আমার কম্পিউটার জীবনের নিরাপত্তা: ঘটনা-দুর্ঘটনা আর মুক্তি পাওয়ার উপায়গুলো

প্রতিযোগিতার জন্য হোক, আর যাই হোক ইন্টারনেট/কম্পিউটার সিকিউরিটি নিয়ে লিখতে গেলেই, অন্তত আমার মনে হয় বেশিরভাগেরই লেখার বিষয়ের অভাব হবে না। প্রিয় ডট কম’র অনেক অনেক প্রতিযোগিতার মাঝে এটির গুরুত্ব অনেক বেশি মনে হয়েছে। ব্লগের বিষয়বস্তুতে দেখে ভাল লেগেছে যেটা আর সত্যও যে অনেকেই এসকল ধারণা থেকে ন্যুনতম কিছু শিক্ষা হলেও গ্রহণ করে নিজের কম্পিউটার জীবনকে কোননা কোনভাবে নিরাপত্তা দিতে পারবেন।
ক্লাস সেভেন অর্থাৎ ২০০৫ সাল থেকেই কম্পিউটারের সাথে সম্পর্কের প্রারম্ভ আমার। এর আগেই অবশ্য কম্পিউটারটি ছিল বাসায়, কিন্তু আমাদের গ্রামের বাড়িতে বিদ্যুৎ তখনও আসেনি। (এখনও আসে নি অবশ্য!) পুরো পরিবারই মাসিরাহতে (ওমানের দ্বীপশহর) থাকতাম আমরা এর আগে। আম্মু একবার আসার সময় বিশাল প্যাকে করে ঐ কম্পিউটারটি প্রায় চার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আনেন। যাহোক, প্রথম ব্যবহারের সুযোগ নিজেকেই করে নিতে হয়েছিল যেহেতু বিদ্যুৎ ছিলনা ঘরে। স্কুলের সিলেবাসে মাহবুবুর রহমানের (নাম ভুলে গিয়েছি) একটা বই ছিল। পড়ে ভাল লাগতো তখন অনেক। স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে কম্পিউটার ছিল মোটে একটা। সেটা দেখেই ভাবলাম আমাদের কম্পিউটার যদি স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে নিয়ে আসি তো আমি তো স্কুল ছুটির পর আমার কম্পিউটারে গেম খেলতে পারব। রোড রাশ অনেক জনপ্রিয় খেলা ছিল, অনেকেরই মুখে শুনতাম চলার সময় বাইক থেকে লাথি মেরে মেরে ঐ খেলাটা খেলে। বাশার স্যার আমাদের স্কুলের কম্পিউটারটাতে প্রশ্ন টাইপ করতেন আর প্লে-নার্সারীর ছেলেদের টম এন্ড জেরি দেখাতেন। আরো একটা দুরভিসন্ধি ছিল, বিকেলে কাজ করতে করতে যদি পারি, স্যারের ওখান থেকে প্রশ্নও তো দেখতে পারবো। কি নাদান ছিলাম।
যাহোক, এনে মোটামুটি লাগালাম ঠিকঠাক মতো। নতুন সমস্যা এরপর, কম্পিউটার স্টার্ট হতে প্রায় ৫-৭ মিনিট লাগতো। যাহোক, ঐ নাদানি... ঐ থেমে থেমে চলা কম্পিউটার মস্তিষ্কে যে বীজ ঢুকিয়েছিল তা আজ অবধি চলছেই। কম্পিউটার বিজ্ঞানকেই নিজের পাঠ্যবস্তুতে রূপান্তর করে ফেলেছি। যাহোক, এতক্ষণ কেবল আমার কম্পিউটার জীবনের শুরুটাই লিখলাম। তখন রোড রাশ কিংবা টুকটাক টাইপিং করেই কাটিয়েছি। সিরিয়াস কম্পিউটিং আর ইন্টারনেট ব্যবহারের শুরু এসএসসির পরে।
২০০৯ সালে পরীক্ষা দিয়েই মফস্বল থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসি। এবারও কম্পিউটার... বাবাকে রাজি করিয়ে ইন্টেল সেলেরন প্রসেসরের এলসিডি মনিটর মোটামুটি মানের কম্পিউটার কেনা। বাসার কাছাকাছি অবস্থিত একটা সাইবার ক্যাফে কাম ট্রেনিং সেন্টারে হার্ডওয়্যারের বেসিক ট্রেনিং নিতে লাগলাম। তখনো চট্টগ্রাম শহরেরই ঐ প্রান্তে ইন্টারনেট অর্থাৎ যায়নি। ভরসা