"প্রিয়টেক ২০১১: তথ্যপ্রযুক্তি বর্ষপত্র" - একটি সেরা তথ্যপ্রযুক্তি প্রকাশনা

'প্রিয়টেক বর্ষপত্র ২০১১' বইটা দেখা ও পড়ার পর কিছু না লিখে থাকতে পারছি না, আবার বুক রিভিউ আমি কখনো লিখি নাই। তাই ভাবলাম নিজের ভাষায় কিছু লিখে ফেলি।
বইটি আমি খুব একটা সহজে পাইনি। ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক হয়ে ভার্জিনিয়াতে এসেছে। বন্ধু শহিদুল-কে ধন্যবাদ বইটি ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে আনা ও ভার্জিনিয়াতে পোস্ট করার জন্য। জাকারিয়া স্বপন-কে আর ধন্যবাদ-টন্যবাদ দিতে চাই না বইটি ঢাকায় শহিদুলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, কারণ স্বপন ভাইয়ের উৎসাহেই প্রযুক্তি বিষয়ে প্রথমে প্রিয়ব্লগে ও পরে প্রিয়টেকে প্রযুক্তি বিষয়ে লেখা শুরু করেছি। সুতরাং শুধুমাত্র ধন্যবাদ তার জন্য যথেষ্ট নয়!

বাংলাদেশে থাকাকালীন বিদেশি বইপত্রের আসল চেহারা কখনো দেখি নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন আমরা সাধারণত বিখ্যাত নীলক্ষেতে কপি থেকে আবার কপি করে সেই কপি বাঁধাই করে বা না করে কাজ চালাতাম। কিছু কিছু বইয়ের আবার ভারতীয় দরিদ্র ভার্সন পাওয়া যেত, অবশ্য আমেরিকা আসার আগে পর্যন্ত আমেরিকান আসল বই আর ভারতীয় দরিদ্র ভার্সনের পার্থক্যটা বুঝতাম না ! তখন ভারতীয় ভার্সনটিকেই অনেক কিছু মনে হোতো।
এক্সপ্রেস মেইলের বাক্স খোলার পর প্রিয়টেক বর্ষপত্র ২০১১ নামে যে বইটি বের হয়ে এল সেটি স্পর্শ করে আমি অভিভূত! বইটির আকার হবে প্রায় ১১.৫ X ৯ X ১ ইঞ্চি। বুঝতেই পারছেন বইটি অন্যসব বইয়ের (উপন্যাস, কবিতা) আকারের নয়। বড় আকারের টেক্সট বইয়ের আকার। চমৎকার কালো রংয়ের একটি কাভারের ভেতর বইটি রাখা হয়েছে। কাভারের উপর গোল্ডেন টাইটেল - বামে উপরের দিকে ছোট করে "স্বাধীনতার ৪০ বছর", ডানে নিচের দিকে "প্রিয়টেক ২০১১" ও লম্বালম্বি-ভাবে এক মাথা থেকে আরেকমাথা জুড়ে লেখা আছে "তথ্য প্রযুক্তি বর্ষপত্র। " কাভার থেকে বইটি বের করার পর থেকে বইটি বের করার প্রথমেই চোখে পড়বে মার্জিত একটি কালার-ফুল প্রচ্ছদ। টাইটেলটি একই স্টাইলে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন আফজাল হোসেন ও সম্পাদক আমাদের প্রিয় জাকারিয়া স্বপন। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে স্টিভ জবস-কে। সত্যিই তথ্য-প্রযুক্তির এমন একটি বর্ষপত্র স্টিভ জবস ছাড়া আর কাকে উৎসর্গ করা যায় ? যখন কোন ইনভেনশন ছিল না, শুধুই ছিল ইমপ্রুভমেন্ট ঠিক তখনই স্টিভ নিয়ে এলেন চোখ ধাঁধানো সব আবিষ্কার - আইপড, আইফোন, আইপ্যাড। শুরু করলেন পোস্ট-পিসি যুগ। শুরু করে দিলেন তথ্য-প্রযুক্তির নূতন একটি অধ্যায় ! এ ধারায় এখন হাঁটছে বাকী অন্যরা।

বইটির বিষয়বস্তুতে যাবার আগে প্রথমেই সম্পাদকীয়র কথা বলতে হয়। আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তোলা/সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে যে কজন ব্যক্তির অবদান আছে, তাঁদের মধ্যে জাকারিয়া স্বপন একজন। যায় যায় দিন-এ তখন তিনি চমৎকার সব কলাম লিখতেন। শুধু কি কলাম লেখা, আরো কতো কর্মকাণ্ড ! তাঁর কথা লিখতে চাইলে আলাদা করে একটি লেখা লিখতে হবে। অন্যান্য লিখার পাশাপাশি প্রিয়টেক বর্ষপত্রেও আছে তার চমৎকার একটি সম্পাদকীয়, যেমন তিনি লিখেছেন, "একটি জাতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবচে যে বিষয়টি জরুরী তাহলো সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সমাজকে আধুনিক করে, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিষ্ঠিত করে " আবার শেষ করেছেন এভাবে, "মানুষ বাঁচে আশায়, দেশ বাঁচে ভালবাসায়। আমাদের নিত্য দিনের বেঁচে থাকায়, আমরা যেন আমাদের এই দেশটিকে আরো বেশি ভালবাসতে পারি, সামনে এগুনোর সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাতে পারি, এই আশায়"।
বর্ষপত্রটি কয়েকটি অধ্যায়ে বিভক্ত:
১. টাইম লাইন /২০১১
২. টেক লাইফ
৩. সোশ্যাল মিডিয়া
৪. ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং
৫. নিরাপত্তা। সাইবার সিকিউরিটি
৬. স্টিভ জবস এবং ২০১১ সালে আরো যাকে আমরা হারিয়েছি
৭. প্রিয় দশ
৮. আগামীর প্রযুক্তি, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ।
প্রতিটা অধ্যায় তথ্যসমৃদ্ধ লেখায় পরিপূর্ণ। অধ্যায়গুলির বিন্যাসও সামঞ্জস্যপূর্ণ !
১. টাইম লাইন /২০১১
প্রথমেই টাইম লাইনের কথায় আসা যাক। এখানে পাওয়া যাবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘটনাবহুল ২০১১-কে প্রযুক্তির আলোকে। দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব ঘটনাগুলোই এই টাইমলাইন থেকে জানা যাবে। এখানে যেমন পাওয়া যাবে ইন্টেলের ট্যাবলেটের জন্য প্রথম 'এটম' প্রসেসর ছাড়ার কথা, তেমনি পাওয়া যাবে .XXX ডোমেইন চালুর খবর। আবার আছে মেগ হুইটম্যানের এইচপি-র নূতন সিইও হবার কথা কিংবা বাংলাদেশের মোস্তফা জব্বারের "বেসিস আজীবন সম্মাননা ২০১১' পদক লাভের কথা। এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলা যায় এই টাইম লাইনটি আর সাথে সাথে তথ্য-প্রযুক্তির জগতে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ অজানা ঘটনাগুলো হয়ে যায় জানা।
টাইম লাইনের পরেই আছে আমাদের সবার প্রিয় ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের চোখে দেখা গত ৪০ বছরে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির প্রযুক্তিগত পরিবর্তন। সত্যিই কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে খুব কম সময়ে আমাদের সাফল্য ঈর্ষণীয় এবং আমরা অবশ্যই আরো অনেকদূর এগিয়ে যাব। আমাদের এখন একটি জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘটে গিয়েছে বিপ্লব। আমার মনে পড়ে, আমি বাংলাদেশে থাকাকালীন উনার একটি লেখা পড়েছিলাম যেখানে তিনি লিখেছিলেন, যারাই এখন তথ্য-প্রযুক্তি বিপ্লবে অংশগ্রহণ করবে, তারাই পরবর্তীতে বিশ্বের দায়িত্ব নিবে। আমরা সেই তথ্য-বিপ্লবে অংশ নিতে পারি নাই কিংবা দেরী করে ফেলেছি কিন্তু আমাদের পাশের দেশ ভারত ঠিকই তথ্য-বিপ্লবে অংশ নিয়ে তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে।
তারপরেই আছে ২০১১ সালের সেরা ১০০ টি হাই-টেক পণ্যের কথা ও স্বল্প পরিচয়। এখানে আছে এলটিই, ম্যাক-বুক এয়ার, আইপ্যাড ২, কিন্ডেল ফায়ার, গুগল ওয়ালেট, সনির এনইএক্স ৭ ক্যামেরা, ফেসবুকের টাইমলাইন, ক্রোমবুক ইত্যাদি। বোঝা যায় যে, ২০১১ সেলার সেরা ১০০ টি পণ্য নির্বাচনে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেছে প্রিয়টেক। সহজেই জেনে নেয়া যায় ১০০ টি পণ্য বা পছন্দের পণ্যটি সম্পর্কে। তবে কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বিস্তারিত রিভিউ থাকলে ভালো হোত।
ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ - বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির আরো একজন পথিকৃৎ। বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির কথা তাঁকে বাদ দিয়ে হবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সমাজে তার গুরুত্ব নিয়ে তিনি চমৎকার একটি লেখা লিখেছেন। এই লেখাটি আমার একটি প্রিয় লেখা। আমার মনের একটি কথা তিনি এই প্রবন্ধটিতে লিখেছেন। সমাজে ক্রীড়াবিদ বা বিনোদনকর্মীরা যতটা সম্পদশালী কিংবা জনপ্রিয়, বিজ্ঞানী বা প্রযুক্তিবিদেরা কখনোই ততটা সম্পদশালী কিংবা জনপ্রিয় নন অথচ দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদদের অবদান ক্রীড়াবিদ বা বিনোদনকর্মীর চেয়ে অনেক অনেক বেশি। আমাদের অবশ্যই এটা নিয়ে ভাবা উচিৎ।
এখানে আরো লিখেছেন প্রথম আলোর মতিউর রহমান সংবাদপত্রে তথ্য-প্রযুক্তির কথা।
২. টেক লাইফ
এই অধ্যায়টি শুরু হয়েছে প্রতি মিনিটে প্রযুক্তি-বিশ্বে কী ঘটে যাচ্ছে তা নিয়ে, যেমন - প্রতি মিনিটে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট হয় ৬৯৫ হাজারেরও বেশি। তারপরেই আছে দেশের প্রযুক্তি-বিষয়ক খবরা-খবর যেমন - ওয়েব ভিত্তিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা কার্যক্রমের উদ্বোধন, দেশে অনলাইন গ্রন্থাগার চালু, ফেসবুকে সবচে বেশি খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয় বাংলাদেশ, জাতীয় ই-তথ্যকোষ, অন্তঃসত্ত্বা ও নবজাতকের জন্য মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি । দেশের সব প্রযুক্তি বিষয়ক খবরা-খবর দিয়ে সাজানো এটি।
২০১১ সালে বাংলাদেশে সকল আন্তর্জাতিক আয়োজনের ভিতরে অন্যতম বড় মাপের আয়োজনটি ছিল ই-এশিয়া ২০১১। এই ই-এশিয়া ২০১১ নিয়ে আছে বিস্তারিত একটি রচনা। আবার এই অধ্যায়টিতেও একটি টাইমলাইন আছে। এই টাইমলাইনটি প্রযুক্তি মেলা বিষয়ক। সারা বছরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রযুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ মেলাগুলোর খবর আছে এই টাইমলাইনে। তারপরেই আছে দোয়েল ল্যাপটপ নিয়ে বিস্তারিত একটি নিবন্ধ। যারা প্রিয়টেক পড়েন, তাদের নিশ্চয়ই জাকারিয়া স্বপনের "দোয়াল ল্যাপটপ একটি অনুরোধ" শিরোনামে লেখাটির কথা মনে আছে ! এই আবেগময় লেখাটির মাধ্যমে জাকারিয়া স্বপন প্রধানমন্ত্রীর নিকট দেশের শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে একটি করে দোয়েল ল্যাপটপ দেয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, কেন এটা দেয়া প্রয়োজন, দিতে কত খরচ হবে, কেমন করে দেওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কেও বলা হয়েছে লেখাটিতে। এই লেখাটি যারা এখনও পড়েন নাই, তারা পড়ে নিতে পারেন।
দেশীয় টেক লাইফের পর শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক টেক লাইফ। যারা প্রযুক্তি ভালোবাসেন, তারা তো অবশ্যই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘটে যাওয়া প্রযুক্তি বিষয়ক ঘটনাগুলো জানতে চাইবেন। যেমন - সবচে গতিময় সুপার কম্পিউটারের খবর, গুগলের টেলিভিশন সেবা, লিনাক্স ভিত্তিক নতুন মোবাইল ফোন অপারেটিং সিস্টেম, চীনের তৈরি করা সুপার কম্পিউটার, বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ইলেকট্রনিক সার্কিট কিংবা সম্পদে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ছাড়িয়ে গেল অ্যাপল ইত্যাদি।
