সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিপিপি মডেল

Rahat Haque's picture

সারা পৃথিবীতেই এখন সাইবার ক্রাইম নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে যে বিষয়টি আমি বলতে চাই, এটা কি শুধু সরকারের একার বিষয়? এখানে কি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ হতে পারে না? পিপিপি'র আওতায় যদি ব্রিজ হতে পারে, শিল্প কারখানা হতে পারে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে, তাহলে কম্পউটারের নিরাপত্তা কেন হতে পারবে না? সরকারের নিজের কী এতো ট‌েকনিক্যাল দক্ষতা রয়েছে যা দিয়ে আমাদেরকে নিরাপদ রাখতে পারেন?

অতি সম্প্রতি মালয়েশিয়া এই ধরনের একটি কাজ করেছে। তারা পিপিপি'র আওতায় সাইবার ক্রাইম ঠেকানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মালয়েশিয়ার সরকার মনে করে যে, প্রতি দিন মানুষ আরো বেশি ইন্টারেনেটের সাথে যুক্ত হচ্ছে; এবং শিশুরা এর মাধ্যমে খুবই ঝুকির মুখে পড়ছে। এই ঝুকিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিতে শুরু করেছে সেই দেশের সরকার।

মালয়েশিয়ার টেলিকম মন্ত্রী এই উপলক্ষ্যে বলেন যে, শিশুরা যত বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, তারা তত বেশি ঝুকির সম্মুখে পড়বে। এজন্য টেলিফোন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই হুমকি ঠেকাতে সহায়তা করতে পারে।

মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর মতো আমিও বলতে চাই, বাংলাদেশে এটা সম্ভব নয় কেন? বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে কিশোর এবং তরুনরা। বুড়োরা এখানে ইন্টারনেট তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহার করে। এবং স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীরাও প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে ঝুকে পড়ছে। কিন্তু তাদের জীবন কতটা নিরাপদ?

মালয়েশিয়ার মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো সেই দেশের সরকারকে সাহায্য করবে বলে কাজ শুরু করেছে। সেই দেশের তরুনী মেয়েরা বয়ষ্ক মানুষগুলো দ্বারা বিভিন্নভাবে অপদস্ত হচ্ছে। এটাকে ঠেকানোর জন্য তারা পিপিপি মডেলে সহযোগিতা শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা তেমন কোনও উদ্যোগ দেখতে পাই না। আমাদের দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যতটা পারছে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনও রকম নিয়মনীতি মানছে না। তারা বরং নানান ধরনের চটক বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ তরুন তরুনীদেরকে ভিন্ন পথে ধাবিত করছে। এখানে শুধু সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ভাবলে চলবে না। অনেক সময় জীবনও ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মেয়েদের খুব ব্যক্তিগত ছবি তুলে ইন্টারনেটে পোষ্ট করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধের জন্য কেন আমরা কোনও উদ্যোগ দেখি না?

সময় এসেছে এগুলো নিয়ে কথা বলার। নইলে সাগরের পানির মতো আমাদের তরুন সমাজ কোথায় ভেসে যাবে, আমরা সেটা বুঝতেই পারবো না। সরকারের উচিৎ, এখুনি প্রাইভেট কোম্পানীগুলোকে সাথে নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া।