ছিল কেবল গ্রামীণফোন। তাই নিয়মিত ক্যাফেতে যাওয়া-আসা চলতোই। প্রথম সিরিয়াস ভাইরাসের সাথে পরিচিত হই ওখান থেকেই। আর আমার কাজ ছিল নতুন হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানা- যেহেতু ক্লাসে তখন শিখতাম র্যাতম কি, হার্ডডিস্ক কি ইত্যাদি... প্রোডাক্ট পাতাগুলো এইচটিএমএলে করে বাসায় নিয়ে এসে রাতে বসে বসে পড়তাম। বলা হয়নি, ডিফল্ট এন্টিভাইরাস হিসেবে তখন আমি পেয়েছিলাম ম্যাকাফি (৩০ দিনের জন্য ফ্রি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছিল) আর ক্যাফে থেকে বাসায় ফাইল আনার কাজে ব্যবহার করতাম আমার ১৬ গিগাবাইটের পেনড্রাইভ। অনেক বাহাদুরি করেই দেখিয়ে দেখিয়ে ব্যবহার করতাম, কারণ বাবা ওটা পাঠিয়েছিল আর তখন সবাই পেনড্রাইভ বলতে ২-৪ গিগাবাইটের গুলোই বুঝতো। আমার কম্পিউটার বিপর্যয় যতদূর মনে পড়ে প্রথমবার অন্তত ওটার দ্বারাই সংগঠিত হয়।
ফাইল আনতে লাগলাম এভাবে, কিছুদিন পর আইডিএম দিয়ে ডাউনলোড করা হার্ডওয়্যার রিপেয়ারিং টিউটোরিয়াল আর গানও ডাউনলোড করে আনতে লাগলাম। এভাবে গান-মুভি-সফটওয়্যার (পরে জেনেছি পাইরেটেড সফটওয়্যারের) বিশাল কালেকশন গড়ে তুললাম কম্পিউটারে। মাস দুয়েকের মধ্যেই প্রথম সমস্যার সম্মুখীন হলাম।
হার্ডডিস্কে সংরক্ষিত গানগুলোর ফোল্ডারে গানগুলোর ফাইল এক্সটেনশন আচমকাই বদলে যেতে শুরু করল। .mp3 থেকে সরাসরি .exe। .exe যে এক্সেকিউটেবল ফাইল এক্সটেনশন গুলোর একটা সেটা ততদিনে পুরোপুরি বুঝিনি, তবুও প্রথম প্রথক বার কয়েক ক্লিক-টিক করে দেখলাম কাজ হয় না। যাহোক, ঐ ফাইল ডিলিট করে দিতাম। এভাবে বেশকিছু গান হারিয়ে গেল, মনে তেমন একটা দাগ কাটেনি যেহেতু গান ছিল। কিন্তু সফটওয়্যার ফোল্ডারে ঢুকে দেখি- ক্র্যাক/কীজেনারেটর/প্যাচগুলোর অনেকগুলোরই আইকন ফোল্ডারের মতই হয়ে গেছে এবং এক্সটেনশন .exe। তখনই আমার ট্রেইনারকে জানালে বললেন ভাইরাস। তাও দিন চলছিল সুখে- কিন্তু উইন্ডোজের মেইন ফাইলগুলোর কোন একটা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে বার বার এরর পেতে লাগলাম, একটা দুটো করে পরে কম্পিউটার অন করলেই ৭-৮ টা এরর মেসেজ পেতাম। ততদিনে শিখে গেছি কিভাবে উইন্ডোজ সেটাপ দিতে হয়। ব্যস, ৩০ টাকা দামের সিডি আর ২০-২৫ মিনিট সময়ে উইন্ডোজ দিয়ে তো সব এরর মেসেজ থেকে মুক্তি পেয়ে গেলাম। কিন্তু সকালে সেটাপ দিয়ে বিকেলে উৎসাহী মন নিয়ে অন্য ড্রাইভের ঐ ধরণের ফাইলগুলোর একটার উপর ক্লিক করলাম, আর আবারো সেই বিকেলে আগের রাতের মত এরর মেসেজ পেতে লাগলাম। এভাবে ৩ দিনের মধ্যে অন্তত ৫ বার সেটাপ দিতে হয়েছিল।
