স্টার্ট আপঃ পর্ব- ১ - একাকীত্বের দিনগুলিতে সিইও

Sazzad Reza's picture

একটা তথ্য দিয়ে শুরু করি। ভেড়া বিষয়ক। ভেড়ারা কখনো এলোমেলো যেতে পারে না। এর জন্য তাদেরকে মৃত্যু পর্যন্তও বরন করতে হয়। আর এ থেকেই বোধ করি, “পালের গোদা” কথাটার উৎপত্তি। ভেড়ারা লিডারে বিশ্বাসী। প্রথম ভেড়া যে পথে যাবে, তার পিছনে পিছনে লাইন ধরে যাবে বাকি সব ভেড়া। পথ চলতে চলতে পাহাড়ের খাদে যদি লিডার পড়ে যায় তো, বাকি সব ভেড়া এক এক করে খাদে পড়ে যায়। কোন ভেড়ার মাথায় আসে না, অন্যরা সব যাচ্ছে কোথায়! আর এজন্য পাহাড়ের ঢালের বিস্তীর্ণ ভূমিতে যেসব ভেড়ার খামার আছে, সেখানে এভাবে মৃত্যু ঘটে হাজার ভেড়ার।

তো, ভেড়ার সাথে যেমন “পালের গোদা”-র সম্পর্ক তেমনি Leadership- কি Leader sheep-র মতো নয়? আমাদের সমাজ ব্যবস্থা বা রাষ্ট্র ব্যবস্থা যাই বলি না কেন, এখানে কিন্তু খুব কম সংখ্যক নিয়ন্ত্রন করে সবাইকে।

ফ্রিডম নিয়ে আমরা কথা বলি, আন্দোলন করি, যুদ্ধ করি। মুক্ত অর্থনীতি, মুক্ত বাজার, মুক্ত সমাজ ... হায়রে! তোমার জন্য হে স্বাধীনতা...! আসলেই কি আপনি মুক্ত সমাজের বাসিন্ধা? অনেকেই বলবেন, হ্যাঁ, আমরা তো মুক্ত মত প্রকাশ করি! ও, তাই তো! প্লিজ, কিছু মনে করবেন না, একটা প্রশ্ন করি। আপনি কি চাইলেই ৭ দিন অফিস না গিয়ে রাঙ্গামাটি যেতে পারবেন? আসলেই আমি আপনাদের স্বাধীনতার অর্থ বুঝি না!

হ্যাঁ, আমরা কঠিন অনুশীলন করি- কর্মী হবার, কাজ করার। কাজ তৈরির অনুশীলন আমরা করি না। সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি—চলার পণ আমাদের প্রতিদিনের। কোনোদিন কি আমরা চালানোর চিন্তা করছি? প্লিজ কবিকে দোষ দিবেন না! কী আর করার বলুন? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা একটা ছকে বাঁধা। এই ছক ভাঙতে পারে আর কজনে? তবে, পারে। কেউ কেউ পারে। ভাঙতে পারে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি, তার নিজস্ব ছক বানানোর জন্য! এই ছক বানাতে ওস্তাদ হল, পশ্চিমারা। চিন্তা করুন, তাদের ছক কত্ত শক্তিশালী! আমদের দেশে গ্রামীনফোন নাম্বার ওয়ান অপারেটর। কিন্তু এর মালিক কে? টেলিনর। না, আমি সেই ব্যক্তিটির প্রসঙ্গে জানতে চাচ্ছি যার হাতে জন্ম লাভ করেছে টেলিনর। তিনি কি কখনো বাংলাদেশ এসেছিলো? বোধ করি না। কিন্তু লাভ ঠিকই চলে যায় সুদুর নরওয়ে-তে। আর আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের মুখে শুনবেন- দুই দিন দেশের বাইরে ছিলাম, এসে দেখি একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা! হায়রে! আমাদের ছক! প্রথাগত চিন্তা চেতনার মধ্যে থেকে এর বেশি আশা করা বোকামি।

আসুন, একটু চোখ মেলি। দেখি, সামনের-রা উধাও হয়ে যাচ্ছে কোথায়। জুকারবার্ক হল, সেই পালের গোদা যার জালে আছে ৯৫৫ মিলিয়ন friends। এক্ষেত্রে ধন্যবাদ পেতে পারে জুকারবার্ক। পালের দারুন একটা নাম দিয়েছেন- friends। ছকটাও দারুন। সুদূর আমেরিকায় বসে পেয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞাপনের টাকা। আর, আমাদের দেশের পত্রিকা ওায়ালারা মোড়ে বসিয়েছেন বিজ্ঞাপন বুথ! আর নিজে না থাকলে তো গায়ে গোবরে হবার ভয় আছেই!তবে, আমাদের দেশে কিছুটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ইনকিউবেশন (সিইও তৈরির কারখানা) গড়ে উঠেছে। সিইও হবার স্বপ্ন অনেক যুবকের চোখে মুখে- কারো স্বপ্নটা তড়নায় আর কারোটা ফ্যাশনে (কারন ভিজিটিং কার্ডে সিইও লেখা থাকবে, এটা তো আর চারটে খানি কথা নয়!)।

যাহোক, Entrepreneur হল সমাজের সেই অল্পসংখ্যক ব্যক্তি। যাদের শুরুর সময়টা কোনভাবেই ভাল যায়না। কারন, এলোমেলো হেঁটে পাল থেকে বেরিয়ে এসে পালকে নিয়ন্ত্রনের আইডিয়া যখন আপনাকে পেয়ে বসবে তখন সবাই আপনাকে পাগল-ই বলবে। তাই এসময়টায় বৈচিত্র্যে থাকে ভরা। এইসব বৈচিত্র্যে ভরা দিন রাত্রি নিয়েই দ্বিতীয় পর্ব।

দ্বিতীয় পর্ব পর্যন্ত ভাল থাকুন সবাই।

একই রকম আরো কিছু পোস্ট