এই অধ্যায়ে জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন লিখেছেন বিজ্ঞাপনচিত্রে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা। বাংলাদেশর টেলিকম অবকাঠামো নিয়ে লিখেছেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া
এই অধ্যায়টি শুরু হয়েছে গুগল প্লাস-এর আগমন দিয়ে। ফেসবুকের পরেই ২০১১ সালে আগমন ঘটেছিল গুগল প্লাসের । তারপরেই আছে ফেসবুকের নূতন করে নিজেকে সাজিয়ে নেওয়ার কথা। এখানে আছে ফেসবুকের টাইমলাইন, জেসচারের কথা। ফেসবুকের পরে টুইটারের কথা না বললেই নয়, সেভাবেই এসেছে টুইটার। গুগল প্লাস, ফেসবুক, আর টুইটার নিয়ে তিনটি লেখায় ২০১১ সালে সংযোজিত নূতন ফিচারগুলি সম্পর্কে জানা যাবে। এই বড় তিনটি সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও কিন্তু আরো কিছু ২০১১ সালে গুরুত্বপূর্ণ ছিল যেমন গ্রুপন, আর অসংখ্য অ্যাপস। প্রিয়টেক এই দুটিকেও বাদ দেয় নি।
এখানেও একটি টাইমলাইন আছে। একনজরে ১৯৭১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দেখে নেওয়া যায় সামাজিক মিডিয়ার ইতিহাস। এখানে পাবেন সেই ইউজনেট, জিওসিটিজ থেকে শুরু হয়ে আমেরিকা অনলাইন, ফ্রেন্ডস্টার হয়ে আজকের মাইস্পেস, ইউটিউব, টুইটার, ফেসবুক, গুগল প্লাসের কথা।
তারপরেই আছে ইউটিউবকে নিয়ে বিশাল নিবন্ধ। এখানে ২০০৫ সালে ইউটিউবের আত্মপ্রকাশ থেকে শুরু করে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঘটনাবলী দেয়া আছে। আছে ইউটিউব স্কুলের কথা, যা নাকি তৈরি করা হয়েছে শুধুমাত্র শিক্ষক ও ছাত্রদের চিন্তা মাথায় রেখে। আরো আছে ইউটিউবের টেলিভিশনের জায়গাটি দখল করার সম্ভাবনার কথা।
এরপরে অবধারিতভাবেই চলে এসেছে লিঙ্কড ইন নিয়ে একটি নিবন্ধ। এখানে জেনে নিতে পারবেন কীভাবে লিঙ্কড ইন ব্যবহার করে আপনার পেশাগত জীবনকে সিঁড়ি বেয়ে উপরের ধাপে নিয়ে যেতে পারেন কিংবা খুঁজে পেতে পারেন নূতন সম্ভাবনা।
ড. তামান্না সুলতানা লিখেছেন সোশ্যাল ডিএনএ নেটওয়ার্কিং-এর কথা। বর্তমান জীবনটি হয়ে উঠেছে মুলতঃ অনলাইন-নির্ভর। নতুন এই অনলাই্নে সেকেন্ড লাইফ বা ভার্চুয়াল লাইফের নিয়ম-নীতি কেমন হওয়া উচিত বা নিজেকে কেমন করে নতুন এই জীবনে খাপ খাইয়ে নিবেন তা নিয়ে আছে ফাতেমা প্রমির একটি অনবদ্য রচনা।
আরো আছে ব্রান্ডিং, গুগল প্লাস নিয়ে কিছু টিপস। তারপরে আছে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা - ফেসবুকে যে দশটি জিনিস আপনি কখনোই করবেন না। এটি অবশ্যই পড়া উচিত।
সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমাদের একের সাথে অন্যের দূরত্ব ক্রমেই কমে আসছে। কমতে কমতে এটা ৪.৭৪ ডিগ্রীতে চলে এসেছে এবং কীভাবে এটা হয়েছে, তা জানতে চাইলে পড়তে পারেন জাকারিয়া স্বপনের লেখাটি।
এই অধ্যায়ে আরো লিখেছেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মোঃ শিরীন ও চ্যানেল আই-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
৪. ক্যারিয়ার ও ফ্রিল্যান্সিং
