বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের ঘটনাবহুল নির্বাচন

bn.adhikary's picture

গত ২ জুলাই ২০১২ তারিখে দেশের সফ্টওয়্যার এবং আইটি-এনাবেল্ড সার্ভিস-শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফ্টওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সংগঠনের সংঘবিধি এবং বাণিজ্য সংগঠন নীতিমালা অনুসারে প্রতি ২ বছর অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় এটি বেসিসের সপ্তম নির্বাচন।

বেসিসের এবারের নির্বাচনে সাধারণ সদস্য শ্রেণীতে ৮টি কার্যনির্বাহী সদস্যপদের জন্য ১৬ জন এবং সহযোগী সদস্য শ্রেণীতে ১টি কার্যনির্বাহী সদস্যপদের জন্য ৪ জন, অর্থাৎ সর্বমোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। নির্বাচনের পূর্বে ২৩ জুন নির্বাচন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রার্থী-পরিচতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দু’টি টিমভিত্তিক ১৮ জন, অর্থাৎ প্রতি টিমে ৯ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২ জনের পরিচিতি তুলে ধরা হয়।

প্রতিদ্বন্দ্বী টিম দু’টির নামাকরণে ছিল চমৎকারিত্ব- ‘ACTION TEAM’ এবং ‘TEAM 360’। অর্থবোধক স্লোগ্যানসহ দু’টি টিমই সুবিন্যাস্ত আলাদা-আলাদা মেনিফেস্টো উপস্থাপন করে। ‘ACTION TEAM’ এর নেতৃত্বেদান করেন এস কবীর আহমেদ। তার টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- শাফকাত হায়দার, শেখ এ শাহিদ, লে. ক. কাজী হাসান মুজাহীদ (অব.), মো. সাইদুল ইসলাম মজুমদার, ইমতিয়াজ আহমেদ খান, ইঞ্জি. মো. রফিকুল ইসলাম, কাজী জাহিদুল আলম এবং আরিফ আহমেদ চৌধুরী। অন্যদকে ‘TEAM 360’ এর নেতৃত্বদান করেন ফাহিম মাশরুর। তার টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- শামীম আহসান, সৈয়দ আলমাস কবীর, এম. রাশীদুল হাসান, রাসেল টি. আহমেদ, শাহ ইমরাউল কায়ীশ, নাভিদুল হক, রিয়াজ উদ্দিন মোশাররফ এবং উত্তম কুমার পাল।

‘Team that will deliver’ স্লোগ্যান সম্বলিত ‘ACTION TEAM’ এর বর্ণনায় বলা হয়-

“Bangladesh Association of Software and Information Services (BASIS) is the national association for Software & IT Enabled Services companies of Bangladesh. BASIS members elect a 9-member board of directors known as Executive Council (EC) for a two-year term by direct voting. The EC has the overall responsibility for running the affairs of BASIS and setting policy guidelines for its secretariat.

The TEAM is calibrated with the experience of the old(s) with speed and spirit of the young thus making our vision with the global go of the time and mission to be speedy and effective.

Let’s start a new journey with a grand vision to take BASIS to a new height in global IT market.”

অন্যদিকে ‘together we can’ স্লোগ্যান সম্বলিত ‘TEAM 360’র বর্ণনায় বলা হয়-

“360 degrees fulfill a whole circle; it gives completeness to a success – and we desire to achieve this success for BASIS community. We, TEAM360 members, coming with diversified expertise and entrepreneurial experiences, aspire to contribute towards that vision.

Our experience, youth, zeal and enthusiasm give us the confidence to serve the industry most efficiently. We believe, with the support from all members, we can bring success and growth to all segments of the industry. To attain this goal and to complete the circle - we need you; because, together with you, we shall take BASIS to a newer height both locally & globally.”

