সংশোধন করা।

কিভাবে ই-টেন্ডারিং-এ অংশগ্রহণ করা যাবে?
নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার মাধ্যমে ই-জিপি সিস্টেমে প্রকাশিত ই-টেন্ডারিং এ অংশগ্রহণ করা যাবে। দরপত্রদাতা/পরামর্শক প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তি পরামর্শক/সরকারি মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজসমূহ নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পূর্ণ করার পরই একজন দরদাতা হিসেবে ই-জিপি সিস্টেমের ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারবেন এবং ই-জিপি সিস্টেম ব্যবহার করে ই-টেন্ডারিং এ অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

ই-জিপি সিস্টেমে নিবন্ধনের জন্য কোন কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন?
ই-জিপি সিস্টেমের মূল পাতা থেকে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিবন্ধনের জন্য দরপত্রদাতা/পরামর্শক কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যাবলী এবং ডকুমেন্ট সিপিটিইউ থেকে প্রাথমিক যাচাইয়ের পর নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ই-জিপি সিস্টেমের সম্ভাব্য ব্যবহারকারীগণকে ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত পেমেন্ট স্লিপসহ সকল প্রয়োজনীয় দলিলাদি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিপিটিইউ/আইএমই বিভাগ ব্যবহারকারীর নিবন্ধন ফি সহ যে কোনো ধরনের ফি আরোপ বা মওকুফ করতে পারবে। বর্তমানে দেশীয় দরপত্রদাতা/পরামর্শকদের জন্য নিবন্ধন ফি হিসেবে বার্ষিক ৫,০০০ টাকা এবং নিবন্ধন নবায়নের জন্য ২,০০০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের নিবন্ধনের জন্য ১০০ মার্কিন ডলার এবং বার্ষিক নবায়ন ফি হিসেবে ৩০ মার্কিন ডলার ধার্য করা হয়েছে। ই-জিপি সিস্টেমে লেনদেন, নির্দিষ্ট সময়ান্তরে নবায়ন, অতিরিক্ত ধারণ ক্ষমতা সৃষ্টি, ই-জিপি সিস্টেমের নির্দিষ্ট ফিচার/মডিউল ব্যবহার, চালু রাখা, সংশোধন কিংবা পরিচালনার জন্য সিপিটিইউ/আইএমই বিভাগ অতিরিক্ত ফি ধার্য করতে পারবে।

ই-জিপি সিস্টেমে নিবন্ধন বা নবায়ন ফি কিভাবে জমা দেয়া যাবে?
নগদ/পে-অর্ডার/একাউন্ট থেকে একাউন্টের মাধ্যমে কিংবা, দরদাতা ব্যাংকে গিয়ে ফি প্রদান করতে পারবেন। ব্যাংকসমূহ তাদের নিয়মানুযায়ী দরপত্রদাতাদের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করতে পারবে।

ই-জিপি সিস্টেমে আর্থিক লেনদেন কিভাবে সম্পাদিত হবে?
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ই-জিপি সিস্টেমের ফি গ্রহণের জন্য অনুমতি পাবে এবং ই-জিপি সিস্টেমে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ করতে পারবে। ব্যাংকসমূহ তাদের নিজস্ব সার্বক্ষণিক ও নিরাপদ ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে।

ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে প্রেরিত দরপত্র কী নিরাপদ?
ই-জিপি সিস্টেমের মাধ্যমে দরদাতাদের প্রেরিত দরপত্র নিরাপদ। কারণ দরপত্র জমাদানের শেষ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরই কেবল দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি ডাটাবেইজে নিরাপদে রক্ষিত অবস্থায় থাকা দরপত্রে প্রবেশ করতে পারবে এবং দরপত্র দাতাদের সম্পর্কে জানতে পারবে। দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির সদ্য/ক্রয়কারী সংস্থা/ই-জিপি প্রশাসক বা দরদাতা নিজে বা অন্যান্য ব্যবহারকারী/অংশগ্রহণকারীগণ দরদাতার পরিচয় বা জমাকৃত দরপত্রের ভিতরে কি আছে তা কোনোভাবেই তা জানতে পারবে না।

কিভাবে দরপত্র জামানত ও কার্য সম্পাদন জামানত প্রদান করতে হবে?
ই-জিপি পেমেন্ট নেটওয়ার্কের ব্যাংকের মাধ্যমে নগদ/ডিমান্ড ড্রাফট/পে-অর্ডার/ব্যাংক অ্যাডভাইস বা ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে দরদাতার দরপত্র জামানত এবং কার্য সম্পাদন জামানত প্রদান করবে। পরবর্তীতে ব্যাংক ই-জিপি সিস্টেমে আর্থিক লেনদেন হালনাগাদ করবে।

দরপত্র দলিল ক্রয়ের জন্য ফি প্রদানের পদ্ধতি কী?
ই-জিপি সিস্টেমে আপলোডকৃত দরপত্র দলিল (টেন্ডার ডকুমেন্ট) ডাউনলোড করার আগে দরদাতাকে অবশ্যই ক্রয়কারী সংস্থা কর্তৃক ধার্যকৃত ফি ই-জিপি সদস্য ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। দরদাতার প্রদানকৃত ফি ব্যাংক কর্তৃক ই-জিপি সিস্টেমে হালনাগাদ করার পরই কেবল দরপত্রদাতা কর্তৃক দরপত্র দলিল ডাউনলোড করার জন্য সংশ্লিষ্ট লিংক সক্রিয় হবে। অর্থাৎ দরপত্র দলিল ডাউনলোড করা যাবে।

ই-জিপি সিস্টেমে অন-লাইনে জমাকৃত দরপত্র কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে?
ক্রয়কারী কর্তৃক নির্দিষ্ট করে দেয়া সময়ের মধ্যেই কেবল মূল্যায়ন কমিটির সদস্যগণ ই-জিপি সিস্টেম ও দরপত্রে প্রবেশ করতে পারবেন। ই-জিপি সিস্টেম দরদাতাদের উদ্ধৃত মূল্য ও মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত নির্ণায়কের উপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তুলনামূলক ছক তৈরি করে দিবে। মূল্যায়ন কমিটি সকল তথ্য, তুলনামূলক ছকসহ তাদের মতামত ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং অন-লাইনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করবে।

ই-জিপি কার্যক্রমের সুবিধা কী?
পুরো সরকারী ক্রয় কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ প্রতিষ্ঠিত হবে; দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ ও আইন/বিধি’র পরিচালন পরিবীক্ষণে একটি জাতীয় প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠিত হবে; ইলেকট্রনিক পদ্ধতি চালুর ফলে ক্রয় কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের বিদ্যমান জটিলতা পরিহার করা সম্ভব হবে; অধিক সংখ্যক দরদাতা অবাধে ক্রয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে তথা অধিকতর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে; প্রচলিত পদ্ধতিতে দরপত্র জমাদানের বিদ্যমান সমস্যা দূর হবে; সরকারি ক্রয়ের গুণগত মান অধিকতর বৃদ্ধি পাবে; ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

[লেখক: প্রোগ্রামার, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ঢাকা।
ই-মেইলঃ mithu_cse24@yahoo.com]
তারিখঃ ২৯/০৯/২০১২খ্রিঃ