ক্যাফের ম্যানেজার ছিলেন বন্ধু মানুষ। উনার উপদেশে সফটওয়্যার গুলো সব ডিলিট দিয়ে অনেক অনেক গানের মধ্যে .exe সার্চ দিয়ে সব মুছে কোনরকমে কিছুদিন কাটাই। উনি জানালেন, ক্যাফের কম্পিউটারগুলোও এরকম। আমি তো পণ করে ফেলেছিলাম যে, আর কোনভাবেই ক্যাফেতে পেনড্রাইভ ঢুকাবো না। উনার উপদেশেই উনার ভাল কম্পিউটার থেকে এভাস্ট ৪ নিয়ে এসে কম্পিউটারে আবার ইনস্টল দিলাম। আবার দেখি কম্পিউটার রিস্টার্ট নিচ্ছে বারবার। আবারো ট্রেইনার ভাইয়ের দ্বারস্থ হলাম। জানালেন, দুই এন্টিভাইরাস ইনস্টল করে রেখেছি তাই। পরিত্রাণের উপায় তো আমার জানা ছিলই! কেন?? সেটাপ দিতে জানি তো!! আজও হাসি পায় সেদিনকার কথাগুলো মনে পড়লে।
কেবল আমিই নই, বেশিরভাগ কম্পিউটার ব্যবহারকারীই এই জাতীয় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন-হচ্ছেন এবং এটা পুরোপুরি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতেও হবেন। লেখার শেষের দিকে আমি কিভাবে এখন এগুলো থেকে বেঁচে- অনেক ভালভাবে বেঁচে আছি সেগুলো সম্পর্কে কিছু জ্ঞানমূলক বার্তা দিব পাঠকবৃন্দকে। জানলে তো ভালই, আর না জানলে অন্তত নিরাশ হবেন না।
এরপর আমি কলেজেও ভর্তি হয়ে যাই, আমার সেই হার্ডওয়্যার কোর্সও শেষ হয়ে যায়। আমি তো সার্টিফায়েড হার্ডওয়্যার টেকনিশিয়ান!!! কলেজে বন্ধু-বান্ধবদের এমন সমস্যায় প্রায়ই ডাক পড়তো। বেশিরভাগেরই এই .exe হয়ে যাওয়ার কারণেই সেটাপ দেওয়া। অনেকের তো এমনও আবদার থাকতো যে “দোস্ত, ঐগুলোর (১৮+ কন্টেন্ট) সব ফাইল .exe হয়ে গেছে। কোনভাবে এগুলো পুনরুদ্ধার করা সম্ভব না?”। আমি মাথা নাড়লে চরম অনিশ্চয়তায় তাদের বলতে আবার শুনতাম “আমার ... গিগার কালেকশন...”।
ফার্স্ট টার্মের পরেই মবিডাটার এজ মডেম কিনে গ্রামীণফোন সিম ব্যবহার করে ইন্টারনেটের স্বাদ ঘরেই পেতে লাগলাম। এন্টিভাইরাস হিসেবে তখনও ছিল এভাস্ট ৪। ৪ দশমিক কত কত ভার্সন জানি ছিল। ওটার আপডেট পাওয়া যেত সেই সাইবার ক্যাফের কম্পিউটারেই। ১০ টাকা করে ২৫-২৬ মেগাবাইটের ঐ আপডেট নিয়ে আসতাম। যেহেতু, ম্যানেজারের কম্পিউটার থেকে নিচ্ছি তাই নিশ্চিত থাকতাম যে ভাইরাস নেই। বাসায় মডেম যেহেতু, তাই এবার ঘাঁটাঘাঁটি তো বাসাতেই চলতো। গান ডাউনলোডের ভুত তখনও নামেনি ঘাড় থেকে। ইন্ডিয়ান ক্রিকেট দল আর ইন্ডিয়ার গানের বড় ফ্যান ছিলাম। songs.pk তে লেটেস্ট মুভির গান পাওয়া যেত। সাথে Free Download, Earn 1000$ Per Month, Click & be Surprised ইত্যাদি তে ক্লিক করে হাবিজাবি এপ্লিকেশন নামিয়ে ফেলতাম। কি কাজে আসতো বুঝতাম তো ছাইও না। পরে দেখি কম্পিউটার আগের চাইতে স্লো।
গুগলের সার্চ দিলাম, “How to make computer run faster…” মত কিছু লিখে। দেখা পেলাম CCleaner নামের ফ্রি একটা সফটওয়্যার আর তখন জানলাম যে temp ফোল্ডার বা ব্রাউজার ক্যাচ সম্পর্কে। ঐ ম্যালওয়্যার এপ্লিকেশন গুলো পরে কাজে না আসাতে ডিলিট করে দিয়েছি। তবে এর আগে একমাসে মাঝে মধ্যে ২-২.