এই অধ্যায়টি তৈরি করা হয়েছে প্রধানত ফ্রি ল্যান্সিংকে উদ্দেশ্য করে। ফ্রি ল্যান্সিং সম্পর্কে জানতে চাইলে - কীভাবে শুরু করা যায়, শুরু করার পর কী কী মেনে চলতে হবে, সুবিধা-অসুবিধা সমূহ, কাজের প্রকারভেদ, পেমেন্ট সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ে মোঃ জাকারিয়া চৌধুরীর একটি বিস্তারিত লেখা আছে এ অধ্যায়ে। যারা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চাইছেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই পড়া উচিত। অনেক কোম্পানির মাধ্যমেই ফ্রি ল্যান্সিং করতে পারেন। প্রিয়টেক বর্ষপত্রে উদাহরণ হিসেবে এসেছে ও-ডেস্ক নিয়ে একটি আর্টিক্যাল। এছাড়াও আছে আউটসোর্সিং-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট, সেরা দশজন আউটসোর্স বিশেষজ্ঞ, লেখক হিসেবে যারা ফ্রি ল্যান্স করতে চান - এসব নিয়ে আরো চমৎকার কিছু লেখা।
আমার কাছে এই অধ্যায়টি স্বয়ং-সম্পূর্ণ মনে হয় নি। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে ক্যারিয়ার সম্ভাবনা, কীভাবে তথ্য-প্রযুক্তিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলা যায়, তথ্য-প্রযুক্তিতে নূতন কী কী ধরণের ক্যারিয়ার তৈরি হতে চলেছে - এসব বিষয়ে কিছু লেখা থাকতে পারত। যাই হোক, আশা করি পরবর্তীতে অবশ্যই থাকবে।
তবে এখানে আছে জাকারিয়া স্বপনের আরো একটি জনপ্রিয় লেখা "কম্পিউটার সায়েন্স পড়বো কি পড়বো না?" এটি মূলত: এসএসসি ও এইচ এস সি-এর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যারা এখনও ঠিক করতে পারছে না যে, তারা কী নিয়ে পড়াশুনা করবে বা কী ধরণের পেশায় তারা ভবিষ্যতে যাবে।
৫. নিরাপত্তা, সাইবার সিকিউরিটি
এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রথমেই আছে কম্পিউটার চালু করার পর পরই যে পদে পদে বিপদ শুরু হয়ে যায় তা নিয়ে একটি অনবদ্য রচনা। নিজের কম্পিউটারটিকে নিরাপদ রাখার জন্য কী কী করা উচিত, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল, পাসওয়ার্ড পলিসি, ব্যবহার ভিত্তিক নিরাপত্তা ইত্যাদি এই নিবন্ধটিতে আলোচনা করা হয়েছে।
ভাইরাস - এটি বর্তমানে সবচে বড় সমস্যা। ভাইরাস নিয়ে আছে চমৎকার একটি নিবন্ধ। ভাইরাস কী, আপনার কম্পিউটারটিকে কীভাবে ভাইরাস-মুক্ত রাখবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে। স্প্যাম-ফিশিং হল আরেক ভয়ানক সমস্যা। তারপরেই আছে ফিশিং-ফার্মিং নিয়ে একটি লেখা যেখানে জানা যাবে কী এই ফিশিং, এরা কী কী ক্ষতি করতে পারে, কীভাবে এদের হাত থেকে বাঁচা যাবে।
"কীভাবে পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করবেন" - এটি একটি অবশ্য পাঠ্য লেখা। পর্ণোগ্রাফি কখনো, কোনভাবেই বন্ধ করা যাবে না। তাই জানা থাকা উচিত- এই বিষয়ে কী কী করা উচিত। এটা নিয়েই আছে একটি লেখা, যা অভিভাবকদের অবশ্যই পড়া উচিত।
তারপরেই আছে, ক্যাটরিনা কাইফ - এবার কাঁপন ধরালো সাইবার জগতেও।
৬. স্টিভ জবস এবং ২০১১ সালে আরো যাকে আমরা হারিয়েছি
স্টিভ জবসের কথা বলে শেষ করা যাবে না। স্টিভ জবসের জীবনকাল নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি লেখা লিখেছেন রিয়াজ মাহমুদ। মনে আছে কি সেই ২০০৫ সালে জবসের স্ট্যানফোর্ডে দেয়া ভাষণটির কথা? প্রতিটা কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীর এই ভাষণটি দেখা, শোনা ও ভাষণের বক্তব্য নিয়ে ভাবা উচিত। সেই ভাষণটির অনুবাদ দেয়া আছে "ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা হও" শিরোনামে লেখাটিতে। আমার মতে, এটি প্রিয়টেক বর্ষপত্র ২০১১-এর সেরা লেখা।
