'গড পার্টিকেল’ আবিস্কারের দ্বারপ্রান্তে ইউরোপ!

(প্রিয় টেক) মহাবিশ্বের মৌলিক গঠন কি? এই প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের মাথায় অনেকদিন ধরেই ঘোরাফেরা করছিল। মৌলিক গঠন তন্ত্রের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছে 'গড পার্টিকল'। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে চলছে নানা গবেষণা। সম্প্রতি এই পার্টিকেলটি আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে বেশ কিছু বিজ্ঞানী। নিশ্চয় প্রশ্ন জাগছে কেন এত হন্যে হয়ে পার্টিকেলটি খুঁজছে বিজ্ঞানীরা?
বিজ্ঞানীদের আশা এই গড পার্টিকেলের হদিস যদি তারা পান তাহলে বিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হল সেই রহস্য জানতে পারবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত তারা একে খুঁজে পাননি।

একটি বস্তুর কেন বিস্তৃতি বা ব্যাপকতা রয়েছে সেটা বুঝতে হলে দেখতে হবে হিগস বোসন। হিগস বোসন একটি কাল্পনিক মৌলিক কণা। পদার্থবিদদের দুটি দল বর্তমানে বন্ধ অবস্থায় রয়েছে এমন একটি মার্কিন বেগবর্ধক তত্বের ফলাফলের উপর নির্ভর করে যে ফলাফল পেয়েছে তা গত বছর ইউরোপের গবেষকেরা আরো শক্তিশালী হার্ডন কলাইডার (পৃথিবীর বৃহত্তম কণা ত্বরক) ব্যবহার করে পেয়েছিলেন। যদিও এই দুই ধরণের ত্বরক ব্যবহার করেও বিজ্ঞানীরা অধরা অতিপারমাণবিক কণাটি পান নি। কিন্তু, যদি সত্যিই থেকে থাকে তাহলে কোথায় পাওয়া যেতে পারে সেই এলাকাটির ব্যাপকতা কমিয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া কণাটি কোথায় নেই এখন সেটা তারা জানেন।
শিকাগোর ফার্মি ন্যাশনাল ল্যাবে ট্রেভাট্রোন কলাইডরের সাহায্যে যে ফলাফল বিজ্ঞানীরা পান তা জেনেভাতে অবস্থিত ইউরোপের অনু রিসার্চ সংস্থা কর্তৃক প্রাপ্ত ফলাফলের সাথে মিলে যায় বলে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বুধবারে ইতালিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৮০০ এর অধিক বিজ্ঞানীদ্বারা সংঘটিত এই গবেষণার ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ফার্মির পদার্থবিদ রব রজার বলেন, "বিশ্বব্যাপী পৃথিবীর একটি সুসংগত ছবি ফুটে উঠেছে, তাই হিগস বোসন কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারবে না। আমরা আশা করছি ২০১২’র শেষ নাগাদ এই রহস্য উন্মোচিত করতে পারব।"
ফার্মিতে দু’দল এবং ইউরোপে সিইআরএন-এ আরও দুটি দল আলাদা ভাবে পরীক্ষা চালাচ্ছে।

ফার্মি তাদের পরীক্ষায় প্রোটন এবং অ্যান্টি প্রোটনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটিয়েছে আর সিইআরএন প্রোটনগুলোকে একে অপরের সাথে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলেছে। পরীক্ষা পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হলেও তাদের সকলের পরীক্ষাতেই একটি নির্দিষ্ট ফলাফলই পাওয়া যাচ্ছে। তবে ফার্মির চেয়ে সিইআরএন –এর ফলাফল বেশী নির্ভুল।
রজার বলেন, "পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এর ফলাফল প্রমাণ হিসেবে ঘোষণা দেয়ার পর্যায়ে পৌঁছে নি।"
তিনি আরও বলেন, সেপ্টেম্বরে যেহেতু বন্ধ হয়ে যাবে ফার্মির টেভাট্রন ফলে ধারণা করা হচ্ছে এ বিষয়ে সর্বশেষ আবিস্কার ইউরোপেই হবে।
চল্লিশ বছর আগে যে হাইপথিসিস দাড় করানো হয়েছিল, তার ফল কি হয় জানতে উদগ্রীব সবাই। মহাবিশ্বের চমকপ্রদ এই সংবাদের জন্য তাই আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে সকল বিজ্ঞানীসহ পুরো বিশ্ববাসী। দেখা যাক, সৃষ্টি রহস্য কোথায় গিয়ে শেষ হয়!
- fatema promy's blog
- Login or register to post comments