৫ গিগা ডাটা খরচ হয়ে যেত। কিভাবে হত জানতামও না। পরে দেখলাম যে, ঐ এপ্লিকেশনগুলো আমি মডেম কানেক্ট করলে সাথে সাথে ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড হয়ে যায়। ধীরে ধীরে মানুষের ভাঁওতাবাজি সম্পর্কে জানলাম। জানলাম যে, ওসব সাইটে গুগল এডসেন্স, ক্লিকসর, চিটিকা জাতীয় এড নেটওয়ার্ক থাকে আমরা ক্লিক করলে বা কিছু ক্লিক করে ডাউনলোড করলেই তারা টাকা ইনকাম করে। তা দেখে অবশ্য ইনকামের ভুত চাপেনি। কারণ বাবা, ইন্টারনেট কানেকশন দেওয়ার আগে বিবিধ বিষয়াবলীর উপরে স্বচ্ছ জ্ঞান প্রদান করেছিলেন, এর মধ্যে ১৮+ কন্টেন্ট, আয়ের চিন্তাভাবনা, হ্যাকিং-ম্যাকিং ইত্যাদি অন্যতম ছিল। তাই ভয়ে ওদিকে যেতে খুব কমই সাহস পেতাম। ২০১০ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে মোটামুটি বুঝে যেতে থাকি। তখন ইন্টারনেটে ফেসবুক ছাড়াও যে অনেক কিছু করার আছে জানতে থাকি। ইন্টারনেট থেকেই এইচটিএমল আর বেসিক সিএসএস এবং ওয়ার্ডপ্রেস-জুমলা-দ্রুপালসহ বিভিন্ন সিএমএস সম্পর্কে জেনে ঘাঁটাঘাঁটি করতাম। এসময় বাংলা ব্লগগুলোর সাথে পরিচিত হই, অনেককেই লিখতে দেখি। দেখে মনে হত, আরে এর তো অনেক বানান ভুল- আমি তো এর চাইতে ভাল লিখতে পারব। আর এই চিন্তাভাবনা করেই দু-একটা ব্লগে লিখে ফেলি। কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করি অর্জিত জ্ঞান দিয়ে... এন্টিভাইরাস তখনও এভাস্ট তবে আপডেট হয়ে এভাস্ট ৫। ততদিনে বাসায় ব্রডব্যান্ড কানেকশন এবং ক্রমান্বয়ে বাংলালায়ন/কিউবি চলে আসে তাই আর আপডেট নিতে আর ক্যাফে তে যেতে হত না।
এমনকি ফুল ভাইরাস স্ক্যানও করতে হয়নি, কারণ ভাইরাস ঢোকার পথ সম্পর্কে ততদিনে সচেতন হয়ে যত পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা আছে নিয়ে রাখতাম-আজও রাখি তাই সমস্যায় তেমন আর পড়তে হয়নি।
এতক্ষণ পর্যন্ত কম্পিউটারেরই সমস্যার কথা লিখেছি। অন্য সমস্যা তেমন একটা এমনকি পড়তেই হয়নি। কারণ ইন্টারনেটে হাতেখড়ি হতে হতে ততদিনে মোটামুটি সিকিউরিটি সম্পর্কে জানাশোনা কিছুটা হয়ে উঠেছিল।
একটা টপিক ছিল ব্যাংকিং/অনলাইন ব্যাংকিং নিয়ে। হ্যাঁ, ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহক এবং পরবর্তীতে ব্র্যাক ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকেও বিবিধ প্রয়োজনে একাউন্ট করেছি এর মধ্যে তিনটাতেই এটিএম সেবা এবং ডাচ-বাংলা আর ব্র্যাক ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক আমি। ডাচ-বাংলার ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এ ট্রান্সফার-বা ক্ষতিমূলক কিছু অবশ্য নেই, ব্র্যাকে ফান্ড ট্রান্সফার ব্যবহার করেছি। অন্তত এই মুহুর্ত পর্যন্ত তেমন কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি। কিউবি পোস্টপেইডের এবং রিচার্জের জন্য কিছুদিন ডিবিবিএল নেক্সাস কার্ড এবং পরে (এখন) ব্র্যাকের মাস্টার কার্ড ব্যবহার করেছি-করছি কোনরূপ ঝামেলা ছাড়াই।