বেঁচে থাকাকালীন স্টিভ জবসের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব একটা জানা যায়নি। জবসের প্রেম নিয়ে এখানে আছে চমৎকার একটি লেখা। যারা উদ্যোক্তা বা ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হবার কথা ভাবছেন তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য একটি লেখা আছে "স্টিভ জবস-এর ডিজাইন শৈলীর ৬ টি মূলমন্ত্র" নামে। এরপরেই আছে জবস-কে স্মরণ করে জবসের বোন মোনা সিম্পসনের একটি লেখা। জবসের আবিষ্কারই শুধু বিস্ময়কর ছিল না। তার অন্যান্য কর্মকাণ্ডও ছিল চমকপ্রদ। সেই চমকপ্রদ কর্মকাণ্ড নিয়েই আছে "স্টিভ জবসের ১০ টি অবাক করা তথ্য।" তারপরেই আছে স্টিভ, ক্রিসান এবং লিসা-কে নিয়ে একটি লেখা। হাইস্কুলের বান্ধবী ক্রিসানের গর্ভে জবসের মেয়ে লিসার জন্ম হয় ১৯৭৮ সালের ১৭ ই মে। স্টিভ বিশ্বটিকে কেমনভাবে পরিবর্তন করতে চাইতেন, স্টিভের ১০ টি বৈপ্লবিক আবিষ্কার নিয়ে আছে আরো কিছু লেখা।
এখানে আরো আছে আরো একজন জনপ্রিয় মুনির হাসানের "ফিরে দেখা ২০১১" নামে একটি নিবন্ধ।
৭. প্রিয় দশ
এই অধ্যায়টি সাজানো হয়েছে শুধুমাত্র দেশের তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে। এখানে আছে দেশের সেরা ১০ টি কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগ, সেরা ১০ টি তথ্য-প্রযুক্তি উন্নয়ন, প্রিয় ১০ তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক, এবং প্রিয় ১০ প্রযুক্তি-বান্ধব ব্যাংকের কথা।
৮. আগামীর প্রযুক্তি, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ
যারা তথ্যপ্রযুক্তি ভালোবাসেন, তথ্যপ্রযুক্তির খবরা-খবর রাখতে পছন্দ করেন তাদের এই অধ্যায়টি ভালো লাগবে নিঃসন্দেহে । এখানে আছে টাচ কম্পিউটিং-এর কথা, সোশ্যাল জেসচার, মোবাইল পেমেন্ট কিংবা আইপ্যাডের পরে আর কী আসতে পারে তার কথা। আরো আছে ফ্লেক্সিবেল স্ক্রিন, অনলাইন টিভির কথা।
আমি একটু আগেই বলেছি যে, তথ্য-প্রযুক্তির সম্ভাবনাময় চাকুরীর ক্ষেত্র নিয়ে কিছু লেখা যেত। সেই অভাবটি পূরণ করেছেন এখানে ইকবাল আহসান। বর্তমানের ছাত্র-ছাত্রীদের এই লেখাটি পড়া উচিত।
আরো অনেক আর্টিক্যাল আছে যেগুলোর কথা বলিনি যেমন - আব্দুল মুক্তাদিরের ঔষধ শিল্পে বিবর্তন, নাসিরুদ্দিন ইউসুফের "নাটকে ও চলচ্চিত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির নান্দনিকতা" নিয়ে চমৎকার একটি লেখা, মোস্তফা জব্বারের "ডেস্কটপ পিসি উত্তর যুগ ও দোয়েল", শাইখ সিরাজের "ই-কৃষি ও আজকের প্রেক্ষাপট" ইত্যাদি।
এছাড়াও প্রিয়টেকে যারা প্রায় নিয়মিত লিখেন, তাদের কিছু খুবই ভালো লেখা আছে। তাদের লেখা ছাড়া এই বর্ষপত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যেত। আমি চাইবো ভবিষ্যতে প্রিয়টেকের লেখকদের সব লেখাগুলি যেন অগ্রাধিকার পায়।
বর্ষপত্রটি শেষ হয়েছে সম্পাদক জাকারিয়া স্বপনের একটি লেখা দিয়ে। "প্রিয় ল্যাপটপ ব্যাংক" - খুবই ভালো ও মহান একটি উদ্যোগ। আমাদের সবার এটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসা উচিত। জাকারিয়া স্বপনের বক্তব্য দিয়েই আমিও আমার এই লেখাটি শেষ করি,
"দেবেন, কেউ ? একটা ভাঙ্গা ল্যাপটপ!"
** এটি বিশাল একটি বই। অনেক কিছুই হয়তবা আমার আলোচনা থেকে বাদ পড়ে গিয়েছে। তবে বর্ষপত্রটি সংগ্রহে রাখার মত !!
- Shawnchoy.Rahman's blog
- Login or register to post comments













