আইফোনের পরবর্তী ভার্সনে সম্ভাব্য ফিচারসমুহঃ

আইফোন তার প্রত্যেক ভার্সনেই নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে ইউজারদের পরিচিত করেছে । তাই এর কোন নতুন ভার্সন বের হবার আগেই গুঞ্জন শুরু হয়ে যায় কি থাকছে তাদের নতুন প্রডাক্টে ? তাদের নতুন ফোনের সম্ভাব্য ফিচার সমূহ নিয়ে আমার এবারের লেখা ।
১)৪ ইঞ্চি স্ক্রিন:
আইফোন এর পরবর্তী ভার্সনের সম্ভাব্য ফিচার সম্পর্কে অনেক কথাবার্তা সোনা যাচ্ছে । অনেকগুলো রিপোর্ট অনুসারে এটি হতে পারে ৪ ইঞ্চি স্ক্রিনের । এটি হবে ১৬*৯ ফরম্যাটের স্ক্রিন । এর স্ক্রিনের রেজুলেশন হবে ১১৩৬*৬৪০ অ্যাপলের স্পোকসম্যান হিসেবে পরিচিত জন গারবার এই তথ্য দিয়েছেন ।

এর চার ইঞ্চি স্ক্রিনে নতুন ফিচার হিসাবে প্রত্যেক হোম পেজ এর নিচে যুক্ত থাকবে আইকনের একটি আলাদা সারি । ফলে বর্তমান ৯৬০*৬৪০ এর মত একে স্কেল পরিবর্তন করে দেখতে হবে না । আই ফোনের ৩.৫ ইঞ্চি স্ক্রিন বাজারে এসেছে কয়েক বছর হল । বেশ কয়েকটি পরিসংখ্যান অনুসারে ইউজার আরও বড় স্ক্রিন প্রত্যাশা করে । তাই অ্যাপল এই স্ক্রিন অন্তুঃভুক্ত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

২)LTE:
এই প্রযুক্তির পুরো নাম long Term Evolution এটি 4G LTE হিসাবে বেশী পরিচিত । এটি মোবাইল থেকে মোবাইলে দ্রুত গতির ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন ও ডাটা টার্মিনালের জন্য একটি নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড । এটি GSM/EDGE এবং UMTS/HSPA টেকনোলজির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে । নতুন উদ্ভাবিত একটি মডুলেশন টেকনিকের মাধ্যমে এই স্ট্যান্ডার্ড ডেটা কমিউনিকেশনের গতি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে । শুধু গতি বাড়াতে নয় এই স্ট্যান্ডার্ড নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার কে আরও সিম্পল করেছে ।
একে 4G ওয়্যারলেস সার্ভিসও বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে LTE চিপ সেট দ্বারা তৈরি ডিভাইস গুলো বেশ স্লিম ও এদের পারফর্মেন্সও দারুণ ধারনা করা হচ্ছে অ্যাপল তার পরবর্তী ফোনে এই চমক নিয়ে আসবে।
৩)NFC:
NFC এর পুরো নাম Near Field Communication . এটি দুটি স্মার্ট ফোনের মধ্যে রেডিও কমিউনিকেশন স্থাপনকারী একটি স্ট্যান্ডার্ড ।
এটি কমিউনিকেশন প্রোটোকল ও ডাটা ট্রান্সফার রেট বিষয়ক একটি স্ট্যান্ডার্ড যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে । এই টেকনোলজির মাধ্যমে ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, ইত্যাদি সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব । তাছাড়াও এটি সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে । কোন প্রকার ফিজিক্যাল সংযোগ ছাড়া পেমেন্ট সিস্টেমের ডেভেলপমেন্ট করতেও এই স্ট্যান্ডার্ড সাহায্য করবে । এই প্রযুক্তি ব্যাবহার করা হয়েছে গুগল ওয়ালেটে ।
NFC পরিচালিত হয় ১৩.৫৬ মেগাহার্জে ও ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে ১০৬ কিলো বিট/সেকেন্ড থেকে ৪২৪ কিলো বিট/ সেকেন্ড পর্যন্ত । সহজ কথায় বলতে গেলে NFC ছোট দূরত্বে ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন স্থাপনকারী একটি প্রযুক্তি । ধারনা করা হচ্ছে লেটেস্ট মডেলের অ্যাপল ফোনে এই প্রযুক্তির মিশ্রণ ঘটবে । NFC প্রযুক্তি সহ মোবাইলের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায় এমন একটি ফোন অবশ্যই ক্রেতা পছন্দ করবেন ।
৪)আধুনিক ডক কানেক্টর:
শোনা যাচ্ছে যে অ্যাপল পরবর্তী আই ফোনে সম্পূর্ণ নতুন একটি কানেক্টর ব্যাবহার করতে যাচ্ছে ।
এই নতুন কানেক্টর আই ফোনের ৩০ পিনের কানেক্টর কে বিদায় জানাবে ও ধারণা করা হচ্ছে এটি ৮ বা ৯ পিন সংবলিত হবে সুতরাং পূর্বের ডক কানেক্টরের চাইতে আকৃতিতেও বেশ ছোট হবে । সম্প্রতি তথ্য পাওয়া গিয়েছে অ্যাপল ১৬ ও ১৯ পিনের ডক কানেক্টর নিয়ে কাজ করছে তাছাড়াও সম্প্রতি অ্যাপল কোম্পানির জন্য ডক কানেক্টর ডিজাইনারের জন্য জব পোস্ট করেছে তাই এই ধারণা আরও পোক্ত হয়েছে ।
৫)আরও দ্রুত গতির প্রসেসর:
স্যামসাং তার পরবর্তী প্রজন্মের ট্যাবলেটের জন্য ২ গিগা হার্জ ক্ষমতা সম্পন্ন ডুয়েল কোঁড় এক্সিনস প্রসেসর সংযোগের কথা ভাবছে । অ্যাপলও তার পরবর্তী আই ফোনের জন্য আরও দ্রুত গতির প্রসেসর খুঁজছে । ধারণা করা হচ্ছে অ্যাপলের এই নতুন প্রসেসর অনেকটা স্যামসাং এর ডুয়েল কোঁড় এক্সিনস প্রসেসরের মত হতে পারে ।
- Ishtiak Khan's blog
- Login or register to post comments