নির্বাচনে সাধারণ সদস্য শ্রেণীতে ৩১০ জনের মধ্যে ২৬৭ জন এবং সহযোগী সদস্য শ্রেণীতে ১০৪ জনের মধ্যে ৭১ জন ভোটার ভোট প্রদান করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ২ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা ঢাকার কাওরান বাজারস্থ বেসিস অডিটরিয়ামে ভোটগ্রহণ পর্ব চলে। নির্বাচন বোর্ড ভোটারদেরকে রমকারী সব মৌসুমী ফলফলারি, বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত নানা প্রকার সব্জি, স্বাস্থ্যসম্মত মিষ্টি, চা, কফি, কোমল পানীয় ইত্যাদি দিয়ে সারাদিন পর্যাপ্ত আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে।

ভোটগ্রহণ শেষে ঐ দিনই ভোট গণনা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায় ‘TEAM 360’ এর সকল প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ৪ জুলাই নির্বাচিত ৯ জন প্রার্থী নিজেরা মিলে পদবণ্টন করে নির্বাচন বোর্ডের নিকট দাখিল করেন। এতে ফাহিম মাশরুর সভাপতি, শামীম আহসান সিনিয়র সহ-সভাপতি, সৈয়দ আলমাস কবীর সহ-সভাপতি, রাসেল টি. আহমেদ মহাসচিব, এম. রাশীদুল হাসান যুগ্ম-মহাসচিব, উত্তম কুমার পাল কোষাধ্যক্ষ এবং রিয়াজ উদ্দিন মোশাররফ, শাহ ইমরাউল কায়ীশ ও নাভিদুল হক পরিচালকের পদে আগামী ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

নানা কারণে বেসিসের এবারের নির্বাচন ছিল ঘটনাবহুল। প্রথমত, প্রাথমিকভাবে ঘোষিত তপসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল ২৮ এপ্রিল ২০১২ তারিখে। কিন্তু একজন ভোটারের আপত্তির কারণে আইনগত সমস্যা এড়াতে বাণিজ্য সংগঠন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ২ মাসেরও অধিক সময় পিছিয়ে তা ২ জুলাই করার ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য নির্বাচন বোর্ডকে নতুন করে তপসিল ঘোষণা করতে হয়। মূলত নতুন তপসিল ঘোষণার পরই নির্বাচনী পালে দোদ্যুল হাওয়া বইতে শুরু করে। ‘TEAM 360’র পুরো টিম আগে থেকে নির্ধারিত থাকলেও ‘ACTION TEAM’ মূলত গঠিত হয় নতুন তপসিল ঘোষণার পর। দুই টিমেই দেখা যায় ধীমান সব প্রার্থীর সমাহার। ২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে নবীব-প্রবীণের সমন্বয় আর হাল আমলের সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে ২৫ বছরের অধিককাল ধরে আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা এবং সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতায় ভরপুর। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা, বিশেষত দলগতভাবে ‘ACTION TEAM’ এবং ‘TEAM 360’ দ্বারে-দ্বারে ভোটারদের স্মরণাপন্ন হন। সফ্টওয়্যার শিল্প বলে কথা! ইন্টারনেট এবং মোবাইলফোনভিত্তিক প্রচারণা না হলে কী চলে? তাই তাতে কমতি ছিল না কোন পক্ষেরই। ফেসবুক, ব্লগ, ই-মেইল, এসএমএস, সরাসরি ফোন কল, সাদাকালো মুদ্রিত প্রচারপত্র ইত্যাদিতে প্রচারণা ছিল তুঙ্গে, কখনোবা দলগত, কখনোবা ব্যক্তিগত। এসব প্রযুক্তি-মাধ্যমে প্রার্থীদের হরেক রকম প্রতিশ্রুতিসম্বলিত তথ্য পেতে-পেতে ভোটারদের অনেকটা নাভিশ্বাস। ভোটার ও প্রার্থীরা কেউ কেউ নির্বাচন বোর্ডের নিকট অভিযোগ উত্থাপন করলে সেসব সামলাতে বোর্ডের সদস্যদেরও অনেকটা ত্রাহিমধুসূদন অবস্থা। তবে সব পক্ষ সব সময়ই সহনীয় অবস্থানেই ছিলেন। যেটুকু ছিল তাকে বড়জোর সাময়িক উত্তেজনা বলা চলে। আর নির্বাচনে কিছুটা উত্তেজনা না হলে তা কি জমে?

স্বদেশ রঞ্জন সাহা, আতিক-ই-রাব্বানী এবং বীরেন্দ্র এন. অধিকারী সমন্বয়ে গঠিত ৩-সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন বোর্ডের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে বেসিসের এবারের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। আর ৩-সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন আপীল বোর্ডে ছিলেন এ, তৌহিদ, কামরুল ইসলাম এবং সবুর খান।

নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

একই রকম আরো কিছু পোস্ট