সামাজিক মাধ্যমগুলো তরুণীদেরকে আক্রমণাত্মক করে তুলছে!

বিভিন্ন মিডিয়াতে বলা হচ্ছে, ইদানিং ফেসবুক ও টুইটার তরুণীদের কথা বলার ভঙ্গিমায় পরিবর্তন আনছে এবং তাদেরকে আরো বেশি আক্রমণাত্মক করে তুলছে। এই ওয়েবসাইটগুলো মারমুখী সংক্ষিপ্ত বাক্য ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে, যার ফলে কম বয়সী ছেলেমেয়রা কর্কশ ও সম্মানহানিকর আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘তরুণরা অতীতের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বেড়ে উঠায় দিন দিন তারা তাদের গুরুজনদের তুলনায় অনেক বেশি উদ্ধত আচরণ করছে। তারা ফেসবুক, ইমেইল এবং টুইটারের দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে বেড়ে উঠছে এর মানে এই যে, তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগকালীন সময়ে ব্যস্ততার দরুণ সঠিক শব্দ চয়নের সময় করে উঠতে পারছে না এটা সম্ভবত হচ্ছে এজন্য যে তারা ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। তবে এটা ইচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে এমন নয়। রুঢ়তা ক্রমশ সংক্ষিপ্ত, তীক্ষ্ম আর সুনির্দিষ্টতার আকার নিচ্ছে। কিন্তু এটি রুঢ় বা আক্রমণাত্মক এবং বিনয়ী হওয়ার মাঝে এক অতি সুক্ষ্ম বিভাজন।’
সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, চলমান এই ঘটনাটি মেয়েদের মধ্যে আরো বেশি সুস্পষ্ট এজন্য যে তারা ছেলেদের তুলনায় অধিক যোগাযোগ রেখে চলে। তারা মনে করেন কেউ যদি সর্বদা সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠাতে থাকে তাহলে তার কথোপকথন সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। বাইরের যে কারো কাছে মনে হতে পারে যে, অতীতে চিঠি লেখা যে উপভোগ্য ছিল তা সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠানোতে নেই।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও যোগাযোগের অধ্যাপক ডেবোরা ক্যামেরন বলেন, মেয়েরা ছিল ভাষা পরিশীলনের অগ্রভাগে, যেমন, কণ্ঠের ক্রমশ উর্ধবগতি - যখন কণ্ঠস্বর তার চূড়ান্ত পরিমার্জিত রুপ লাভ করে। ‘মানুষ বলে, এটা মেয়েদের মধ্যে প্রথম পরিলক্ষিত হয় কিন্তু পরে সবাই তা করে থাকে’।
তার মতে, ‘উদ্ভাবনী শক্তিতে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে…। বয়ঃসন্ধিকালীন সময়টা জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় যখন নানা ধরনের ভাষাগত প্রবর্তন ঘটে এবং এই পরিক্রমায় মেয়েরাই এগিয়ে। মানুষ প্রায়ই মেয়েদের ভাষা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে যা পরবর্তীতে অনেকের মাঝে বিস্তার লাভ করে।’
বিজ্ঞানীদের মতে, কঠিন কিছু করার প্রত্যয় বয়স্ক পুরুষদের চেয়ে বয়ঃসন্ধিপ্রাপ্ত এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝেই বেশি পরিলক্ষিত হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গবেষণা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যেখানে বলা হচ্ছে আধুনিক পপ সংগীত মেয়েদের কণ্ঠস্বর কেমন হবে তা প্রভাবিত করতে পারে। লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন যে, ভাষার একটি নির্দিষ্ট ভাব যাকে বলা হচ্ছে ‘ভোকাল ফ্রাই’ – একটি ক্যাঁচক্যাঁচে আওয়াজ যা পপ তারকা Ke$ha এবং ব্রিটনি স্পিয়ার্স তাদের নীচের নোটে যুক্ত করে থাকেন যাতে করে তাদের উচ্চারণ আরো পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয়।
তারা ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৩৪ জন নারীর কন্ঠ রেকর্ড করে প্রকাশ করেছে যে, তাদের এই রুক্ষ কন্ঠকে তারা রেওয়াজ বা যত্নের মাধ্যমে পরিশীলিত করতে সক্ষম হয়েছে।
২০০৫ এ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত গবেষণায় এটা প্রামণিত হয়েছে যে, Gwyneth Paltrow এবং Reese Witherspoon এর মত অভিনেত্রীরা ঝাঁঝালো কন্ঠে সমসাময়িক আমেরিকান চরিত্রে রূপদান করছিল যথাক্রমে Shallow Hal এবং Legally Blonde ছবিতে।
Ikuko Patricia Yuasa, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্বের অধ্যাপক, বার্কলে, নিউ ইয়র্ক টাইমস কে বলেছিল যে, মহিলারা তাদের কন্ঠকে আরো বেশি রাশভারি করার জন্য ‘vocal fry’ ব্যবহার করে থাকতে পারে। তবে, কিশোরী মেয়েরা যার প্রতি বেশ অনুরাগী তার প্রতি এটা অনাগ্রহও আনতে পারে।
গবেষণা থেকে মোটামুটি এটা বুঝা যাচ্ছে যে, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে। এবং তারা অনেক বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। আর তাদের ভাষা যদি পরিবর্তন হয়ে যায়, তখন সেটা সমাজের অন্যদের ভাষাকেও সেটা প্রভাবিত করে। আমাদের বাংলা ভাষাতেও অনেক পরিবর্তন আসছে। সেখানে মেয়েদের এই ভূমিকাটি ছিল কি না, সমাজ বিজ্ঞানীরা ভেবে দেখতে পারেন।
- Jahid Kabir's blog
- Login or register to post comments












