বাংলাদেশে হ্যাকারদের উত্থান এবং আশার আলো! "হ্যাকিং" মানেই খারাপ নাকি জানার ভুল?

হ্যাকিং এবং হ্যাকার শব্দ দুটি দেখলেই যেন কিশোর মনে শিহরণ জাগিয়ে তোলে। তরুণ প্রজন্মের কাছে অন্যরকম এক এডভ্যাঞ্চার হলো এই দুটি শব্দ। এইতো কয়েক বছর আগেও আমাদের দেশে এই শব্দ দুটি খুব বেশি পরিচিত ছিল না। হ্যাকার মানেই সবার মনের পর্দায় ভেসে উঠতো এমন একজনের ছবি যে অন্যের ব্যাংক আইডি চুরি করে নিজের জন্য টাকা ডাকাতি করে। তবে এখন সময় বদলেছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম অনেক বেশি সচেতন।
হ্যাকার কাকে বলে তা এখন অনেকেই ভাল মতো জানে। আমি আমার এই পোস্টে দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।
১. হ্যাকারদের নিয়ে ভুল ধারণা
২. বাংলাদেশে হ্যাকারদের নিয়ে অপার সম্ভাবনা
১. হ্যাকারদের নিয়ে ভুল ধারণা
এখনও মানে এই ২০১২ সালেও অনেক শিক্ষিত মানুষ আছেন যাদের কাছে হ্যাকাররা ঘৃণিত চরিত্র। আসলে এখানে দোষ হ্যাকারদের না, দোষ হলো ঐ সব ব্যক্তিদের যারা কখনই এই বিষয়ে জানতে চাননি বা জানতে চান না।

আর সবচেয়ে মজার বিষয় কি জানেন? এরাই সবচেয়ে সহজে হ্যাকিং এর শিকার হয়। অর্থাৎ আপনি হ্যাকারদের কাছ থেকে যদি নিরাপদ থাকতে চান তাহলে আপনাকেও হ্যাকার হতে হবে। আরেকটা কথা বলে রাখা ভাল সকল ক্ষেত্রেই কিছু 'অসৎ ব্যক্তি' রয়েছে তেমনি হ্যাকারদের মাঝেও এমন কিছু অনৈতিক হ্যাকার রয়েছে। তবে এদের দিয়ে সব হ্যাকারদের মাপা যাবে না।
হুম যা বলছিলাম। আপনি যদি হ্যাকারদের ভয় পেয়ে বা ঘৃণা ভরে হ্যাকিং বিষয় থেকে দূরে থাকেন তাহলে আপনিই ক্ষতির শিকার হবেন। ব্লগে যখন হ্যাকিং পোস্ট করা হয় অনেকেই তখন হায় হায় করে উঠে আরে আরে করো কি করো কি! সবাইতো হ্যাকিং জেনে যাবে আর ঘরে ঘরে হ্যাকিং শুরু হয়ে যাবে। অনেকটা মাথা ব্যথায় মাথাই কেটে ফেলার মতো।
ভাল খবর হচ্ছে এই ধরণের মানুষের পরিমাণ এখন অনেক কম। বেশিরভাগ লোকই বয়স্ক যারা নতুনকে গ্রহণ করতে ভয় পান। এছাড়াও সরকারি কিছু আমলাতো রয়েছেনই। ভুল ধারণার বিপক্ষে আরো অনেক কিছুই বলা যায় তবে পোস্ট বড় হয়ে যাবে তাই এই বিষয়ে আর কিছু বলছি না। শুধু অনুরোধ করবো এই চমৎকার লিখাটি পড়তে।
ক্ষতিকর হ্যাকিং নাকি ভালোবাসা?
২. বাংলাদেশে হ্যাকারদের নিয়ে অপার সম্ভাবনা
আপনি কি জানেন বাংলাদেশে বিশ্বমানের হ্যাকার রয়েছে? বাংলাদেশের এক হ্যাকার একাই এক সাথে প্রায় ৭ লক্ষ ওয়েব সাইট হ্যাক করে সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দেয়! বাংলাদেশে রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু হ্যাকার গ্রুপ। কিছুদিন আগে ভারতের বিরুদ্ধে সাইবার ওয়ারে বাংলাদেশের অভুতপূর্ব সাফল্যের পিছনে এই সব হ্যাকার গ্রুপের অবদানই বেশি।
আমাদের দেশের সাইবার অবস্থা খুবই দুঃখ জনক। প্রত্যেকটা সরকারি ওয়েবসাইট নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সেই মান্দাতা আমলের ওয়েব ডেভলপার দিয়ে সরকার এই সব সাইট ডেভেলপ করছে। অথচ আমাদের দেশের এই সব মেধাবী হ্যাকারদের কেন সরকার ব্যবহার করছে না? উন্নত বিশ্বে হ্যাকারদের যেখানে সরকারি সাইবার নিরাপত্তায় নিয়োগ দিয়ে রাখা হয় সেখানে বাংলাদেশে কেন হ্যাকারদের ঐভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না? আমার মনে হয় সরকার যদি মেধাবী এই তরুণ হ্যাকারদের কাছে সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্ব দিতে চায় তাহলে খুশি মনে এবং বিনামূল্যে এই দায়িত্ব নিবে। শুধু একবার সুযোগ যদি সরকার দেয় তাহলেই হ্যাকাররা দেখিয়ে দিবে তাদের ক্ষমতা।

বর্তমানে ভারত ধীরে ধীরে আইটি সেক্টরে ক্রমশই শক্তিশালী হচ্ছে। ভারত সরকার খুব বেশিদিন হয়নি আইটি সেক্টরকে গুরত্ব দেয়া শুরু করেছে সেই তুলনায় ভারত অনেক তাড়াতাড়িই সফলতা দেখতে শুরু করেছে। ফ্রীল্যান্সিং এ ভারতের অবস্থান বেশ পাকাপোক্তই বলা যায়। জনসংখ্যাবহুল পাশের দেশ ভারত যদি পারে তাহলে আমরা কেন পারবো না? আমাদের কেন পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হচ্ছে না?
বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন অনেক সেক্টরেতো অনেক টাকা খরচ করলেন এবার আইটি সেক্টরে একটু খেয়াল করুন। মেধাবী তরুণদের নিয়ে সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করতে এগিয়ে আসুন।
ধন্যবাদ সবাইকে।
- Hasan Jubair's blog
- Login or register to post comments










Comments
Hi Shaina you are too
Hi Shaina you are too beautyful....:)....I Hope,, God make u god's own hand academic writing services.
thanks