ডেস্কটপের সাথে সাথে ল্যাপটপও কেনার সৌভাগ্য হয় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে ভর্তি হবার পর। ৫০০ গিগাবাইটের এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক থাকায় নিয়মিত সিস্টেম ড্রাইভের ব্যাকআপ নেওয়া হত যা গত কিছুদিন ধরে হয় না। আমার কম্পিউটার সিকিউরিটি নিয়ে এটুকুই বলতে পারি। এখনো এভাস্টের ফ্রি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করি। তবে ফ্রি বলা যায় না, ইন্টারনেট থেকে পাওয়া এক সিরিয়াল কী ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এটার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে। এখানেও পাইরেসি করছি... প্রায় হলফ করেই বলি যে, ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপ দুটোই পুরোপুরি ভাইরাসমুক্ত আর। ল্যাপটপে ডুয়েল বুট দেওয়া। সাথে পাওয়া অরিজিনাল উইন্ডোজের পাশাপাশি লিনাক্সও(উবুন্টু ১১.১০) ব্যবহার করছি। লিখতে লিখতে বুঝতে পারছি যে অনেকদূর চলে এসেছিল। কথামতো শেষে আমার পালন করা কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথা তালিকাবদ্ধ করে দিচ্ছি নিচে, যারা জানেন কিংবা বেশি জানেন তো ভালই, আর যারা জানেননা- তাদের কাজে আসবে অন্তত কিছুটা।
১. কম্পিউটারে এন্টিভাইরাস রাখার চেষ্টা করুন। কিনে ব্যবহার করলে তো ভাল আর না করলে ফ্রি-তে অন্তত এভাস্ট ব্যবহার করে দেখতে পারনে। ৮৫-১০০ মেগাবাইটের ঐ সফটওয়্যার ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে এবং নিয়মিত আপডেট করে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত (আমার মত!) বিপদ-ঝামেলা থেকে রক্ষা পাবেন।
২. ফেসবুক-ইমেইলের পাসওয়ার্ড প্রায় মানুষকে দেখা যায় নিজের নাম দিয়ে রাখতে। আর মোবাইল নাম্বার দিয়ে রাখাতো সকাল-বিকালের মতই কমন জিনিস। এই ধরণের অভ্যেস পরিহার করুন। নাম দিন যাই দিন। স্মল লেটার- ক্যাপিটাল লেটারের কম্বিনেশন আর নাম্বার যোগ করে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এমনও দেখা যায়, অনেকে সব কিছুতে একটাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। ঐ একটা পাসওয়ার্ডই যদি কারো হাতে লেগে যায় তো চিন্তা করে দেখুন বেচারার কি অবস্থা হতে পারে। কোন কারণে কারো সাথে শেয়ার করলেও নিয়মিত হালনাগাদ করুন। দেখবেন- পাসওয়ার্ড জনিত হ্যাকিং-ফ্যাকিং থেকে আপনি পুরোপুরিই মুক্ত।
৩. সাইবার ক্যাফেতে সতর্কতার সাথে পেনড্রাইভ ও অন্যান্য ডাটাসমৃদ্ধ ডিভাইস যেমন মেমোরি কার্ড, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করুন। নেট ব্রাউজিং এর পর অসতর্কতাবশতও Remember Me জাতীয় কিছুতে হ্যাঁ বলে দিয়েন না। আসার সময় আপনার ব্রাউজিং ডাটা পরিষ্কার করে দিয়ে আসুন। সব ব্রাউজারেই Setting > History তে গিয়ে আপনার ব্রাউজিং ডাটা মুছে আসতে পারবেন।
