টক-শো, একটি বাক্য, বাংলা সিনেমা, এম এ জলিল অনন্ত এবং বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়া !

সময়টা ঈদের পঞ্চম দিন। নিউজ চ্যানেল সময় টেলিভিশনে ঈদের অনুষ্ঠানমালা আনন্দ আড্ডা নামে একটি অনুষ্ঠান চলছে। সাইফুদ্দিন রবিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর ছুটির দিনে ম্যাগাজিনের সম্পাদক ইকবাল হোসাইন চৌধুরী, নাট্য ও সিনেমা পরিচালক এস এ হক অলীক এবং সম্প্রতি বাংলা সিনেমার আলোচিত মুখ ও ঈদে মুক্তি পাওয়া মোস্ট ওয়েলকাম সিনেমার নায়ক এম এ জলিল অনন্ত এবং নায়িকা বর্ষা। উপস্থাপকের এক প্রশ্নে জবাবে নায়ক অনন্ত একটি উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, “আর ইউ মাদার পোম গানা”।

এই একটি কথার সূত্র ধরেই সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়ে যায় পোস্টের ঝড়। দেশের এখন সবেচয়ে আলোচিত ডায়লগ এটি। আলোচনা জমে উঠে সোশ্যাল মিডিয়াতে। ফেসবুক, বাংলা ব্লগ, টুইটার, গুগল প্লাসে সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় এখন নায়ক এম এ জলিল অনন্ত এবং তার কথা। শুধু সোশ্যাল মিডিয়া না সংবাদ পত্র, রেডিও, টেলিভিশন আলোচনা হচ্ছে তাকে নিয়ে।
এ বি সি রেডিও শুধু তার আলোচনা-সমালোচনা করার জন্য “শব্দ গল্প দ্রুম” নামে একটি অনুষ্ঠানের পর্ব আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের ৩ ঘন্টা সময় কালে আলোচ্য বিষয় ছিলো শুধু এম এ জলিল অনন্ত ও তার মুখেরে ভাষা। ঐ রেডিও-তে দেয়া তার সাক্ষাৎকারের বেশ কিছু অংশ তারা প্রচার করেছেন অনুষ্ঠানটিতে । সেই কথায় উঠে এসেছে তার ভাষা, বাংলা সিনেমায় তার নায়ক হওয়ার কাহিনী, এবং তার আগামীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তিনি তার ভুল উচ্চারণের জন্য আত্বপক্ষ সমর্থণ করে আগামীতে বাংলা সিনেমা নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

শুধু তার ইংরেজি উচ্চারণ নিয়েই আলোচনা হচ্ছে না। হচ্ছে তার সিনেমা, বাংলা সিনেমায় তার বিনিয়োগসহ নানা বিষয় নিয়ে। তাকে এবং তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা জমে উঠেছে।
ফেসবুকে খোলা হচ্ছে তার নামে গ্রুপ। ব্লগ লেখা হচ্ছে তাকে নিয়ে। দুই পক্ষই মুখোর তার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি নিয়ে। ব্লগ ও ফেসবুক লেখা গুলো অনুসন্ধান করে দেখা যায়। পক্ষের যুক্তি হলো:- অনন্ত বাংলা সিনেমা এক মুখ থেকে রক্ষা করেছেন। সিনেমা প্রেমিরা আবার হল মুখি হতে শুরু করেছে। তাদের সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো একটি মৃত্যু পায় শিল্পকে তিনি একাই বাচিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। তার প্রত্যেকটা সিমেনা বড় বাজেটের। ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। হোক না তার উচ্চারণে কিছু ভুল।
আর তার বিপক্ষে লেখা ফেসবুক, ব্লগ থেকে দেখা গেছে, তার ভুল ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছেন। তাদের লেখা বড় যুক্তি হলো, সবার নায়ক হতে হবে কেন? টাকা থাকলেই সব কিছু করা যায় না বা উচিত না। আগে ইংরেজি বলা সব বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা গ্রহন করে সিনেমায় নায়ক হওয়া উচিত ছিলো।
চলতে থাকা বুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্থান করে নিয়েছে এম এ জলিল অনন্তের ডায়লগ। বুয়েটের আন্দোলনকারীদের পোস্টারে লেখা হচ্ছে তার ছবির ডায়লগ। শিক্ষাখীদের হাতে শোভা পাচ্ছে "vc & pro vc ইউ আর পোম গানা", ""vc & pro vc ইউ ইট ফুট ইন বাংলাদেশ"-সহ অনন্ত ছবিতে ব্যবহার করা বিভিন্ন ডায়লগ।

ফেসবুক বা ব্লগে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা তো আছেই। একটি দল ফেসবুকে তাকে নিয়ে বিভিন্ন হাস্যকর গ্রুপহস বিভিন্ন ছবি পোস্ট করছে। তার ইংরেজিতে কথা বলার বিভিন্ন শব্দ দিয়ে গ্রুপের শিরোনাম দিচ্ছে। এছাড়া আছে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ডায়লগ নিয়ে লেখা ছবি পোস্ট।
অনন্তকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার এই পাগলামী শুধু একটি কথাই মনে করিয়ে দেয় - আমাদের হাতে অনেক সময়, কিন্তু বিনোদনের কোনও মাধ্যম নেই। তাই একজন নতুন নায়কের ভুল ইংরেজী নিয়ে পুরো সমাজ ঝাপিয়ে পড়তে পারে। ব্যয় করতে পারে তাদের অমূল্য সময়। এটা থেকেই বিনোদনের প্রশান্তি পেতে পারে! বিনোদিত হতে পারে! এটাই যেন বর্তমান সময়ের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ!
- badol khan's blog
- Login or register to post comments













