মার্স রোভারের ক্যামেরা এবং কম্পিউটার কেন এত ছিমছাম?

fatema promy's picture

সম্প্রতি নাসাকিউরিসিটি রোভারের মঙ্গল গ্রহে গমন এবং সেখানকার বিভিন্ন তথ্য ও ছবি প্রেরণের বিষয়টি বেশ আলোড়ন এবং উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নিঃসন্দেহে এটি আলোচিত হবার মতই ঘটনা। এই অভিযানে তারা সাত মিনিটের একটি দুর্যোগে পড়েও তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। এক টনের কিউরিসিটি রোভার সফলভাবে অবতরণ করেছে মঙ্গল গ্রহে। এসব কারণে অবশ্যই বাহবা পাবার যোগ্য তারা। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে তাদের ক্যামেরা এবং কম্পিউটার কেন এত ছিমছাম, সাদামাটা?

নাসার কিউরিসিটি রোভারে নেয়া হয়েছে সাদামাটা কিছু ডিভাইস। তাদের ক্যামেরাটি মাত্র দুই মেগা পিক্সেল! এবং কম্পিউটার চিপ ‘পাওয়ার পিসি ৭৫০’। এই স্পেস ক্র্যাফট টিতে রয়েছে মাত্র ৪.৫ গিগাবাইট ডেটা স্টোরেজ!

নাসার ডেপুটি প্রধান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, মানুষ অনিবার্যভাবেই এই বিষয়টি নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন করে যাচ্ছে। তিনি জানান, তাকে একজন প্রশ্ন করেছে, “তোমরা কি মঙ্গল গ্রহের ব্যাপারে বলছ?! তাহলে তোমাদের সাথে সর্বাধুনিক কোন প্রযুক্তি নেই কেন? তোমাদের পুরো পিসিতে যে স্টোরেজ, আমার মেমোরি স্টিকে তার চেয়ে অনেক বেশী মেমোরি আছে!”

এই ব্যাপারে নাসার বিজ্ঞানীরা বেশী কিছু বলেননি। তারা খুব সংক্ষেপে উত্তর দেন। বিভিন্ন মহাকাশ গবেষক এবং নাসার দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই মিশনটি শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে। সেসময় রেডিয়েশন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত কারণে মহাকাশ যাত্রায় বেশ কাঠিন্য আরোপ করা হয়। তখন স্টেট অব দ্য আর্ট টেকনোলোজি অনুসারে এই সাধারণ কম্পোনেন্ট গুলোই বিবেচিত হয়েছিল বেশ ভালো মানের কম্পোনেন্ট হিসেবে। এবং এগুলো মহাকাশে নেবার অনুমতি পেয়েছিল তারা।

আসলে সমস্যা হচ্ছে আজকাল প্রযুক্তির গতি এত বেশী দ্রুততর হয়ে গেছে যে, এক দশক আগেও যা মানুষের কাছে স্বপ্ন সম হাইটেক হিসেবে পরিচিত পেত, সেগুলো আজকাল হাস্যকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এবং তারচেয়ে অনেক বেশী আধুনিক এবং অভাবনীয় প্রযুক্তি চলে এসেছে সাধারণের হাতের নাগালে।

প্রযুক্তি যেমনই হোক, একথা মানেতেই হবে নাসার পাঠানো মঙ্গল পৃষ্ঠের ছবিগুলো আকর্ষণীয়। তাছাড়া মহাকাশে পাঠাবার জন্য পুরো স্পেসক্র্যাফট ডিজাইন করা, পরীক্ষা করা এবং সেখান থেকে পৃথিবীতে ছবি পাঠানো কিন্তু যে সে কথা না! এজন্য দীর্ঘ দিনের দীর্ঘ কষ্ট ও ক্লান্তিকর প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে তাদেরকে যেতে হয়েছে। এটি কিন্তু ফেলনা ভাবার মত বিষয় নয় মোটেও!

রোভার থেকে মঙ্গলকে প্রদক্ষিণ করছে এরকম দুটি স্যাটেলাইটে ডেটা পাঠানো হয়। সেখান থেকে তা এসে পৌঁছে পৃথিবীতে। এই ডেটা স্ট্রিমিং খুবই সীমিত; একদিনে মাত্র ২৫৬ মেগাবিট বা মাত্র ৩২ মেগা বাইট! তাছাড়া রোভার শুধু ছবি পাঠাচ্ছে না। তাদেরকে অন্যান্য রেকর্ডিং এবং হিসেবনিকেশও পাঠাতে হচ্ছে।

যাইহোক, কিছু কিছু মিডিয়া কিন্তু নাসাকে ব্যঙ্গ করতে ছাড়ছে না। নানা রকম মিথ্যা গুজব ছড়ানো এবং কৌতুক করা কিন্তু থেমে নেই। সেরকম এক কৌতুক দেখতে পারেন উদাহরণ হিসেবে। এক পত্রিকায় স্যাটায়ার হিসেবে ছেপেছে:

“স্টোরেজ শেষ হয়ে যাওয়াতে মঙ্গলে শেষ হল রোভারের অভিযান!”