৪. লোভ সম্বরণ করতে চেষ্টা করুন। :-p উৎসুক হয়ে 10000$-20000$ ডলার পাওয়ার ইমেইল পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। টাকা কখনই বাতাসে উড়ে না। খবর নিয়ে দেখুন অনলাইনে যারা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আয় করেছেন- করছেন এবং ভবিষ্যতেও যারা করবেন তাদের প্রত্যেকেই স্ব-স্ব মেধা আর যোগ্যতার বলেই টাকা আয় করছেন। এমন কখনও হয় নি যে হুট করে একটা ইমেইল এসেছে আর একজন xxxxxxx $ আয় করে টিনের ঘর ভেঙ্গে ফেলে বিএসআরএম রড আর কনফিডেন্স সিমেন্ট কিনে ইট-বালু সহযোগে ৬ তলা বিল্ডিং করে ফেলেছেন। মাথা খাটিয়ে দেখুন- সহজেই বুঝতে পারবেন।
৫. ব্যক্তিগত জিনিস ব্যক্তিগতই রাখুন। প্রটেকশন নেওয়ার পদ্ধতির অভাব নেই। এমন কিছু মানুষের নাগালে রাখবেন না যা ছড়িয়ে পড়লে আপনার সম্মানহানি হবে। সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায় অমুকের পার্সোনাল এমএমএস- তমুকের ... ছবি ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে ইত্যাদি আপনার-আমার মত সাধারণেরও হতে পারে। তাই সাবধানে থাকুন। আরো একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখবেন, ইদানীং ফেসবুকের ফ্যান পেজ নামের তথাকথিত কিছু অসুস্থ মস্তিষ্কের চালানো পেজ থেকে দেখবেন মেয়ে-নারীদের ছবি শেয়ার হচ্ছে বিভিন্ন টাইটেল-সাবটাইটেল দিয়ে। এগুলো আপনার আমার ছবিও তো হতে পারে, তাই শেয়ার করতে গেলে ফেসবুক বা যেকোন মাধ্যমেরই Privacy অপশনগুলোর সঠিক ব্যবহার করুন।
৬. ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইনে কেনাকাটা, রিচার্জ-ট্র্যান্সফারে সতর্ক থাকুন। মাঝখানে একবার সংবাদ মাধ্যমে এসেছিল- সেলবাজারে চোরাই গাড়ি বিক্রয় হচ্ছে। হতেই পারে। সেলবাজারে আমিও অনেকের কাছে অনেক কিছু বিক্রি করেছি- কিনেছি। এটা সেলবাজারেরও দোষ নয়। যারা কিনছেন তারা যদি সঠিক তথ্য যাচাই করে কিনেন তাহলে এধরণের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।
৭. ইন্টারনেটে উৎপাদনশীল কাজ করুন। অনেক বাবা-মাদের এমনিতেই ধারণা থাকে যে ইন্টারনেট মানেই পর্ণোগ্রাফি... ইন্টারনেট মানেই হ্যাকিং- ভাইরাস ইত্যাদি... ইন্টারনেটে-কম্পিউটারে এসব ছাড়াও অনেক অনেক উৎপাদনশীল বিষয় আছে যা অনেক অনেকভাবেই আপনাকে সাহায্য করছে। ওগুলো ব্যবহার করুন। বাংলা ব্লগ এবং ব্লগাররা এবিষয়ে আপনাকে অনেক সহায়তা করবে। মুক্তচর্চা করার চেষ্টা করুন, পাইরেসি চুরিরই শামিল। যেখানে আপনার কাছে অপশন থাকবে, ফ্রিতে ব্যবহার করার সেখানে পাইরেসি করাটা বেমানান। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আমি-আমরা তারপরও করে যাচ্ছি। তাই যতদূর সম্ভব মুক্তসফটওয়্যার ব্যবহার এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করুন।
অবশেষে আপনার কম্পিউটার জীবন উৎপাদনশীল আর ঝামেলা-বিপদমুক্ত হোক এই কামনাই করি। ধৈর্য্য ধরে আমার এত লম্বা বয়ান পড়ার জন্যও ধন্যবাদ।
- musumon's blog
- Login or register to post comments














