বিজ্ঞান বনাম বিজ্ঞান কল্পকাহিনী: দেব রথ

eye-man's picture

২০ জুলাই, ১৯৬৯।
নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং এবং এডউইন আলড্রিন প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদে পা রাখলেন, একদম এলিয়েনদের মত অন্য গ্রহ থেকে আসা। এতো দিন এটা সায়েন্স ফিকশানের একটা বিষয় ছিল। কিন্তু এখন মনে হয় এতো দিন যা কল্পনা করা হয়েছিল তা সবই সম্ভব। মানুষ যদি মহাকাশ ভ্রমন করতে পারে তাহলে ভিন গ্রহের প্রাণীর পক্ষেও তা সম্ভব। প্রশ্ন জাগতেই পারে, কোনও গ্রহে কি উচ্চ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন প্রাণী আছে ? বর্তমানে বেশ কিছু ইউ এফ ও বা আন আইডেনটিফাইড ফ্লাইং অবজেকট দেখা যাবার সংখ্যা এবং আরও কিছু বিস্ময়কর তথ্য থেকে গড়ে উঠছে নতুন থিওরি। পাঠকের জন্য যেনে রাখা ভাল যে এটা শুধুমাত্র একটা থিওরি, প্রতিষ্ঠিত সত্য নয় ।

অনেক আগে থেকেই এলিয়েনরা পৃথিবী ভ্রমন করেছে, এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের দেবতা মনে করেছে । এটা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে কি কোনো প্রমান থাকবে না? হতে পারে প্রমান ছিল, হতে পারে প্রমান এখনও আছে, একটু চোখ কান খোলা রাখলেই দেখা যায়।

দুই হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ২০০৮ সালের মে মাসে ভ্যাটিকান থেকে একটি বিস্ময়কর ঘোষণা দেওয়া হল, ক্যাথলিক চার্চ স্বীকার করে যে মহাকাশে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব। এতো বছরের ধার্মিক বিশ্বাস ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কি কাজ করেছে আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার?

01.jpg

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার দল প্রশান্ত মহাসাগরের দুর্গম এক দ্বীপে এয়ার বেস তৈরি করে। দ্বীপে বসবাসরত আদিবাসীরা প্লেনের ওঠা-নামা দেখে মনে করত দেবতারা আসা যাওয়া করছে। সেই তথাকথিত দেবতারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক সাহায্য করত, তাদের দিয়ে কাজও করাত, আর বিনিময়ে তাদের স্বর্গের খাবার দিত, যা আমাদের টিনজাত খাদ্য। যুদ্ধ শেষে যোদ্ধারা ফিরে গেল, ফেলে গেল পরিত্তাক্ত বিমান বন্দর। দেবতারা চলে যাবার পর আদিবাসীরা বিমানবন্দরে কাঠের বিমান বানিয়ে প্রার্থনা করা শুরু করল যাতে দেবতারা আবার ফিরে আসে। এমন কিছু কি হয়েছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের সাথে? এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের চোখের সামনেই আছে, এমন কি সবচেয়ে বিস্ময়কর জায়গাতেই আছে তা হল প্রাচীন পাণ্ডুলিপি যার অধিকাংশই কোনও না কোনও ধর্মগ্রন্থ। প্রথমেই আসতে পারে বাইবেল এর নাম। অধিকাংশ খ্রিস্টানরা যাকে “ওল্ড টেস্টামেন্ট” বলে সেখানে এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ আছে, বিশেষ করে “দি বুক অফ এজেকিএল” অধ্যায়ে। সেখানে বিশদ বিবরন আছে যখন দেবতা দেবদূতদের সাথে পৃথিবীতে এসে নামত তখন কিরকম বিকট শব্দ হত, আগুন দেখা যেত, চারপাশে ধুলো ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকাত। শুধু বর্ণনাই নয়, দেবতা যে রথে করে এসেছিলেন সে রথের বিশদ বর্ণনা এবং বিভিন্ন অংশের মাপ পর্যন্ত দেওয়া আছে, সে রথ রাখার জন্য যে ছাদবিহিন ঘর বানান হয়েছিল তারও বিবরন ও মাপ বর্ণনা করা আছে এ অধ্যায়ে। তিন হাজার বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারনা না থাকাতে তা হয়ে গেল অতিপ্রাকৃত?

02.jpg

জসেফ ব্লুমরিচ ছিলেন নাসার সিনিয়র চীফ ইঞ্জিনিয়ার, তিনি মঙ্গল গ্রহে অভিযানের সাথে যুক্ত ছিলেন ও ম্যারিনার-এর ল্যান্ডিং গিয়ার ও যানের নকশার তত্ত্বাবধানের দায়ীত্বে ছিলেন, এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ম্যারিনার স্পেসশিপ এবং এর ল্যান্ডিং গিয়ারের নকশার ধারনা তিনি বাইবেলের “বুক অফ এজেকিএল” থেকে পেয়েছেন।

শুধুমাত্র বাইবেলেই নয়, যে কোন সনাতন ধরমগ্রন্থেই দেবতাদের দেখা যায় অতিপ্রাকৃত শক্তি ও ক্ষমতার অধিকারি, যারা আকাশ থেকে নেমে এসে মানব জীবনকে প্রভাবিত করেছে। ভারতবর্ষের মহাকাব্যগুলোর মাঝেও অসংখ্য রথের বিবরন আছে, সেই রথ কে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় বিমানা বা বাংলায় বিমান। বিমানের বিবরন পাঁচ হাজার বছরের পুরনো ধর্মগ্রন্থে, অবিশ্বাস্য!

03.jpg

দেবতা শালভার বিমানের বর্ণনায় আছে সেটা ধাতুর তৈরি এবং শালভা নিজেই সেটা চালাতেন। আর সেই বিমানের নাম ছিল শোভা। তার বিমানের ওড়ার ভঙ্গি ছিল অনেকটা প্রজাপতির মত। এই বিমানে চড়েই সে কৃষ্ণর সাথে যুদ্ধ করে, ও পরাজিত হয়।

04.jpg

মহাভারত, রিকবেদ, রামায়নেও অনেক ধরনের বিমানের বর্ণনা আছে, এগুলর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০০ ফিট প্রস্থ এবং আধুনিক বিমানের মত ক্ষমতা সম্পন্ন বিমান এবং একটি যুদ্ধ বিমান যা কিনা এক ধরনের আলকরশ্নি উৎপন্ন করত। কোন কিছুর দিকে তাক করে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটালে তা ধ্বংস হয়ে যেত। আরও বর্ণনা আছে আকাশ যুদ্ধের এবং ক্ষেপণাস্ত্রের। “বিমানিকা শাস্ত্র” নামের পাণ্ডুলিপিতে বিবরন আছে যে, বিমানগুলো জেট ইঞ্জিন দিয়ে চলত, ধাতুর ব্যবহার, বিদ্যুৎ এর ব্যবহার, চালকের কেমন পোশাক পড়তে হবে তার বর্ণনা, এমন কি বিমান পরিচালনার নির্দেশাবলী (flight manual) ও বিমানে কি রকম অস্ত্র রাখা হত তার বর্ণনা পর্যন্ত আছে। মজার বিষয় হচ্ছে এ সব কিছুই আধুনিক হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

05.jpg

মেক্সিকোর পলেঙ্কেই –তে মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ –এ পাওয়া যায় ৭টন পাথরের ওঁপর খোদাই করা মায়া সভ্যতার ৭০০ শতকের এক রাজার চিত্রকর্ম, যাতে রাজাকে একটা স্পেসশিপের ভেতরে দেখা যায় যা কিনা বর্তমান রকেট সাদৃশ্য। বোঝার শুবিধার জন্য মানুষটাকে লাল আর নিয়ন্ত্রনের যন্ত্র সবুজ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে।

06.jpg
কলম্বিয়ার প্রাচীন সমাধিস্থলে প্রাপ্ত হস্ত নির্মিত বস্তু যা কিনা আধুনিক জেট প্লেন সাদৃশ্য। অথচ এরকম অ্যারোডাইনামিক আকৃতি এবং জেট ইঞ্জিন আবিষ্কার হয়েছে মাত্র ৮২ বছর আগে।

07.jpg
গুয়েতেমালা থেকে প্রাপ্ত ১৫০০ বছর পুরনো মূর্তি। যা কিনা আধুনিক নভোচারী সাদৃশ্য। সে একটা হেলমেট পড়ে আছে, মুখের কাছে মাউথপিসের মত কিছু আছে।

08.jpg
ইস্তাম্বুল জাদুঘরে সংরক্ষিত প্রাচীন নিদর্শন। এখানে স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, রকেটের মধ্যে স্পেসস্যুট পরা নভোচারী হাত পা গুজে বসে আছে। (লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত- মাথা, হাত ওঁ পা)।

আগামী পর্বে থাকবে এজেকিএল-এর দেখা রথের বিবরন, রথ যে ছাদবিহীন মন্দিরে রাখা হয়েছিল তার বিবরন ও রাজা সোলাইমানের উড়ন্ত কার্পেট।

Tags: